রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২০

ব্যবসায় মন্দা কাটাতে লোকাল ট্রেনই ভরসা শিশির মার্কেটের ব্যবসায়ীদের



আসলাম হোসেন, কলকাতাঃ বউনি করাটাই এখন ভাগ্যের ব্যাপার। কোনও দিন হয় আবার কোনও দিন খালি হাতেই বাড়ি ফিরতে হয়। এমনই অবস্থা শিয়ালদহ স্টেশনের গা-ঘেঁষা শিশির মার্কেটের ব্যবসায়ীদের। আনলক পর্যায়ে যেখানে একটু একটু করে ছন্দে ফিরছে শহরের অন্যান্য বাজার– সেখানে শিশির মার্কেটের ব্যবসায়ীদের দুর্দশা যেন কিছুতেই কাটছে না। লকডাউনের তিন মাস সমস্ত কিছু বন্ধ থাকার পর আর্থিক মন্দা কাটাতে অন্যান্য ব্যবসায়ীদের মতো দুর্গাপুজোর দিকে চাতকের মতো চেয়েছিলেন সেখানকার ব্যবসায়ীরা। কিন্তু এত বড় উৎসবেও শিশির মার্কেটের ব্যবসায়ীরা তেমন কিছু অর্থের মুখ দেখলেন না। এই আর্থিক দুর্দশা কাটাতে ট্রেনই তাদের একমাত্র ভরসা। ব্যবসায়ীরা চাইছেন দ্রুত লোকাল ট্রেন চালু করা হোক। কারণ শহরতলির নিত্যযাত্রীরাই তাদের মূল ক্রেতা। তাদের প্রশ্ন সমস্ত পরিষেবাই তো চালু হয়ে গিয়েছে তাহলে ট্রেন কেন চালু করা হচ্ছে না? 

প্রতি বছর পুজোতে যা বিক্রি হয় এবারের পুজোতে তার মাত্র ১০ শতাংশ বিক্রি হয়েছে। জানালেন শিশির মার্কেটের ব্যবসায়ী শিবশঙ্কর সাহা। হাতিবাগান,গড়িয়াহাট, নিউ মার্কেট প্রভৃতি মার্কেটের সঙ্গে তুলনা টেনে তিনি বলেন ট্রেন পথে আসা যাত্রীরাই শিশির মার্কেটের মূল ক্রেতা। ফ্লাইওভারের ওপর দিয়ে বাসের রুট থাকলেও বাসের যাত্রীরা খুব একটা এখানে আসেন না। অন্যান্য মার্কেটে এবারের পুজোয় মোটামুটি বিক্রি বাটা হলেও শিশির মার্কেটের ব্যবসা এ বছর ওই সমস্ত মার্কেটের তুলনায় অনেকটাই তলানিতে। 

সাধারণত শিশির মার্কেটের ব্যবসায়ীরা খড়দহ,সোদপুর,ব্যারাকপুর সহ উত্তর-দক্ষিণ ২৪ পরগনার একাধিক এলাকা থেকে আসেন। এখন বেচাকেনা সেরকম নেই। তার ওপর বাসে যাতায়াত করতে গিয়ে প্রতিদিনই দেড়শো দু’শো টাকা খরচ হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সেই টাকাও উঠছে না। আপশোসের সঙ্গেই জানালেন সেখানকার ব্যবসায়ী জগবন্ধু সাহা। মাইনে দিতে না পারায় বাধ্য হয়েই কর্মী ছাটাই করতে হয়েছে শিবশঙ্কর,জগবন্ধু,বিপুল সাহা সহ একাধিক ব্যবসায়ীকে। শিশির মার্কেটের ব্যবসায়ীদের সংগঠনের সহ সভাপতি বিপুল সাহা জানান শিশির মার্কেটে প্রায় ১১০০-র বেশি স্টল রয়েছে। প্রায় ৩০০০ পরিবার এই মার্কেটের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। ব্যবসায় মন্দা দেখা দেওয়ায় অনেক ব্যবসায়ীই দোকান বন্ধ করে অন্য কাজ করতে বাধ্য হয়েছেন। তাঁর অভিযোগ,শিশির মার্কেটের সমস্ত ব্যবসায়ীরা পুরসভাকে দোকান ভাড়া দিয়ে থাকেন। কিন্তু এই দুদর্শার দিনেও তাদের ভাড়া মুকুব করা হয়নি। ক্রেতা না থাকায় এখন সন্ধ্যার মধ্যে দোকান বন্ধ করে বাড়ি চলে যাচ্ছেন অধিকাংশ ব্যবসায়ী। এই পরিস্থিতিতে ট্রেন চালু হওয়ার দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন সেখানকার ব্যবসায়ীরা। 


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only