বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২০

শতবর্ষ পরে ফের বসছে না কোচবিহারের রাসমেলা



রুবাইয়া জুঁই, জলপাইগুড়ি:­ রাজ্য সরকার ছাড় দিলেও এ বছর হচ্ছে না উত্তরবঙ্গ তথা বাংলার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী কোচবিহার রাসমেলা। এই করোনাকালীন পরিস্থিতিতে এত মানুষের সমাগমে রাসমেলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে কোচবিহার পুরসভা।

উল্লেখ্য, কোচবিহার রাসমেলা উত্তরবঙ্গ তথা বাংলার শতাধী প্রাচীন মেলাগুলোর মধ্যে একটি। এই মেলার জন্য উত্তরবঙ্গবাসী সারাবছর অপেক্ষা করে থাকেন। ১৮১২ সালে কোচবিহারের ভেটাগুড়িতে প্রথম রাসমেলার আয়োজন হয়। ওই বছরই রাসপূর্ণিমা তিথিতে কোচবিহারের মহারাজা হরেন্দ্রনারায়ণ ভেটাগুড়িতে নবনির্মিত রাজপ্রাসাদে প্রবেশ করেন। সেই উপলক্ষ্যে সেখানে রাসমেলার আসর বসে। এরপর ১৮৯০ সালে কোচবিহার শহরের বৈরাগী দিঘির পাড়ে মদনমোহন মন্দির নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ হয়। ওই বছর থেকেই মন্দির লাগোয়া এলাকায় মেলা বসছে বলে ইতিহাস গবেষকরা জানান। 

১৯১৭ সাল নাগাদ ‘প্যারেড গ্রাউন্ড’-এ মেলা স্থানান্তরিত হয়, এখন যেটা ‘রাসমেলার মাঠ’ নামেই পরিচিত। কলেরা বেড়ে যাওয়াতেই মেলার মাঠ সরানো হয়েছিল। ১৯২৮ সালে মেলায় প্রথম বিদ্যুতের আলো ব্যবহার করা হয়। এ বছর রাসমেলার দু’শো আটতম বছর পূর্ণ হয়েছে। তবে এর আগেও ১৯২৩ সালে শহরে কলেরা ছড়িয়ে পড়ায় একবার মেলা বন্ধ করা হয়। ঠিক এবারের পরিস্থিতিটাও বোধহয় কিছুটা ১৯২৩-এর মতোই। তবে এবারে কলেরা নয়, কোভিড-১৯ মহামারির কবলে এখন গোটা পৃথিবী। প্রত্যেকেই নিজের মতো লড়ে যাচ্ছে মহামারি থেকে বাঁচতে। কোচবিহার পুরসভার পক্ষ থেকে জানানো হয়, এতবড় মেলা স্বাস্থ্যবিধি মেনে কিছুতেই সম্ভব নয়। শুধু কোচবিহার জেলার মানুষই নয় গোটা উত্তরবঙ্গ,কলকাতা, অসম,এমনকী প্রতিবেশী দেশ নেপাল- ভুটান থেকেও অসংখ্য মানুষ মেলায় ভিড় জমান। তবে এবার মেলা না হলেও দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানোর জন্য স্থানীয় হস্তশিল্পীদের দোকান, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর দোকান ও কিছু খাবারের পসরা বসবে। সেটা রাসমেলা মাঠে করা হবে না। পার্শ্ববর্তী কোনও স্কুলের মাঠে হবে বলে জানা যায়। কারণ রাসমেলার মাঠে সামান্য আয়োজন হলেই বিভিন্ন ব্যবসায়ীরা দোকান নিয়ে বসবে। সেক্ষেত্রে ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হবে, তাই এই সিদ্ধান্ত। 

অন্যদিকে, মেলা না হওয়ায় নিরাশ হয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। ১০০ কোটি টাকার উপর ব্যবসা হয় ১৫ দিন ধরে চলা এই ঐতিহাসিক মেলায়। এছাড়াও রাসমেলা উপলক্ষে কোচবিহার শহরে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার বন্দোবস্ত করা হয় জেলা পুলিশের তরফে। বসানো হয় সিসিটিভিও। মেলা চত্বরেই অস্থায়ীভাবে পৃথক থানা তৈরি করা হয়। মেলামাঠের একপ্রান্তে তৈরি হয় ওই অস্থায়ী থানা। কাছেই বাঁশ,টিন,কাঠ দিয়ে গড়া হয় অস্থায়ী লকআপ। 

রাসমেলায় ছোটদের রকমারি হাজারো খেলনা নিয়ে  প্রতিবছর হাজির হয় বিহারের কিষাণগঞ্জ থেকে নিয়ামত আলিরা। ছোটদের অন্যতম খেলনা টমটম গাড়ি নিয়ে মেলায় পসরা জমান তারা। মহারাজা নৃপেন্দ্রনারায়ণ হাইস্কুল লাগোয়া এলাকায় রাস্তার পাশে ডেরা বেঁধে চাহিদার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে টমটম গাড়ি তৈরি করেন তারা। মেলায় এই গাড়ির চাহিদাও তুঙ্গে। বাঁশ কেটে তার উপর অনেকটা মাটির বাটির আকারের পাত্র বসিয়ে প্লাস্টিকে মুড়ে দেওয়া হয়। তারমধ্যে বাঁশের কাঠি ও মাটির চাকা বসিয়ে তৈরি হয় টমটম গাড়ি। তবে এ বছর নিয়ামত আলিদেরও মন খারাপ, টমটম গাড়ি নিয়ে তারা আসতে পারবে না রাজার শহরে।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only