বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২০

বাংলায় বিধানসভা ভোটের দায়িত্বে কে, ঘুম উবেছে নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ আধিকারিকদের



পুবের কলম প্রতিবেদকঃ রাজ্যে বিধানসভার ভোট নিয়ে ক্রমশই রাজনীতির পারদ চড়ছে। ভোট যদিও পাঁচ মাস বাকি। তবুও শাসকদল তৃণমূল থেকে শুরু করে বিরোধী বিজেপি এমনকী কংগ্রেস ও বাম নেতারা ভোটের ঘুঁটি সাজাতে নেমে আদাজল খেয়ে নেমে পড়েছেন। কিন্তু ভোট পরিচালনার গুরুদায়িত্ব যাদের কাঁধে সেই দিল্লির নির্বাচন সদনে ঠান্ডিঘরে থাকা নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের ঘুম উবেছে। কার কাঁধে বঙ্গের ভোট পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হবে, তা নিয়ে দফায় দফায় শলাপরামর্শ চালাচ্ছেন তাঁরা। 

নির্বাচন সদন সূত্রে জানা গিয়েছে, বাংলায় ভোট পরিচালনার ভার কার কাঁধে বর্তানো হবে, তা চূড়ান্ত করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন ‘বিজেপি বান্ধব’ হিসেবে পরিচিত মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুনীল অরোরা। তার কারণ কমিশনে যোগ্য এবং পর্যাপ্ত আধিকারিকদের অভাব। গত লোকসভা ভোটে বাংলার দায়িত্বে ছিলেন উপনির্বাচন কমিশনার ও বিজেপির শীর্ষনেতৃত্বের বিশেষ পছন্দের পাত্র সুদীপ জৈন। গত লোকসভা ভোটে কার্যত রাজ্যের দায়িত্ব পেয়েই তৃণমূলের বিরুদ্ধে পরোক্ষে জেহাদ ঘোষণা করেছিলেন তিনি। জেলাশাসক ও পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে অকারণেই গর্জে উঠেছিলেন। সঙ্গী হিসেবে পুলিশ ও বিশেষ পর্যবেক্ষক হিসেবে দুই বিজেপি ঘনিষ্ঠ আধিকারিক অজয় নায়েক ও বিবেক দুবেকে নিয়ে এসে স্বেচ্ছাচারিতা চালিয়ে নির্বাচনের নিরপেক্ষতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছিলেন। কিন্তু বিজেপির বিশেষ পছন্দের উপনির্বাচন কমিশনার সুদীপ জৈনের গত মে মাসে কেন্দ্রীয় ডেপুটেশনের মেয়াদ শেষ হয়েছে। তামিলনাড়ু ক্যাডারেই ফিরে যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু যেহেতু তিনি ইভিএমের দায়িত্বে রয়েছেন, তাই বিহার সহ বিধানসভা উপনির্বাচনের জন্য সুদীপের ডেপুটেশনের মেয়াদ বাড়ানোর সুপারিশ করেন মুখ্যনির্বাচন কমিশনার সুনীল অরোরা। সেই সুপারিশ মেনে নেয় কেন্দ্র। চলতি বছরের ২১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকারের চাকুরে হিসেবে তাঁর ডেপুটেশনের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। তার পরেই ফের তামিলনাড়ু  সরকারের চাকরিতে ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। 

তাহলে বাকি থাকছেন দুই উপনির্বাচন কমিশনার চন্দ্রভূষণ কুমার ও আশিস কুন্দ্রা। তার মধ্যে সদ্যসমাপ্ত বিহার বিধানসভা ভোটের দায়িত্ব সামলেছিলেন চন্দ্রভূষণ কুমার। আর আশিস কুন্দ্রা মিজোরামের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক হিসেবে একসময়ে দায়িত্ব পালন করলেও কোনও বড় রাজ্যের ভোট সামলানোর অভিজ্ঞতা তাঁর নেই। যেহেতু আগামী বছর পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি তামিলনাডু, পুদুচেরি, কেরল ও অসমে একইসঙ্গে ভোট হওয়ার ফলে কিছুটা বিপাকে পড়েছেন নির্বাচন কমিশনের শীর্ষকর্তারা। 

বিকল্প হিসেবে বেশ কয়েকটি প্রস্তাব নিয়ে চিন্তাভাবনা করছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুনীল আরোরা ও তাঁর দুই সহকারী সুশীল চন্দ্রা ও রাজীব কুমার। প্রথমত, বিজেপি বান্ধব হিসেবে পরিচিত সুদীপ জৈনের মেয়াদ আরও ৬ মাসের জন্য বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য কেন্দ্রের কাছে সুপারিশ করা হবে। তাতে আগামী জুন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়বে তামিলনাড়ু  ক্যাডারের আমলার। যেহেতু লোকসভা ভোটে তিনি পশ্চিমবঙ্গের ভোট সামলেছেন, ফলে রাজ্য সম্পর্কে তাঁর অভিজ্ঞতা রয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সুষ্ঠুভাবে ভোট পর্ব মেটাতে পারবেন তিনি। নিজের প্রিয়পাত্রের চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধিতে আপত্তি করবে না মোদি সরকার। যদি তা না হয়, তাহলে চন্দ্রভূষণ কুমারের হাতেই বাংলার ভোটের দায়িত্ব ছাড়া হবে। অসম ও পুদুচেরির দায়িত্ব সামলাবেন আশিস কুন্দ্রা। কেরল ও তামিলনাড়ুর দায়িত্ব সামলাবেন নির্বাচন কমিশনের সেক্রেটারি জেনারেল উমেশ সিনহা। 

নির্বাচন কমিশনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, আগামী বছর যে পাঁচ রাজ্যের ভোট হচ্ছে, তার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে নির্বিঘ্নে ভোট করানো কমিশনের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আর সেই চ্যালেঞ্জ উতরানোর জন্য একজন দক্ষ আধিকারিকের হাতেই দায়িত্ব দেওয়া হবে। তেমন হলে বাংলার জন্য একাধিক অফিসারকে নিয়োগ করা হবে।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only