সোমবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২০

বছর অতিক্রান্ত!ঝুলে রইল ১৯লক্ষ এনআরসি-ছুটের ভাগ্য



বিশেষ প্রতিবেদকঃ ফের জটিল আবর্তে অসমের জাতীয় নাগরিকপঞ্জি। আর সেইসঙ্গে অনিশ্চিতভাবে ভবিষ্যতের জন্য চরম দুশ্চিন্তায় এনআরসি থেকে বাদ পড়া ১৯ লক্ষাধিক মানুষ। তাদের সঙ্গে দুশ্চিন্তা বেড়েছে এনআরসিতে নাম থাকা সত্ত্বেও যাঁরা ‘ডি’ ভোটার হিসেবে চিহ্নিত।

অসমে এনআরসি-র চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের এক বছর অতিক্রান্ত হতে চলল। এখনও রিজেশন স্লিপ হাতে পায়নি নাগরিকপঞ্জি থেকে বাদ পড়া ১৯ লক্ষাধিক মানুষ। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ছিল বাদ পড়া মানুষদের ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে পুনরায় নাগরিকত্বের আবেদন জানাতে পারবেন। তার জন্য সুপ্রিম কোর্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল ১০০ দিন। সেই জায়গায় ৩৬৫ দিন পার হতে বাকি মাত্র আর কয়েকটিদিন। এখনও পুনরাবেদন করার মতো অবস্থায় নেই এনআরসি-ছুটরা।

অসমে এনআরসির রাজ্য সমন্বয়ক হিতেশ দেবশর্মা এ সম্পর্কে স্পষ্ট জানিয়েছেন, এখনও এগোয়নি রিজেকশন স্লিপ দেওযার কাজ। এই কাজে আরও অনেকটা সময় লাগবে। এর কারণ হিসেবে তাঁর ব্যাখ্যা, প্রকাশিত নাগরিকপঞ্জিতে বহু টুকিটাকি সমস্যা ও ভ্রান্তি রয়ে গিয়েছে। সেই সমস্যা মেটানোর পরই হাত দেওয়া হবে এনআরসি-ছুটদের রিজেকশন স্লিপ দেওয়ার কাজে। তবে এ সব নিয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি বলে হিতেশ দেবশর্মা জানিয়েছেন। রিজেসখন স্লিপের জন্য রেডিস্টার্ড অফ ইন্ডিয়ার স্পিকিং অর্ডারের প্রয়োজন। সেটাও একনও পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া ঘোষিত বিদেশি বা ‘ডি’ ভোটার সংক্রান্ত মামলায় থাকা ব্যক্তির নাম এনআরসি থেকে ছাঁটাই করার জন্য রাজ্য এনআরসি অফিস থেকে জেলাশাসকদের যে নির্দেশ পাঠানো হয়েছিল, তার পরিপ্রেক্ষিতে জেলাশাসকদের পক্ষ থেকে এখনও কোনও প্রতিবেদন জমা পড়েনি। আবার অসমের বিজেপি সরকারও এখনও এই এনআরসি তালিকাকে মান্যতা দিতে রাজি হয়নি। ফলে গোটা প্রক্রিয়াটা যেমন ঝুলে রয়েছে, তেমনি চরম উৎকণ্ঠায় দিন যাপন করতে হচ্ছে লক্ষ লক্ষ মানুষকে। 

প্রসঙ্গত, আগামী ২০২১ সালে অসমে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে তালিকাছুটদের রিজেকশন স্লিপ দেওয়া সম্ভব হবে কি না? তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। এমনটা যদি হয়, তা হলে ভোটের পরই হয়তো রিজেকশন স্লিপ দেওয়ার কাজ শুরু হবে।  


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only