শুক্রবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২০

দত্তাবাদ অগ্নিকাণ্ডের পর নতুন করে বাঁচতে লড়াই কলোনিবাসীদের



নির্মাল্য সেনগুপ্ত

বিধ্বংস্বী আগুন কেড়ে নিয়েছে মাথার ছাউনি। মঙ্গলবার রাতে পুড়ে খাক হয়েছে হাড়ি, কড়া, জামা-কাপড় সহ ঘরের যাবতীয় (খাট, চৌকি, আলমারি, পাখা) জিনিসপত্র। কিন্তু জীবন থেমে নেই। শেষের পরই ফের নতুন করে শুরু। কালের এই নিয়মেই অগ্নিকাণ্ডের কয়েক ঘন্টা পর থেকেই ফের পোড়া জিনিসপত্র সরিয়ে বেঁচে থাকার লড়াইয়ে নেমে পড়েছেন দত্তাবাদের পূর্বাশা আবাসনের সামনের প্রায় আড়াইশো কলোনিবাসী। এলাকায় গিয়ে দেখা গেল বাসিন্দারা পোড়া জিনিস পরিষ্কার করছেন। মূল্যবান কিছুর খোঁজে হন্যে কালো ছাই ঘেঁটে যাচ্ছেন। কেউ আবার কয়েকদিনের ক্লান্তি কাটাতে পোড়া ধংস্বস্তুপের মধ্যেই খোলা আকাশের নীচে বস্তা পেতে খানিক ঘুমিয়ে নিচ্ছেন। আবার কেউ কেউ পূর্বাশা হাউসিংয়ের কমিউনিটি সেন্টারে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। একাংশকে দেখা গেল তাবু খাটানো শিবিরে দুপুরের খাওয়া সেরে নিচ্ছেন। যেমন, গোপাল নাইয়া। তাঁর বৃদ্ধ মা, দুই ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে দীর্ঘ প্রায় বছর ৪০ এর ধরে দত্তবাদের ওই ঝুপড়িতে বসবাস করেন। 


মঙ্গলবার সন্ধ্যায় যখন আগুন লাগে তখন কলোনিতে ছিলেন পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা। কিন্তু গোপালবাবু তখন সল্টলেকে টোটো চালাচ্ছিলেন। খবর পেয়ে কোনওরকমে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন তিনি। কিন্তু ততক্ষণে তাঁর ঘর কড়াল আগুনের গ্রাসে। পরিবারের সকলে কোনওরকমে ঘর থেকে বেরোতে পেরেছে। দুটি মাত্র গ্যাস সিলিন্ডার ঘর থেকে ছেলেরা বের করতে পেরেছে। বাকি সব কিছু পুড়ে খাঁক হয়ে গেছে। নিজেরা বাঁচতে গিয়ে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সহ ঘরের আসবাব ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিছুই রক্ষা করতে পারেননি তাঁরা। ইতিমধ্যেই প্রশাসনের তরফে ক্ষতিগ্রস্ত ৪০ টি পরিবারকে চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় আলোরও ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। বুধবার ও বৃহস্পতিবার সরকারের তরফে রান্না করা খাবার, জামাকাপড়, কম্বল, ত্রিপল দেওয়া হয় ক্ষতিগ্রস্তদের। আশপাশের বাসিন্দারাও ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যের জন্য নানাভাবে এগিয়ে আসেন। যাতে আগামী কয়েকদিন কেউ অভুক্ত না থাকে। এছাড়াও কিভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থাপনা করা হবে তা নিয়েও চলছে পরিকল্পনা। 


এদিকে এদিনও পোড়া কলোনির সামনে দাঁড়িয়ে কাঁদছিলেন মালতি, কমলা, রীতা নামে তিন মধ্যবয়স্ক মহিলা। ঘরের প্রয়োজনীয় নথিপত্রটুকুও অনেকে উদ্ধার করতে পারেননি, তার জন্য হা-হুতাশ করছেন অনেকে। অন্যদিকে, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি কিভাবে ঘটল তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে কলকাতা পুলিশ। ইতিমধ্যেই অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। পুলিশের তদন্তে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে ঝুপড়ির মধ্যে রান্নার সময় কোনওভাবে আগুন লেগে থাকতে পারে। অন্যান্য সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে বেশ কিছু নমুনাও সংগ্রহ করা হয়েছে ঘটনাস্থল থেকে। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only