শুক্রবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২০

অজগর খাবেন মার্কিনিরা, সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় ফ্লোরিডাবাসী



ফ্লোরিডা, ২৫ ডিসেম্বরঃ কথায় বলে যত দোষ নন্দ ঘোষ। চিনাদেরকে বলা হয় সর্বভুক। কুকুর থেকে সাপ-ব্যাঙ, আরশোলা-বাদুড়, চামচিকি ইত্যাদি জীবজন্তু ও কীটপতঙ্গ খায় কারা? একবাক্যে সবাই জবাব দেবেন চিনারা। এসব খায় বলেই চিনাদের ওপর করোনার একতরফা দায় চেপেছে। কিন্তু আমেরিকার ফ্লোরিডা প্রদেশের মতো এলিট জায়গাতেও দেখা যাচ্ছে মানুষ সাপ খাবার জন্য মুখিয়ে রয়েছেন। বিজ্ঞানীদের সুপারিশ মেনে সরকারি সবুজ সংকেত পেলেই অজগরকে রান্না করে খাবেন মার্কিনিরা। এই অপেক্ষায় রয়েছেন ফ্লোরিডার এভারগ্লেডের বাসিন্দারা। এই এলাকায় বার্মিজ পাইথনকে মানুষ খেতে পারবে কি না, খেলে কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হবে কি না, এসব নিয়ে জোরকদমে গবেষণা চালাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। তাঁরা ইতিবাচক সুপারিশ করলেই প্রশাসনিক অনুমোদন মিলবে। তাহলেই এভারগ্লেডবাসীর খাদ্য তালিকায় যুক্ত হবে অজগর।


ফ্লোরিডা ফিশ অ্যান্ড ওয়াইল্ড লাইফ কনজারভেশন কমিশন স্বাস্থ্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রকের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে। এই সংস্থার বিশেষজ্ঞরা খতিয়ে দেখছেন বার্মিজ পাইথনের শরীরে পারদ থাকলেও তা মানুষের জন্য ক্ষতিকারক কিনা। যদি মানুষের উদরপূর্তির জন্য এই প্রজাতির দীর্ঘকায় ও মাংসবহুল সাপ নিরাপদ হয়, তাহলে রোজকার খাদ্য তালিকায় ঠাঁই পাবে অজগর। 


উল্লেখ্য, এই সাপের বিষ নেই। তাই ১৯৮০ সালে এই প্রজাতির সাপ ধরে এনে ফ্লোরিডার এভারগ্লেডসের জঙ্গলে ছাড়া হয়। ৪০ বছর পর এখন তাদের এতটাই বংশবিস্তার হয়েছে যে এখন তারা মানুষের জন্য রীতিমতো হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে। তাই সম্প্রতি ৬ হাজারেরও বেশি বার্মিজ পাইথনকে ধরে নিয়ে গিয়ে অন্য প্রদেশের জঙ্গলে ছাড়া হয়। তবুও অনেকেই আশঙ্কা করছেন, কবজি বুড়িয়ে নিত্যদিন পাইথন খেতে শুরু করলে খুব অল্প সময়েই এই প্রজাতির সাপ বিলুপ্ত হয়ে যাবে। ফ্লোরিডার সাপ বিশেষজ্ঞ ডোনা কালিল বলেন, এখানে অজগরের সংখ্যা এতটাই বেড়েছে যে, গবাদি পশু-পাখির জন্য তারা হুমকি হয়ে উঠেছে। সব স্তন্যপায়ী প্রাণীকেই শিকার করছে এরা। কাউকে রেহাই দিচ্ছে না। তাই অবিলম্বে পাইথনের সংখ্যা কমানো দরকার।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only