রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২০

গফফার পুত্র রহিম সহ একদল বিশিষ্টের তৃণমূলে যোগদান



পুবের কলম প্রতিবেদকঃ বাদুড়িয়ার বিধায়ক মরহুম কাজী আবদুল গফফার ‘বাদুরিয়ার বাদশা’ বলে পরিচিত ছিলেন। টানা সাতবারের বিধায়ক কাজী আবদুল গফফারের ইন্তেকালের পর পিতার জনপ্রিয়তার ফলে বিজয়ী হন কাজি আবদুল রহিম (দিলু)। দীর্ঘদিন কংগ্রেসে থাকার পর রাজ্য তৃণমূলের সদর দফতর ‘তৃণমূল ভবন’-এ শনিবার অনেকের সঙ্গে টিএমসিতে যোগ দিলেন তিনি। 

 টিএমসিতে যোগদানকারী নেতানেত্রীদের স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা। সম্প্রতিকালে তৃণমূলের যোগদান অনুষ্ঠানে একসঙ্গে এত বেশি শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতি নজরে পড়েনি। এদিন যোগদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়, পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী এবং কলকাতা পুরসভার মুখ্য প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম,সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক এবং সাংসদ সুব্রত বক্সি, খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক সহ প্রমুখ। তৃণমূল কংগ্রেসের এদিনের যোগদান অনুষ্ঠানের গুরুত্ব বুঝে একগুচ্ছ তৃণমূল নেতানেত্রী উপস্থিত হন। 

এ দিন তৃণমূলে যোগদানের পর কাজী আবদুল রহিম মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের প্রশংসা করেন। তাঁর বক্তব্য বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যকে বিজেপির হাত থেকে রক্ষা করতে পারবেন। কঠিন আর্থিক পরিস্থিতির মধ্যেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের উন্নয়ন অব্যাহত রেখেছেন। বাংলাকে বাঁচাতে গেলে এই মুহূর্তে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতকে আরও মজবুত করা প্রয়োজন। এ রাজ্যের সম্প্রীতি বজায় রেখে দেশের মধ্যে নজির গড়েছেন  মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি আরও বলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বহু প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কিন্তু কোনও প্রতিশ্রুতিই কার্যকর করা হচ্ছে না। ১৫ লক্ষ টাকার স্বপ্ন দেখানো হলেও তা বাস্তবায়িত করা হয়নি। এখন তারা বড় বিপর্যয়ের মুখে । তবুও বিজেপি এই রাজ্যকে গ্রাস করতে চাইছে। বাংলার উন্নয়ন ও শান্তি স্তব্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এখন বিজেপির প্রতি বিশ্বাস তলানিতে ঠেকেছে। তিনি বলেন এই বাংলা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের, কাজী নজরুল ইসলামের, রামকৃষ্ণদেবের। দেশের শান্তির জন্য এই বাংলাই আগামীতে পথ দেখাবে। তৃণমূলে আসার উদ্দেশ্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন যে   মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাজে আপ্লুত হয়ে এবং তাঁর উন্নয়নের কাজ আরও বাস্তবায়িত করতেই তৃণমূলে যোগদান। তিনি বলেন পিতা কাজী গফফার ১৯৬৭ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত বাদুরিয়ার বিধায়ক ছিলেন। সাম্প্রদায়িক শক্তির উজ্জ্বল মুূখ ছিলেন তাঁর আব্বা। 

বাদুরিয়ার বিধায়ক কাজী আবদুল রহিম দিলু নামেই বেশি পরিচিত। এলাকায় জনপ্রিয়তাও রয়েছে তাঁর। প্রাক্তন বিধায়ক মুহাম্মদ সেলিমকে হারিয়ে জয়ী হন তিনি। সামাজিক অবদানই তাঁর কাছে বেশি পরিচিত। রাজীব গান্ধির নামে ‘থ্যালাসেমিয়া হাসপাতাল’ গড়েছেন। তাঁর উদ্যোগে বাদুড়িয়ায় কৃষি ও সংস্কৃতির উপর ‘ভারত মেলা’ চালু হয়। সামাজিক উন্নয়নের উপর ভিত্তি করেই এলাকায় জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন তিনি।

 বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ পশ্চিমবঙ্গ সফরে এসে রাজ্য নেতৃত্বদের একগুচ্ছ নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি রাজ্য থেকে ফিরে যাওয়ার পর দিনই বিজেপির মহিলা মোর্চার সহ-সভাপতি মৌমিতা বসু চক্রবর্তী তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেন। টিএমসিতে যোগদানের পর বিজেপির প্রতি একগুচ্ছ ক্ষোভ উগড়ে দেন। তিনি বলেন  ‘মানুষের জন্য কাজ করার লক্ষ্যে রাজনীতিতে এসেছিলাম। সেই লক্ষ্যে বিজেপিতেও যোগদান করেছিলাম। কিন্তু বিজেপিতে থেকে দেখেছি মানুষের জন্য উন্নতি করা সম্ভব নয়। বিজেপির ‘পঞ্চনিষ্ঠায়’ বলা আছে সর্বধর্ম সমন্বয়ের কথা। কিন্তু তা মানা হয় না। একটি ধর্মের হয়েই কথা বলে বিজেপি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে বজায় রেখে চলেছেন। উন্নয়ন করছেন, তাঁর উন্নয়নে সামিল হতেই বিজেপিতে এসেছি। তিনি আরও বলেন যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হিজাব পড়ে মুসলমানদের একাধিক অনুষ্ঠানে যোগদিয়েছেন এই নিয়েও রাজনীতি করা হয়েছে। তবে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সর্বধর্ম সমন্বয় বজায় রাখার জন্যই তা এটা করে থাকেন। এতে বিতর্কের কিছু নেই বলে তাঁর মন্তব্য। 

এ দিন তৃণমূলে যোগ দিলেন মালদার কালিয়াচক কলেজের অধ্যক্ষ এবং সমাজসেবী ড. নাজিবর রহমান। বঞ্চিত ও পিছিয়েপড়া মানুষদের পাশে দাঁড়াতেই তৃণমূলে যোগদান ড. নাজিবর রহমানের। তাঁর বক্তব্য মানুষের জন্য কাজ করেছি। আগামীতে যাতে আরও বেশি মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারি সেই লক্ষ্যেই তৃণমূলে যোগ দিয়েছি। জেলার বিশিষ্ট মানুষরা চাইছেন মালদায় পরিবর্তন হওয়া দরকার। তাই তাঁদের ইচ্ছাকে বাস্তবায়িত করতে এই দলে যোগদান। মালদার বাসিন্দাদের বক্তব্য, সামাজিক কাজে তাঁর প্রভাব রয়েছে। মালদা জেলাতেও তিনি খুব জনপ্রিয়।  

   এ দিন তৃণমূলে যোগদানকারীদের তালিকায় ছিলেন বেশ কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস,অধ্যাপক,ডাক্তার ও সমাজসেবীরা। এঁদের মধ্যে ছিলেন পূর্ব বর্ধমানের অনিন্দিতা দাস,ডা. শুভময় নাগ প্রমুখ। এছাড়া টিএমসিপিতে যোগদান করলেন অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস এবং পুলিশের উচ্চপদস্থ অফিসাররা। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন কৃষ্ণচন্দ্র চৌধুরি,সরোজ গাজমীর,কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়,সত্যজিত বন্দ্যোপাধ্যায়,ভূবন চন্দ্র মণ্ডল,দেবকুমার মুখোপাধ্যায় ,দীপঙ্কর চক্রবর্তী, বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী,মুহাম্মদ মুকাফফর হোসেন, দীপক কুমার দাস সহ প্রমুখ।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only