বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২০

কমিটির মাধ্যমে নিযুক্ত শিক্ষকদের বেতন প্রসঙ্গ,সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা জমা দিচ্ছে রাজ্যের সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতর



পুবের কলম প্রতিবেদকঃ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সংখ্যালঘু দফতর কেন মাদ্রাসা পরিচালন কমিটির নিযুক্ত শিক্ষক, অশিক্ষক কর্মীদের বেতন বন্ধ করে রেখেছে, তা নিয়ে রাজ্যের কাছে জবাব চেয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আগামী ১ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতর। আগামী ৭ ডিসেম্বর রয়েছে মাদ্রাসায় কমিটির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত মামলার শুনানি। কী কারণে কমিটির মাধ্যমে নিযুক্ত শিক্ষকদের একাংশের বেতন বন্ধ রাখা হয়েছে, তা সুপ্রিম কোর্টকে জানানো হবে বলে জানিয়েছে সংখ্যালঘু  দফতরের এক আধিকারিক ওবাইদুর রহমান। তাঁর কথায় হলফনামায় জানানো হবে, কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ হওয়া বহু ভূয়ো প্রার্থী রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৬০ জন আদালত অবমাননার মামলা করেছে সর্বোচ্চ আদালতে। সুপ্রিম কোর্টের মামলার শুনানিতে মাদ্রাসায় নিযুক্ত হওয়া ভূয়ো প্রার্থীদের বিরুদ্ধে বক্তব্য থাকবে মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরের পক্ষে। নিয়মানুসারে, মাদ্রাসা শিক্ষা দফতর সহ রাজ্যের অন্যান্য নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের চাকরি পেতে গেলে একটা পদ্ধতি থাকে। সেই নিয়ম অনুসারেই চাকরির অনুমোদন দেয় সংশ্লিষ্ট দফতর। চাকরি প্রার্থীদের অনেকে মনে করছেন আদালতের গেলেই চাকরি হয়ে যাবে। কিন্তু সেই ধারণা ভুল। চাকরির ক্ষেত্রে কোনও না কোনও নিয়ম মেনেই করা হয়। একই সঙ্গে বেতন পেতে গেলে নিয়ম মেনেই চাকরিতে ঢুকতে হয়। তাছাড়া নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারি আদেশনামাও জরুরি। যে নিয়মকে অনুসরণ করে চাকরিতে নিযুক্ত করা হয়। তাও জানানো হবে। মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরের এক আধিকারিকের অভিযোগ,  বহু মাদ্রাসা থেকে খবর পাওয়া গিয়েছে,  অনেকে অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন তারাও নিযুক্ত রয়েছেন মাদ্রাসায়। অনেকের আবার ভুল তারিখে নিয়োগপত্র ইস্যু হয়েছে, অনেকে ভূয়ো নথি আদালতে দিয়ে চাকরিতে নিযুক্ত হয়েছেন। এই সব দেখেই তো মনে হবে কমিটির মাধ্যমে নিয়োগের ক্ষেত্রে অনিয়ম হয়েছে। এই বিষয়গুলি খতিয়ে দেখার এক্তিয়ার সংশ্লিষ্ট দফতরের। এই নির্দেশ আদালত আগেই দিয়েছে। দফতর আরও জানিয়েছে, সাধারণ মানুষ দেখলেই বুঝতে পারবেন এইভাবে নিয়োগ ভূয়ো। সরকারি অর্থ, জনসাধারণনের অর্থ এইভাবে অপচয় হতে দেওয়া যাবে না। সেটা আদালতকেও জানানো হবে। মাদ্রাসা শিক্ষা দফতর আরও জানায়, প্রার্থীদের ‘অরিজিনাল সার্টিফিকেট’, রয়েছে কি না। সেটা ভেরিফিকেশন করলে আসল না নকল বোঝা যাবে। 

গত জানুয়ারি মাসে সুপ্রিম কোর্ট রাজ্য সরকারের তৈরি মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে বৈধতা দিয়ে বলেছিল, কমিশনই রাজ্যের মাদ্রাসাগুলিতে শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী নিয়োগ করবে। কিন্তু তার আগে মাদ্রাসা পরিচালন কমিটি যে নিয়োগ করেছে সেগুলিকেও বৈধতা দিয়েছে শীর্ষ আদালত। রাজ্য সরকারকে ওই সব শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নিয়োগের বিষয়টি খতিয়ে দেখে স্বীকৃতি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু এই বিষয়ে উদ্যোগ নেয়নি সংখ্যালঘু দফতর। আইনজীবী আবু সোহেল জানিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্ট ১ ডিসেম্বরের মধ্যে রাজ্যের বক্তব্য জানতে চেয়েছে। ৭ ডিসেম্বর এই মামলার শুনানি রয়েছে।  চার পাঁচ বছর কাজ করে চলেছে, কিন্তু বেতন পাচ্ছে না শিক্ষকরা। আইনজীবীর বক্তব্য ভেরিফিকেশনের জন্য দফতর ডাকবে কেন। ডিআইরা ভেরিফিকেশন করবে। ২০১৬ সালে বেতন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও ২০১৭ সালের সুপ্রিম কোর্ট শিক্ষকদের ভেরিফিকেশন করে বেতন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। ২০১৮ সালের মামলায় ফের বেতন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এদিকে মাদ্রাসা দফতর ওই শিক্ষকদের ভেরিফিকেশনের জন্য ডাকলেও অধিকাংশ শিক্ষকই দফতরে আসেননি।

 এ দিকে সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা পেয়েছে কাঁথি হাই মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটি। দেশের সংখ্যালঘু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির নিয়োগ ক্ষমতা ম্যানেজিং কমিটির হাতে চেয়ে এই মামলা করেছিলেন আইনজীবী আবু সোহেল। গত ১৬ নভেম্বর সেই মামলা খারিজ করে দেয় সর্বোচ্চ আদালতের বিচারপতি উদয় উমেশ ললিতের বেঞ্চ। এ দিকে ৬ জানুয়ারি রাজ্যের মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে সাংবিধানিক বৈধতা দিয়ে নিয়োগ ক্ষমতা ওই সংস্থাকে ফিরিয়ে দেয় সুপ্রিম কোর্ট। সেই মামলায় প্রচণ্ড চাপে পড়ে যান আইনজীবী আবু সোহেল। এর পরই তিনি ফেব্রুয়ারী মাসে জনস্বার্থ মামলা করেন। সেই মামলা খারিজ হয়ে যায় সর্বোচ্চ আদালতে। আইনজীবীর দাবি, ৩০ নম্বর ধারাকে সামনে রেখে কেন সংখ্যালঘু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে নিয়োগ ক্ষমতা ম্যানেজিং কমিটির হাতে থাকবে না। তাও আদালতের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। ওই মামলাকারী একাধিক রাজ্যের সংখ্যালঘু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দৃষ্টান্তও উল্লেখ করেছিলেন। কিন্তু কোনও যুক্তিই আদালতের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। কমিশন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করলেও কিছু মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ কমিশনের কাছে শূন্যপদে শিক্ষক চায়নি। কমিশনের মাধ্যমে বদলি হওয়া কিছু শিক্ষককেও মাদ্রাসায় নিযুক্ত করেনি ম্যানেজিং কমিটি। ওই মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দাবি, কমিটির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু কমিশনের কাছে ওই মাদ্রাসায় শূন্যপদ রয়েছে। মাদ্রাসাগুলিতে নিয়োগ, বদলির ক্ষেত্রে কার হাতে ক্ষমতা থাকবে, এই নিয়ে এখনও টানাপোড়েন চলছে ম্যানেজিং কমিটির সঙ্গে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের। এই নিয়ে আদালতে মামলাও রয়েছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only