শনিবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২০

ফের রাজ্যকে তোপ রাজ্যপালের



পুবের কলম প্রতিবেদকঃ রাজ্যের দায়িত্বভার নেওয়ার পর থেকেই বাংলার সরকারের সঙ্গে নানা কারণে সম্পর্ক তিক্ত থেকে তিক্ততর হয়েছে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকরের। শাসকদল ও সরকারের বিরুদ্ধে মন্তব্য করে তৃণমূল নেতৃত্বের আক্রমণের মুখেও পড়েছেন তিনি। শুক্রবারও ডায়মন্ড হারবারে বিজেপি সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডার কনভয়ে হামলার ঘটনাকে অস্ত্র করে সরকারকে অস্বস্থিতে ফেলতে নেমে পড়লেন রাজ্যপাল। রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে রাজ্যকে দুষে ধনকর বিঁধলেন, আগুন নিয়ে খেলবেন না। ডায়মন্ড হারবারে বৃহস্পতিবার যা হয়েছে তাতে মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষমা চাওয়া উচিত। এ দিন রাজ্যপাল রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান তথা মুখ্যমন্ত্রীকে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের পরামর্শ দেন। উলটোদিকে রাজ্যপালের এহেন আক্রমণের পর এই নিয়ে মুখ খুলেছে তৃণমূলও। রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম থেকে শুরু করে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এই নিয়ে উলটো রাজ্যপালকে কাঠগড়ায় তুলেছেন। তাঁদের অভিযোগ, কেন্দ্রের শাসকদলের কর্মীদের মতো আচরণ করছেন রাজ্যপাল।


নাড্ডার কনভয়ে হামলার পর থেকে রাজ্য রাজনীতি উত্তাল। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এ দিন ময়দানে নামেন রাজ্যপাল। এ দিন সকালে রাজভবনে সাংবাদিক সম্মেলন করে রাজ্যের শাসকদল, পুলিশ এবং রাজ্য সরকারকে একহাত নিয়েছেন তিনি।  তিনি তাঁর ভাষণে প্রশ্ন তোলেন, ‘মানবাধিকার দিবসে রাজ্যে বিরোধীদের রাজনৈতিক কর্মসূচি চলাকালীন হামলার ঘটনা ঘটল কী করে? এটা লজ্জাজনক। সংবিধানের পক্ষে অবমাননাকর। এ ধরনের ঘটনা যেন আর না ঘটে। মুখ্যমন্ত্রী নাড্ডাকে উদ্দেশ্য করে যেভাবে কটাক্ষ করেছেন, তা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে রাজ্যপাল বলেন, একজন মুখ্যমন্ত্রী কী করে এমন ভাষাপ্রয়োগ করেন। ভারতীয়দেরই বহিরাগত বলছেন মুখ্যমন্ত্রী। বারবার সতর্ক করেছি ওনাকে। মুখ্যমন্ত্রী দয়া করে আগুন নিয়ে খেলবেন না। ভারত এক দেশ। এখানে সব নাগরিক সমান। রাজ্যপালের কথায়, রাজ্যের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো প্রতিবাদের সুযোগই পাচ্ছে না। নৃশংসভাবে তাঁদের কার্যক্রম দমন করছে রাজ্য সরকার। বারাবার সতর্ক করা সত্ত্বেও বাংলার আইন-শৃঙ্খলার অবনতি হচ্ছে। 


তিনি আরও বলেন, সরকারি আমলারাও রাজনৈতিক আচরণ করছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, রাজ্যের নিরাপত্তা উপদেষ্টা পদে থাকা আধিকারীকের কাজটা কী? অবসরের পরও কেন এক আধিকারিককে সুযোগসুবিধা দেওয়া হচ্ছে? এডিজি আইন-শৃঙ্খলা পদে থাকার সময় একজন আমলা নিজেই মানবাধিকার লঙ্ঘনে অভিযুক্ত ছিলেন। রাজ্যপালের অভিযোগ, এ ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিলেও তাঁর কোনও জবাব আসেনি। 


রাজ্যে শিল্প এসেছে, কি না তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করে রাজ্যপাল  প্রশ্ন তোলেন, রাজ্যে কত শিল্প এসেছে? শিল্প সম্মেলন করে ১২ লক্ষ কোটির বিনিয়োগের প্রস্তাব রয়েছে বলে রাজ্য সরকার দেখিয়েছে। কিন্তু সেইমতো বিনিয়োগ তো রাজ্যে হয়নি। তাঁর প্রশ্ন, মাটির নিচে না, উপরে শিল্প হয়েছে? তাঁর ব্যাখ্যা তাঁর একাধিক প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারার জন্যই রাজ্য নানা ধরনের অভিসন্ধি করছে। এ দিকে রাজ্যপালের এই প্রতিক্রিয়ার পর রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বলেছেন, দিল্লি ডাকুক, রাজ্যপাল ডাকুন বা প্রধানমন্ত্রী ডাকুন তাতে কিছু যায়, আসে না। মানুষই শেষ কথা বলবেন।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only