সোমবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২০

ভাইপো কেন ? হিম্মত থাকলে নাম বলুনঃকুনাল ঘোষ



পুবের কলম প্রতিবেদকঃ রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস যখন ভোটযুদ্ধে নামার আগেই উন্নয়নকে ও তাদের কাজকে মানুষের কাছে তুলে ধরতে চাইছে। ঠিক তখন রাজ্যের অন্যতম প্রধান বিরোধী শক্তি বিজেপি ক্ষমতায় আসার জন্য বক্তি আক্রমণ, ফেক নিউজ ও কুৎসাকেই তাঁদের প্রধান অস্ত্র করছে। রবিবার এমনই অভিযোগ করেছেন তৃণমূল মুখপাত্র তথা প্রাক্তন সাংসদ কুণাল ঘোষ। এ দিন তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠক থেকে তাঁর স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, পায়ের তলার মাটি না পেয়ে ব্যক্তি কুৎসায় ব্রতী হয়েছে বিজেপি। বিশেষত, কেন্দ্রের শাসক দলের বর্গী বাহিনী তৃণমূল নেতাদের চরিত্রহরণের চেষ্টা করছে। 

উল্লেখ্য, রামনগরে বিজেপির পর্যবেক্ষক কৈলাশ বিজয়বর্গীয় যে ভাষায় তৃণমূলের যুব সাংসদকে আক্রমণ করেছেন এদিন তা নিয়েই সবচেয়ে সরব হন কুণাল। কুণালের দাবি, কৈলাস বিজয়বর্গীয় রামনগরের সভায় মিথ্যে ভাষণ দিয়েছেন। রাজনীতিতে তৃণমূলের সঙ্গে পাল্লা দিতে না পেরে ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হচ্ছে। তাঁর কথায়, ‘এখানকার শিক্ষিত একজন যুবনেতাকে টার্গেট করা হচ্ছে। উনি ভাল কাজ করছেন। দু’বারের সাংসদ। ওঁর কেন্দ্রের মানুষ ওঁকে ভালোবাসেন। তাই ওঁকে আক্রমণ করা হচ্ছে। ঠিক যেভাবে বোফোর্স মামলায় রাজীব গান্ধির চরিত্র হনন করার চেষ্টা করা হয়েছিল। পরে প্রমাণ হয়ে যায় সব ভুল, সব মিথ্যে।’ 

কুণাল ঘোষ অভিযোগ করেন, পরিবারতন্ত্রের ভুরি ভুরি দৃষ্টান্ত বিজেপিতেও আছে। এ প্রসঙ্গে খোদ কৈলাস বিজয়বর্গীয়র ছেলে আকাশ বিজয়বর্গীয় উদাহরণ টেনে আনেন তিনি। অভিযোগ করেন, মধ্যপ্রদেশে সরকারি কাজে বাধা দিয়ে পুরকর্মীকে মেরে গ্রেফতার হয়েছিলেন আকাশ। অথচ, কৈলাস বাংলায় এসে আমাদের প্রিয় নেতার চরিত্র হননের চেষ্টা করছেন। 

উল্লেখ্য, বিজেপি নেতারা বরাবরই তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে স্বজনপোষণের অভিযোগে সরব। তাঁদের মূল লক্ষ্যেই থাকেন মুখ্যমন্ত্রীর ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও ডায়মন্ড হারবারের সাংসদকে আক্রমণের সময় তাঁর নাম না নিয়ে ‘ভাইপো’ শধটি প্রয়োগ করতে বেশি স্বচ্ছন্দ বোধ করে গেরুয়া শিবির। রবিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে এই প্রবণতাকে ‘চরিত্র হননে’র চেষ্টা বলে দেগে দিলেন কুণাল ঘোষ। 

তিনি আরও বললেন, ‘আমাদের প্রিয় নেতার চরিত্র হনন করে যাচ্ছেন অথচ যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তাদের পাশে বসালেই তারা ধুয়ে যাচ্ছে, এটা কি ওয়াশিং মেশিন নাকি। বিজেপির তৃণমূল সম্পর্কে বলার কিছু নেই। কারণ এখানে কাজ হয়েছে। এখানে ১০০ মানুষের জন্য কাজ হয়েছে। এই সরকার খোঁজার চেষ্টা করছে কাদের জন্য উন্নয়ন দরকার। আমরা কুৎসা পছন্দ করি না। অনেক কিছুই আছে যেগুলো আমরা তুলে ধরতে পারি, কিন্তু ব্যক্তি কুৎসা আমরা পছন্দ করি না। যদি ক্ষমতা থাকে, যদি হিম্মত থাকে, ভাইপো ভাইপো না করে নাম উচ্চারণ করে দেখান কৈলাসজি। নাম নিতে কীসের এত ভয়? আমরা তো নাম করে বলছি।’


এ দিন নারদ ও সারদা নিয়েও সরব হয়েছেন কুণাল। বিশেষ করে তিনি অভিযোগ করেছেন কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে ব্যবহার করা হচ্ছে। এ দিন চাচাছোলা ভাষায় কুণাল ঘোষ বলেন, মুকুল রায়কে দলে নিয়ে সারদা নিয়ে জ্ঞান দেবেন না। মির্জা বলেছে, মুকুল রায়ের গ্রেফতার হওয়া উচিত। অথচ মির্জাকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তার আগে পরের শধগুলোকে ধরে মুকুল রায়কে গ্রেফতার করা হচ্ছে না। আমি তো স্রেফ মুকুল রায়কে মুখোমুখি বসিয়ে জেরার কথা বলেছিলাম। কেন তা করা হল না? যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁদের পাশে বসালেই তারা ধুয়ে যাচ্ছে, বিজেপি কি ওয়াশিং মেশিন? রবিবার সাংবাদিক সম্মেলনে এমন প্রশ্নই ছুড়ে দিলেন তৃণমূলের মুখপাত্র এবং প্রাক্তন সাংসদ কুণাল ঘোষ।

একুশে ভোটের আগে তৃণমূল ভবন থেকে লাগাতার সাংবাদিক বৈঠক করে বিজেপিকে কোণঠাসা করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে রাজ্যের শাসক দল। এ দিন এমনই একটি সাংবাদিক বৈঠকে বিজেপিকে একহাত নেন কুণাল। তৃণমূল মুখপাত্র  বলেন, ২০১৫-য় বলেছিল ‘ভাগ মুকুল ভাগ’। তাঁকেই তো আবার দলে নিয়েছে বিজেপি। মুকুল রায়কে দলে নেওয়ার পরে সারদা নিয়ে জ্ঞান দেবেন না। যে সিন্ডিকেটের কথা বলেছিলেন, তিনিই আজ বিজেপিতে। দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে তদন্ত করুন।’

এ দিকে এ দিন কুণালের বক্তব্য সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলছেন, ‘কে দিদি, কে ভাইপো, সকলেই জানে। তাই আলাদা করে বলার প্রয়োজন নেই। আর সময় হলে নামও বলে দেওয়া হবে। বিজেপি কাউকে ভয় পায় না।’

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only