সোমবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২০

সংবিধান ধ্বংসকারীদের এক ইঞ্চিও মাটি ছাড়া হবে নাঃ পার্থ

 


পুবের কলম প্রতিবেদকঃ সংবিধান ধ্বংসকারীদের এক ইঞ্চিও মাটি ছাড়া হবে না। রবিবার বেহালায় দলীয় কর্মী সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের মহাসচিব তথা শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। এ দিন বেহালার চৌরাস্তা,নতুনপাড়ার কল্যাণ সংঘের মাঠে ১২৫,১২৬,১২৭ এবং ১২৮ নম্বর ওয়ার্ডের বুথ কর্মীদের নিয়ে বেহালা পশ্চিম তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এ দিনের কর্মশালায় সম্প্রতি কয়েকটি ঘটনা উল্লেখ করে পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, আগে গণতন্ত্রকে রক্ষা করার লড়াই জারি ছিল।এখন সংবিধানকে বাঁচানোর লড়াই। সংবিধান ধ্বংসকারীদের বিরুদ্ধে তৃণমূলের লড়াই জারি থাকবে। 

 এ দিনের কর্মশালা শেষে তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকে কটাক্ষ করেন। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে দিলীপ ঘোষ মন্তব্য করেছিলেন, জঙ্গলমহলে পড়ে থাকলে লাভ হবে না। এই মন্তব্যের জবাবে পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, দিলীপ ঘোষের মাথা খারাপ হয়েছে, ভারসাম্য হারিয়েছেন তিনি। জঙ্গলমহল মমতার ছিল, আছে ও থাকবে। বিজেপি মানুষের কথা শুনছে না। 

 পার্থ চট্টোপাধ্যায় আরও বলেন, বিজেপির কথায় কাজ হবে না।  বাংলার মানুষ তৃণমূলের সঙ্গেই আছে। তৃণমূল নেত্রীর কথা মানুষ শুনতে চায়। 

 রবিবার সকালেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ‘মন কী বাত’-এ কৃষকদের কথা শুনিয়েছেন। এই প্রসঙ্গে তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য, কেন্দ্র সরকারের ‘কৃষি বিল’ কৃষকদের উপকারে লাগছে না। কৃষকরাই আন্দোলন করছে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে। যেখানে কৃষকদের রক্ষা করা কর্তব্য কেন্দ্রীয় সরকারের, সেখানে কৃষক সম্প্রদায়ের স্বার্থহানি করা হচ্ছে। অন্যদিকে, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই কৃষকদের স্বার্থ রক্ষার দায়িত্ব পালন করছে। পাশাপাশি তাঁর অভিযোগ, বিজেপি সরকার রাষ্ট্রয়ত্ত শিল্প বেচে দিচ্ছে। রেল,এলআইসি, বিএসএনএল-এর মতো যে সংস্থাগুলি দেশের সম্পদ, সেগুলি বিক্রি করছে। বিজেপির কাজকর্ম সম্পর্কে বলতে গিয়ে এ দিন কটাক্ষের সুরে পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘বিজেপির কাজ হল এনকাউন্টার করে লোক মারো, অশান্তি তৈরি করো। জনতার কল্যাণময় কাজেও তারা নেই।’ 

শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য, ‘আমাদের সরকার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে চলছে। মু্যূমন্ত্রীর যুগান্তকারী প্রকল্পগুলির মাধ্যমে বাংলার সমস্ত পরিবারই কম-বেশি সহায়তা পেয়েছেন। এই অতিমারির মধ্যেও মু্যূমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১০ কোটি মানুষের জন্য স্বাস্থ্যস্বাথী প্রকল্প ঘোষণা করেছেন। কয়েকদিনের মধ্যে তপশিলি জাতি উপজাতিদের জন্য ক্যাম্প করার কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। 

 এ দিন তৃণমূলের মহাসচিব দলীয় কর্মীদের পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে আরও সম্পর্ক বাড়ানোর উপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন ওয়ার্ডে কণ্যাশ্রী,যুবশ্রী, স্বাস্থ্যসাথী প্রভৃতি প্রকল্পগুলি সম্পর্কে বোঝাতে হবে। যাঁরা রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প পাননি, তাঁদের আবেদন করতে সাহায্য করা, এই প্রকল্পে সহায়তা করা, বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে অথবা এলাকায় শিবির করার নির্দেশ দেন তিনি। 

এ দিন বেহালা তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন রাজ্য তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি সুব্রত বক্সি, সাংসদ মালা রায়, দক্ষিণ কলকাতা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি দেবাশিস কুমার, সাংসদ তথা দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা সভাপতি শুভাশিষ চক্রবর্তী, কলকাতা পুরসভার প্রশাসকমণ্ডলীর সদস্য তারক সিং, বাচ্চু বাগ, সঞ্চিতা মিত্র, দোলা সরকার, শিপ্রা ঘটক সহ জেলা নেতৃত্ব এবং স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেসে নেতারা।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only