শনিবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২০

প্রাথমিকের প্রশ্ন ভুল মামলায় ইন্টারভিউ হওয়া ৩৭ জন মুসলিম ওবিসি-এ প্রার্থীদের চাকরির দাবি



পুবের কলম প্রতিবেদকঃ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের নোটিফিকেশন এ চরম বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্ন ভুল মামলায় হাইকোর্টের নির্দেশে ইন্টারভিউ হওয়া ৩৭ মুসলিম ওবিসি-এ চাকরি প্রার্থী। ইতিমধ্যে ৩৭ জনের ইন্টারভিউ গত জানুয়ারি মাসে হয়ে যাওয়া সত্ত্বেও নানান টাল বাহানা এবং পর্ষদ সভাপতির কথা অনুযায়ী প্যানেল প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও নিয়োগ করা হয়নি। প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে, তাদের জন্য যারা ২০১৪ সালের টেট উত্তীর্ণ। কিন্তু প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করতে পারেনি। তাদের কাছে নতুন করে অনলাইনে আবেদন চাওয়া হয়েছে। তারা তাদের ট্রেনিং সহ যোগ্যতার প্রমাণ দেবে। কিন্তু প্রাথমিক পর্ষদকে একাধিকবার জানানো হলেও কোনও উদ্যোগ নেয়নি। পর্ষদ প্রার্থীদের জানিয়েছিল পর্যাপ্ত ভ্যাকেন্সি নেই, তাই এই ৩৭ জনের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না। যদি পর্যাপ্ত ভেকেন্সি না থাকে, তাহলে ২০১৪ টেটকে মেনশন করে কেন নোটিফিকেশন দেওয়া হয়েছে। ৩৭ জন প্রার্থীকে আটকে রাখা হয়েছে। হঠাৎ করে শূন্যপদের আবির্ভাব হল কী করে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এই ৩৭ জন ইন্টারভিউ সম্পন্ন হয়ে যাওয়া প্রার্থীরা। তারা চাইছেন অবিলম্বে তাদের নিয়োগ সম্পন্ন করা করা হোক।

প্রাথমিক টেট ২০১৪ তে অকৃতকার্য হওয়ায় চাকরি প্রার্থীরা তথ্যের অধিকার আইন-২০০৫ অনুযায়ী তাদের উত্তরপত্র দেখার আবেদন করেন। সেখানে তারা দেখে কেউ আধ,এক বা দুই নম্বর কম পাওয়ার কৃতকার্য হতে পারেনি। কিন্তু প্রশ্ন এবং উত্তরপত্রে একাধিক ভুল থাকায় তারা হাইকোর্টে আবেদন করেন যে তাদের উত্তর যথাযথ হওয়া সত্ত্বেও পর্ষদ তাদের নম্বর দেয়নি। ২০১৭ সালে মামলা গ্রহণ হয় কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়ের এজলাশে। বিচারপতি সব পক্ষের বক্তব্য শুনে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে প্রশ্ন এবং উত্তরপত্র মূল্যায়নের জন্য পাঠান। বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের রিপোর্ট ভিত্তিতে ২০১৮ সালের ৩ অক্টোবর কলকাতা হাইকোর্ট রায় দেয় যে বঞ্চিত চাকরি প্রার্থীদের উত্তরপত্র দ্রুততার সঙ্গে পুনর্মূল্যায়ন করে যদি তারা কৃতকার্য হয়, তাহলে দ্রুততার সঙ্গে তাদের নিয়োগপত্র প্রদান করতে হবে। তবে হাইকোর্টের রায় কার্যকর করতে টালবাহানা শুরু করে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ। অবশেষে তাদের ডকুমেন্টস ভেরিফিকেশন করে পর্ষদ ইং ১৫/০১/২০২০ তারিখ ইন্টারভিউ নিলেও নিয়োগপত্র দেয়নি। তাদের কথায়, যদি প্রাথমিক টেট ২০১৪-তে নন ট্রেন্ড প্রার্থীরা চাকরি পায়, তাহলে ট্রেন্ড ক্যান্ডিডেট হিসেবে তাদের নিয়োগ নিয়ে টালবাহানা ঠিক নয়। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক চাকরি প্রার্থী জানিয়েছেন যদি পর্ষদ নিয়োগের বিষয়ে এমন উদাসীন মনোভাব দেখায়, তাহলে তারা শীঘ্রই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আর্জি জানানো হবে। তাঁদের দাবি শীঘ্রই এই প্রার্থীদের নিয়োগ নেওয়া হোক।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only