শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২০

সবার জন্য স্বাস্থ্যসাথী



পুবের কলম প্রতিবেদকঃ একুশের বিধানসভা ভোটের আগে এক মাস্টারস্ট্রোকেই বিজেপি নেতাদের কুপোকাত করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বঙ্গের কুর্সি দখলে মোদি সরকারের ‘আয়ুষ্মান’ প্রকল্পকে টোপ হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করে দিয়েছিলেন অমিত শাহ থেকে শুরু করে বিজেপি নেতারা। আর বৃহস্পতিবার নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছেন, ‘রাজ্যের সমস্ত পরিবারকেই স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে। আগামী ১ ডিসেম্বর থেকেই প্রতি পরিবার ৫ লক্ষ টাকার স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা পাবেন।’ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর এ দিনের ঘোষণার পরে মোদি সরকারের আয়ুষ্মান প্রকল্পের ‘টোপ’ গিলিয়ে খুব একটা রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে পারবেন না বিজেপি নেতারা। 

নবান্নে এ দিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘রাজ্যে এই মুহূর্তে ৭৫ শতাংশ অর্থাৎ সাড়ে সায কোটি মানুষ স্বাস্থ্যসাথীর আওতায় রয়েছেন। এখন থেকে বাকি ২৫ শতাংশও প্রকল্পের আওতায় আসবেন। এতদিন যারা এই সুবিধা পাননি, যারা কোনও স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা পান না, এই ধরুন রিকশাওয়ালা,আমার টোটোওয়ালা,আমার ইটভাঁটার কর্মীরা সবাই নতুন সুবিধা পাবেন। অর্থাৎ বাংলার প্রতিটি পরিবারই বিনামূল্যে বছরে ৫ লক্ষ টাকার স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা পাবেন। সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালে ক্যাশলেস চিকিৎসার সুবিধা পাবেন। শুধু বাংলা নয়, এইমস, ভেলোর সহ ভিনরাজ্যের নানা হাসপাতালেও ক্যাশলেস চিকিৎসা করাতে পারবেন।  পরিবারের প্রবীণ মহিলা সদস্যের নামে কার্ড হবে। স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রতিটি পরিবারের দরজায় গিয়ে নাম, ঠিকানা, পরিবারের সদস্য সংখ্যা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করবেন। তার ভিত্তিতেই নতুন কার্ড দেওয়া হবে।’ বর্তমানে যারা সরকারের অন্য স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা পান, তারাও স্বাস্থ্যসাথীর আওতায় আসতে পারবেন বলে জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে সেক্ষেত্রে তাদের বর্তমান সুবিধা ছাড়তে হবে।’ 

এ দিন নতুন স্বাস্থ্যসাথী কার্ডও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। নিজের প্রিয় রং নীল রঙের আদলেই করা হয়েছে নয়া কার্ড। রাজ্যের প্রতিটি পরিবারকে স্বাস্থ্যবিমার আওতায় নিয়ে আসার সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্য সরকারের আরও ২০০০ কোটি টাকা বাড়তি খরচ হবে বলে জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, ‘এই পরিষেবা দিতে গিয়ে বছরে ২০০০ লোটি টাকা বেশি খরচ হবে। কিন্তু খরচের দিকে তাকাচ্ছি না। মানুষের সুবিধার জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দেশের মধ্যে এই প্রথম কোনও  রাজ্য সরকার রাজ্যের প্রতিটি পরিবারের জন্য স্বাস্থ্যবিমার ব্যবস্থা করল।’  

পাশাপাশি অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদেরও বেতনবৃদ্ধির কথা ঘোষণা করে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ডিসেম্বর থেকেই অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের বেতন এক হাজার টাকা বাড়ানো হচ্ছে। যার ফলে নতুন বছরের শুরুতেই অতিরিক্ত টাকা হাতে পাবেন তাঁরা। 

পাশাপাশি এ দিন জিএসটির বকেয়া, করোনা চিকিৎসার জন্য আর্থিক সাহসায্য না পাওয়ার বিষয়টি নিয়েও কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মোদি সরকারকে নিশানা করে তিনি বলেন, ‘রাজ্য থেকে জিএসটি আদায় করছে কেন্দ্র। তার একটা অংশ রাজ্যের প্রাপ্য। কিন্তু সেই প্রাপ্য দিচ্ছে না। এমনকী করোনা চিকিৎসায় ৪ হাজার কোটি টাকার বেশি খরচ করেছে রাজ্য সরকার। মাত্র ১১৯ কোটি টাকা পাওয়া গিয়েছে। আম্পান ঘূর্ণিঝড়ে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার জন্যও এক টাকা দেয়নি। যে এক হাজার কোটি টাকা অগ্রিম দেওয়া হয়েছে, তা রাজ্যের পাওনা থেকে কেটে নেওয়া হয়েছে।’ 

করোনা ভ্যাকসিন নিয়ে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে রাজনীতি করার অভিযোগেও এ দিন সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কিছুটা ব্যঙ্গের সুরে তিনি বলেন, ‘গত এক বছর ধরে করোনা ভ্যাকসিন নিয়ে রাজনীতি চলছে। ছয় মাস ধরে ভাষণ দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কবে ভ্যাকসিন আসবে তা ঠিক নেই।’


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only