রবিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২০

সিবিআই এনডিএ শরিক, তকমা শশীর

 




পুবের কলম প্রতিবেদকঃ­ ক্রমে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে রাজ্যের নির্বাচনের আবহ। প্রতিদিনই চলছে তাবড় নেতা নেত্রীদের বাক্যুদ্ধ। শনিবার তাতে যুক্ত হলেন রাজ্যের নারী কল্যানমন্ত্রী শশী পাঁজা। এ দিন তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক সম্মেলন থেকে তিনি সরাসরি তোপ দাগলেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই,ইনকাম ট্যাক্স,ইডির মতো কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে। মন্ত্রীর কথায়, এনডিএ থেকে একের পর এক দল বেরিয়ে যাচ্ছে। শিবসেনা, অকালি দল বেরিয়ে গেছে। জেডিইউর মতো দলও এনডিএ থেকে বেরিয়ে যাবে। এখন এনডিএ-র নতুন শরিক হয়েছে সিবিআই, ইনকাম ট্যাক্স, ইডির মতো কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি।

 

 এখানেই থেমে না থেকে এ দিন তিনি ব্যারাকপুরের সাংসদ অর্জুন সিংকে নিয়েও বিস্ফোরক অভিযোগ করেন। সাংসদ সম্পর্কে শশী পাঁজা বলেন, নির্বাচন কমিশনের কাছে নিজের আয় নিয়ে যে তথ্য জমা দিয়েছেন ব্যারাকপুরের সাংসদ, তা সম্পূর্ণ নয়। তাতে তথ্য গোপন করা হয়েছে। তাঁর বিপুল পরিমাণ টাকা রয়েছে দুবাইতে। যার হিসেব নির্বাচন কমিশনের কাছে দেওয়া হলফনামায় অর্জুন সিং দেননি। এ ব্যাপারে একটি সংস্থার নাম করে মন্ত্রী শশী পাঁজা অভিযোগ করেন অর্জুন সিং একা নন, তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্যের নামেও একটি সংস্থার শেয়ার কেনা আছে। অর্জুন সিং যার কোনও হিসেব দেননি কমিশনে দেওয়া হলফনামায়। যদিও এ নিয়ে বিজেপি নেতা অর্জুন সিং ও দিলীপ ঘোষ একযোগে বলেছেন, এটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলছে তৃণমূল কংগ্রেস। বিজেপি নেতাদের পালটা চ্যালেঞ্জ, যদি সত্যিই এত তথ্য তাঁদের কাছে থেকে থাকে, তাহলে সেটা নির্বাচন কমিশনে জানান। মিথ্যা কথা বলে বাজার গরম করা হচ্ছে।

 

এ দিকে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে রাজ্যের সঙ্গে আর্থিকভাবে যে বঞ্চনার অভিযোগ বরাবর তোলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই অভিযোগকেও এ দিন ফের উত্থাপন করেন শশী পাঁজা। তিনি রীতিমতো তথ্য দিয়ে জানান, কেন্দ্রের কাছ থেকে রাজ্যের বিপুল অঙ্কের টাকা পাওনা রয়েছে। একই প্রসঙ্গ নিয়ে কেন্দ্রকে বিঁধেছেন রাজ্যসভার সাংসদ  তথা তৃণমূলের সর্বভারতীয় মুখপাত্র ডেরেক ওব্রায়ান। তিনি একটি খতিয়ান তুলে ধরে বলেন, নানা কেন্দ্র-রাজ্য যৌথ প্রকল্প, করোনা প্রতিরোধ-পরিকাঠামো তৈরি, আমফানের ক্ষতিপূরণ ইত্যাদি খাতে সবমিলিয়ে ৫০ হাজার কোটি টাকা কেন্দ্রের কাছে পায় রাজ্য সরকার। যে টাকা এখনও পর্যন্ত কেন্দ্র রাজ্যকে দেয়নি। 


তাঁদের হিসেব অনুযায়ী কোভিড পরিস্থতির শুরুতে অর্থাৎ এ বছরের জুন মাসের আগে করোনা প্রতিরোধ এবং করোনা চিকিৎসা খাতে ১২০০ কোটি টাকা খরচ করেছে রাজ্য সরকার। জুন মাসের পর একই খাতে ২৮০০ কোটি টাকা খরচ করেছে রাজ্য। এই বিপুল খরচে কেন্দ্রের কোনও টাকা ছিল না। তাঁদের আরও বক্তব্য, রাজ্যের আমফানের কারণে ক্ষতি হয়েছে প্রায় ১.০২ লক্ষ কোটি টাকা। এক্ষেত্রে রাজ্য খরচ করেছে ৭৫০০ কোটি টাকা। 


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only