মঙ্গলবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২০

উপাচার্যের মিথ্যার জবাব অমর্ত্যের



দেবশ্রী মজুমদার, রামপুরহাট‌: বিশ্বভারতীর উপাচার্যর মিথ্যাচারের কড়া জবাব দিলেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। মেল মারফত অমর্ত্য সেন তাঁর বক্তব্য জানিয়েছেন বিশ্বভারতী ইউনিভার্সিটি ফ্যাকাল্টি অ্যাসোসিয়েশনকে।


গত ৮ ডিসেম্বর বিশ্বভারতীর ফ্যাকাল্টিদের সাথে এক ভার্চুয়াল বৈঠকে উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর করা অমর্ত্য সেন সম্পর্কে অপমানজনক বক্তব্য ঘিরে বিতর্ক দানা বাঁধে। অমর্ত্য সেন নাকি বলেন, আমি ভারত রত্ন বলছি। এভাবে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ কোনদিন পরিচয় দেন না। আর এই কথার জবাব ইমেইল মারফত দিয়েছেন স্বয়ং নোবেল জয়ী।  বৈঠকে উপস্থিত ভিবিউফার নেতৃত্বদের অভিযোগ, ফ্যাকাল্টিদের নিয়ে অনলাইন বৈঠকে উপাচার্য দাবি করেন, দিনকয়েক আগে অমর্ত্য সেন তাকে ফোন করেছিলেন। ‘আমি ভারতরত্ন অমর্ত্য সেন বলছি’, এইভাবে পরিচয় দিয়ে অমর্ত্য সেন তার বাড়ির সামনে থেকে হকার উচ্ছেদের বিরোধিতা করেন। ভিবিউফা’র সদস্য এক বরিষ্ঠ অধ্যাপকের দাবি, বৈঠকে উপাচার্য এও বলেছেন অমর্ত্য সেন তাকে ফোনে জানিয়েছেন, তাঁর মেয়ে শান্তিনিকেতনে গেলে এই হকারদের কাছে থেকে জিনিসপত্র কেনেন। হকারদের উঠিয়ে দিলে তার অসুবিধা হবে। 


স্বাভাবিকভাবেই অমর্ত্য সেন এমন কথা উপাচার্যকে ফোনে বলেছেন কারও বিশ্বাসযোগ্য হয় নি। সাথে সাথে উপাচার্যর এমন মিথ্যাচারের প্রতিবাদ জানিয়ে ভিবিউফা প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি, ইউজিসি’র চেয়ারম্যানের কাছে উপাচার্যর বিরুদ্ধে অভিযোগ জানান। সেই অভিযোগ ভিবিউফা লিখেছে, ‘উপাচার্য দাবি করেন, অমর্ত্য সেন একজন স্বার্থপর মানুষ। উপাচার্য ফোনে অমর্ত্য সেনকে বলেন, আপনি তাহলে নিজের বাড়িটা হকারদের জন্য ছেড়ে দিন। কিন্তু অমর্ত্য সেন তাতে আপত্তি করেন।’’


একজন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ সম্পর্কে উপাচার্যর এহেন মনগড়া ভাষ্য পরিপ্রেক্ষিতে ভিবিউফা মেল করে সমস্তটা জানান অমর্ত্য সেনকে। এদিন সেই ই-মেলের উত্তর এসেছে ভিবিউফার কাছে। কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন অমর্ত্য সেন। অমর্ত্য সেন লিখেছেন, ‘আমার সাথে উপাচার্যর ফোনে কোনও কথোপকথনই হয় নি। সেই সঙ্গে আরও উল্লেখ করি, আমি নিজেকে কখনও ভারতরত্ন বলে কোথাও পরিচয় করাই না। আমার মেয়ের সবজি কেনার স্বার্থে হকারদের বিরক্ত না করার কোনও কথা আমি কোনওদিন বলেছি বলে মনে পড়ে না। এবং সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য আমার শান্তিনিকেতনের বাড়ির সামনে কোনও হকারই বসে না।’


অমর্ত্য সেন তাঁর মেল-এ আরও উল্লেখ করেছেন, ‘যেভাবে বিশ্বভারতি সাধারন মানুষের জীবনে হস্তক্ষেপ করছে, তাদের যাতায়াতের পথে পাঁচিল তুলে মানুষকে বিব্রত করছে সেটাকে আমি ভাল বলে মনে করি না। উপাচার্যর অদ্ভুত অভিযোগের সাথে সম্পর্কযুক্ত না হলেও, আমি বলতে পারি আমার মা শান্তিনিকেতনের বাড়িতে বসবাসের সময় হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধেই ছিলেন। তবে আমাদের বাড়ির সামনে নয়, পিয়ারসন পল্লীতে। আমাদের বাড়ির সামনে কোনও হকারই নেই।’  


অমর্ত্য সেনের উত্তর মেলার পর শান্তিনিকেতন জুড়ে তৈরী হওয়া বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে। সমালোচনার ঝড় তীব্র হয়েছে। ভিবিউফার সভাপতি সুদীপ্ত ভট্টাচার্য ও সম্পাদক সমর সাহা উপাচার্যর এহেন মিথ্যাচার, একজন নোবেলজয়ী সম্পর্কে বেমালুম অপমানজনক অভিযোগ করার বিহিত চেয়ে ইউজিসি, কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক থেকে শুরু করে আচার্য পর্যন্ত চিঠি পাঠিয়েছে। ভিবিউফার নেতৃত্বরা বলেছেন, ‘‘অমর্ত্য সেনের পরিচিতি বিশ্বব্যাপী। আমি ভারতরত্ন বলছি এমন আত্বস্তুতির ঢঙে অমর্ত্য সেন কথা বলতে পারেন এটা কেউ বিশ্বাস করে না"।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only