রবিবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২০

তবলিগের সভায় যাওয়ার জন্য পুলিশের ৩০৭ ধারা! আদালত বলল ‘আইনি ক্ষমতার অপব্যবহার’

 



পুবের কলম প্রতিবেদকঃ গত মার্চ মাসে দিল্লির নিজামুদ্দিনে তবলিগি জামাতের সভায় যোগ দিতে গিয়েছিলেন উত্তরপ্রদেশের মউয়ের বাসিন্দা মুহাম্মদ সাদ। তাঁকে উত্তরপ্রদেশের পুলিশ গ্রেফতার করে তাঁর বিরুদ্ধে ‘হত্যার চেষ্টা’ করার অভিযোগ এনেছিল। এই মামলা ইলাহাবাদ হাইকোর্টে উঠলে তাদের বিরুদ্ধে ‘হত্যার চেষ্টা’ করার অভিযোগ দেখে আদালত মন্তব্য করেছে ‘এটি আইনি ক্ষমতার অপব্যবহার’। পুলিশ মুহাম্মদ সাদের বিরুদ্ধে প্রাথমিক অভিযোগে জানিয়েছিল তিনি জেনে শুনে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে তাঁর তবলিগের সভায় যোগদানের বিষয়টি গোপন রেখেছিলেন। পাশাপাশি, তিনি দিল্লি থেকে ফিরে স্বেচ্ছায় কোয়ারেন্টাইনেও রাখেননি নিজেকে। উত্তরপ্রদেশ পুলিশ এই দু’টি অভিযোগের ভিত্তি মুহাম্মদ সাদের বিরুদ্ধে ৩০৭ ধারায় (অ্যাটেম্পট টু মার্ডার বা হত্যার চেষ্টা) মামলা রুজু করে। তাঁর বিরুদ্ধে চার্জশিটে ৩০৭ ধারায় অভিযোগ দেখে মুহাম্মদ সাদ ইলাহাবাদ হাইকোর্টে আবেদন করেন। শনিবার আদালত বিচারপতি অজয় ভানতের একক বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। বিচারপতি মুহাম্মদ খানের আবেদনে সাড়া দিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে ৩০৭ ধারায় পুলিশের রুজু করা মামলা স্থগিত করে দেন। তবে বিচারপতি রায় দেওয়ার আগে মন্তব্য করেন এটি পুলিশের ‘আইনি অধিকারের অপব্যবহার’।

ইলাহাবাদ হাইকোর্টে দায়ের করা আবেদনে মুহাম্মদ সাদ জানিয়েছিলেন, প্রাথমিকভাবে পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে ধারা ২৬৯ এবং ২৭০ প্রয়োগ করেছিল অর্থাৎ তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছিল ‘ভয়ানক রোগ ছড়ানো’র। কিন্তু পরে সেই চার্জশিট প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। এরপর নতুন যে চার্জশিট দায়ের করা হয় তাতে পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে ৩০৭ ধারায় ‘হত্যার চেষ্টা’র অভিযোগ আনে। এ দিন দু’পক্ষের সওয়াল শোনার পর আদালত মন্তব্য করে সমস্ত তথ্য যাচাই করার পর অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পুলিশের ৩০৭ ধারা প্রয়োগ আসলে তাদের ‘আইনি ক্ষমতার অপব্যবহার’। আদালত রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে মউয়ের পুলিশ এসএসপি’র মাধ্যমে তারা যেন এই মামলায় তাদের জবাব পেশ করে। জবাব দিতে বলা হয়েছে তদন্তকারী পুলিশ অফিসারদেরকেও। আদালতের একক বেঞ্চ এই মামলার সিও-কে হলফনামা দিয়ে জানাতে বলেছে যে তদন্তে গিয়ে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কী এমন তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে যার ফলে চার্জশিট বদল করে নতুনভাবে চার্জশিটে ৩০৭ ধারা প্রয়োগ করা হল।

প্রসঙ্গত, গত মার্চ মাসে দিল্লিতে যখন করোনা সংক্রমণ শুরু হয়েছিল তখনই দিল্লির নিজামুদ্দিনে তবলিগ জামাতের সভা চলছিল। এই সভা কিন্তু শুরু হয়েছিল করোনা সংক্রমণের আগে থেকেই। কেন্দ্রীয় সরকার সহ বিজেপি নেতারা করোনা মহামারিকে এক সাম্প্রদায়িক রুপ দিতে তবলিগের সভা এবং সেখানে যোগ দিতে আসা তবলিগের জামাতিদের ব্যবহার শুরু করেন। তবলিগ জামাতের বিরুদ্ধে শুরু হয় ব্যাপক নেতিবাচক প্রচার। এরপর সেই প্রচার গোটা মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে দানা বাঁধে। উত্তরপ্রদেশে মে মাসে যোগী আদিত্যনাথের সরকার একটি অধ্যাদেশ জারি করে। সেখানে বলা হয়, জেনে শুনে কেউ করোনা ছড়িয়ে মৃত্যুর যদি কারণ হয় তাহলে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হবে। অভিযুক্ত মুহাম্মদ সাদকে গ্রেফতার করা হয়েছিল সেই সময়। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত ছিল উত্তরপ্রদেশে অর্ডিন্যান্স জারি করা হয়েছিল এক বিশেষ সম্প্রদায়কে নিশানা করতে। অন্যান্য রাজ্যেও তবলিগি জামাতের ব্যক্তিদের গ্রেফতার করা হয়।

কিন্তু তবলিগি জামাতের বিরুদ্ধে অধিকাংশ মামলাই টেকেনি। সিংহভাগ তথাকথিত অভিযুক্ত আদালতের নির্দেশে ছাড়া পেয়েছেন। তারপরেই আসে বম্বে হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়, যেখানে বলা হয় যারা তবলিগি জামাতের সভায় যোগ দিয়েছিলেন তাদের ‘বলির পাঁঠা’ করা হয়েছে।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only