রবিবার, ২২ নভেম্বর, ২০২০

কে বহিরাগত? দিলীপ ঘোষ ক্ষমা না চাইলে মানহানির মামলা: ইমরান

 


পুবের কলম প্রতিবেদকঃ বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ এবং তাঁর দল ইদানীং মহাবিপদে পড়েছেন। তারা বাংলা দখল করতে চান। কিন্তু বাংলায় নেতানেত্রীর কোনও হদিশ পাওয়া যাচ্ছে না! দিলীপ ঘোষ বিজেপির নেতৃত্ব দেবেন এমন ভরসা দিলীপের যেমন নেই, তেমনি নেই বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের। তাই পশ্চিমবাংলাকে ৫টি ভাগে ভাগ করে নেতা আমদানি করা হচ্ছে ভিন্ন ভিন্ন প্রদেশ থেকে। 

বিষয়টি নিয়ে তৃণমূলের নেতৃত্ব সরব হয়েছে। বাংলার মানুষও ভালো চোখে দেখছে না যে, দিল্লি থেকে ভিনভাষীরা বাংলায় এসে রোয়াব জমাবে। বেচারা রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বিষয়টি নিয়ে চরম অস্বস্তিতে। 

শনিবার তিনি সাংবাদিক সম্মেলন করে বিজেপির ‘বহিরাগত’ আমদানির স্বপক্ষে শূন্যগর্ভ যুক্তি খাঁড়া করতে চেয়েছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, শুধু আমাদের কেন? তৃণমূলেও বহিরাগত আছে।’ শেষমেশ অবশ্য তিনি খুঁজে পেয়েছেন ২টি নাম। সাংসদ কে ডি সিং এবং আহমদ হাসান ইমরান। তিনি বলেন, কে ডি সিং হচ্ছেন অসমের বাসিন্দা। অবশ্য কেডি সিং অসমের বাসিন্দা নন। তাঁর জন্ম পঞ্জাবে। আর ‘ইমরান হাসান’কে (তাঁর নাম অবশ্য আহমদ হাসান ইমরান) একেবারে বাংলাদেশের বাসিন্দা করে ছেড়েছেন! অসম হয়ে নাকি তাঁর বাংলায় আগমন। 

এ বিষয়ে আহমদ হাসানকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘দিলীপবাবুর মুখ খুললেই মিথ্যা ও নোংরা কথার স্ত্রোত প্রবাহিত হয়। কিন্তু এবার হয়তো তিনি একটু ভুল করেছেন। তিনি যদি প্রমাণ করতে পারেন যে আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি, তাহলে তো ‘বাংলাদেশি’ হিসাবে আমি কারাগারে যাব। আর যদি তিনি প্রমাণ করতে না পারেন, তবে তাঁর নিঃশর্ত ক্ষমা ভিক্ষা করা উচিত। আর তা না হলে আমি দিলীপ ঘোষের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করব বলে ইতিমধ্যেই গণমাধ্যমকে জানিয়েছি।’ 

 প্রাক্তন সাংসদ আহমদ হাসান ইমরান এক প্রেস বিবৃতিতে জানিয়েছেন, বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ শনিবার (২১ নভেম্বর, ২০২০) এক সাংবাদিক সম্মেলনে আমার নাম উল্লেখ করে সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা বলেছেন। দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘হাসান ইমরান’ বা ইমরান হাসান বাংলাদেশ থেকে অসম হয়ে এ রাজ্যে এসেছিলেন। তিনি বাংলার লোক হয়ে গেলেন? তিনি এখানকার সমর্থনে সাংসদ হয়েছিলেন। তিনি সিমির প্রতিষ্ঠাতা।’

 বিজেপির রাজ্য সভাপতির এই মন্তব্যের উত্তরে জনাব ইমরান প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলেছেন, আমার সম্পর্কে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের এই মিথ্যা, কল্পিত ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কুৎসা প্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। ‘আমি কোনও মতেই বহিরাগত নই’। আমার জন্ম ১৯৫৩ সালে জলপাইগুড়ি জেলার মাল থানার অর্ন্তগত মালনদী চা-বাগানে। আমি মালনদী চা-বাগানের প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ১৯৬৩ সালে প্রাইমারি পরীক্ষায় পাশ করি। তারপর ১৯৭২ সালে আমি বানারহাট স্কুল থেকে ওয়েস্টবেঙ্গল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন বা তৎকালীন উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করি। এই দুই সার্টিফিকেটও আমার কাছে রয়েছে। সেই সময় ‘বার্থ সার্টিফিকেট’ প্রদানের কোনও প্রচলন ছিল না। 

 ইমরান সাহেব প্রেস বিবৃতিতে আরও বলেন, ‘দিলীপ ঘোষ বিজেপির রাজ্য সভাপতি হয়েও সম্পূর্ণ মিথ্যাচার করে চলেছেন’। আমি কখনওই অসমের কোথাও ছিলাম না। বাংলাদেশেও নয়। আমার পিতা যে ১৯৩৭ সাল থেকে জলপাইগুড়ির রহিমিয়া চা-বাগানে চাকরি করতেন, তারও লিখিত প্রমাণ আমার কাছে রয়েছে। 

একইসঙ্গে তিনি সিমি প্রসঙ্গে জানান, আমি যখন ছাত্র সংগঠন ‘সিমি’র সদস্য ছিলাম, সে সময় সিমি কোনও নিষিদ্ধ সংগঠন ছিল না। তারা কোনও বেআইনি কাজও সে-সময় করত না। আমি ১৯৮৩ সালের প্রথম দিকে সিমির সদস্যপদ ত্যাগ করি। সিমি নিষিদ্ধ হয় তার বহু বছর পর, ২০০১ সালে।  

আহমদ হাসান ইমরানের দাবি, ‘একজন ভারতীয় নাগরিককে বিদেশি বা বহিরাগত আখ্যায়িত করে শ্রীদিলীপ ঘোষ আমার সংবিধান প্রদত্ত নাগরিক অধিকার খর্ব করেছেন। তাঁর বক্তব্যে আমার সম্মানহানিও ঘটেছে’।  

‘বাঙালি হিন্দু এবং বাঙালি সংখ্যালঘুদের ‘অনুপ্রবেশকারী’ বা ‘বাংলাদেশি’ বানানোর যে পরিকল্পনা শ্রীদিলীপ ঘোষের দল বিজেপির রয়েছে, আমি মনে করি আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচার তারই অংশ বিশেষ। 

ইমরান আরও বলেন, রাজ্য বিজেপির সভাপতি শ্রীদিলীপ ঘোষকে বলব তাঁর কাছে যদি আমার ‘বহিরাগত’ বা ‘বিদেশি’ হওয়ার কোনও প্রমাণ থাকে, তবে তা তিনি জনসমক্ষে প্রকাশ করুন। আর তা না হলে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দিলীপ ঘোষ সংবাদমাধ্যমে তাঁর ভুল স্বীকার করে দুঃখপ্রকাশ করুন। অন্যথায় তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 আসলে পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বিজেপি যে বহিরাগত সেনাপতিদের বাংলায় আমদানি করছেন, তাতে বাংলার মানুষের কাছে বিজেপির সমর্থন ও মর্যাদা যে ব্যাপকভাবে হ্রাস পাচ্ছে তা দিলীপ ঘোষ ও অন্যান্যরা বিলক্ষণ বুঝতে পেরেছেন। আর তাই তাঁরা কীভাবে এই অভিযোগের মোবাকিলা করবেন, তা ভেবে না পেয়ে নানা ধরনের অসার যুক্তি সাজানোর চেষ্টা করছেন। চরিত্র হননেও তাঁরা নেমে পড়েছেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only