রবিবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২০

অধ্যাপক ওয়ায়েজুল হককে নিয়ে গেরুয়া শিবিরে অস্বস্তি এবার বাংলায় মুসলিম ভোট চাইছে বিজেপি



বিশেষ প্রতিবেদক­

অমিত শাহ এলেন। শুভেন্দু যোগ দিলেন বিজেপি’তে। তবে যতটা প্রচার হয়েছিল, তা কিন্তু হল না। মাত্র ৯ জন বিধায়ক, আর ১ জন সাংসদ বহু ঘোষিত মেদিনীপুরের জনসভায় বিজেপিতে যোগ দিলেন। এদিকে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, এত প্রচার ও অর্থবল থাকা সত্বেও মেদিনীপুর কলেজের মাঠটি কিন্তু ভরেনি। কল্যাণের বক্তব্য, তিনি ওই মাঠে এক সময় ফুটবল খেলেছেন। তাঁর জানা আছে, কলেজ মাঠটি কত বড়। কল্যাণের মতে, বিজেপি এবং নব্য বিজেপিরা নিজ নিজ কেন্দ্র ও বিভিন্ন জেলা থেকে লোক নিয়ে এসেছিল কিন্তু তাও এই অবস্থা।


 তবে বিজেপি বেশ খানিকটা অস্বস্তিতে পড়েছে অধ্যাপক ওয়ায়েজুল হক’কে নিয়ে। প্রথম থেকে প্রচার ছিল বঙ্গীয় সংখ্যালঘু বুদ্ধিজীবী মঞ্চের সভাপতি জনাব ওয়ায়েজুল হক মেদিনীপুরে অমিত শাহের সভায় বিজেপিতে যোগ দেবেন। এই তরুণ নেতা সংখ্যালঘুদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়। তাঁকে নিতে পারলে বিজেপি যে লাভবান হত তাতে সন্দেহ নেই। 


শনিবার সকাল থেকে এমনকী মেদিনীপুরে অমিত শাহের সভা মঞ্চ থেকেও এবিপি আনন্দ এবং বেশ কয়েকটি টিভি চ্যানেল প্রচার করতে থাকে, সংখ্যালঘু নেতাদের মধ্যে যোগদানকারী হিসেবে প্রথম নামটিই হচ্ছে অধ্যাপক ওয়ায়েজুল হক-এর।  ইতিমধ্যে দু’একটি হোয়াটসঅ্যাপ মাধ্যম সস্তা  ব্রেকিং নিউজ দেওয়ার নামে ওয়ায়েজুল হককে স্বঘোষিত সংখ্যালঘু নেতা, জনভিত্তিহীন, কাগুজে বাঘ ইত্যাদি বলে তীব্র ব্যক্তিগত আক্রমণকে তুঙ্গে তোলে।


প্রচার করতে শুরু করে যে ওয়ায়েজুল হক ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ করে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। কিন্তু ওয়ায়েজুল হক ‘পুবের কলম’কে প্রথম থেকেই বলে আসছিলেন, তিনি তৃণমূলে আছেন এবং তৃণমূলে থাকবেন। অন্য কাউকে নয়, তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সুব্রত বক্সীকে দেখে তৃণমূলে রয়েছেন। তাঁর মতে, তৃণমূলে থাকলেই তিনি সংখ্যালঘুসহ সমস্ত মানুষের জন্য কাজ করতে পারবেন।


 পরে দেখা যায়, তিনি আদৌ অমিত শাহের যোগদান সভায় উপস্থিত হননি। ফলে বিজেপি নেতাদের যে ঘোরতর  অস্বস্তি হয়েছে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। এ কথা অবশ্য সত্য, কেন্দ্র ও রাজ্য পর্যায়ে বিজেপি নেতৃবৃন্দ ওয়ায়েজুল হককে দলে পাওয়ার জন্য ব্যাপক চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তিনি তাঁদের বড়বড় প্রতিশ্রুতিকে উপেক্ষা করেছেন।


অবশ্য খানিকট বিস্ময়ের হলেও বিজেপির বিভিন্ন পদক্ষেপে স্পষ্ট বার্তা পাওয়া যাচ্ছে যে বিজেপি পশ্চিমবাংলায় মুসলিম ভোটের প্রত্যাশি। তাই তাঁরা ছোটবড় বেশকিছু মুসলিম নেতাকে দলে টানতে চাইছেন। এইজন্য তাঁরা কবিরুল ইসলামের  মতো একজন বিতর্কিত যুবককে দলে নিতে দ্বিধা করেননি। এই কবিরুল ইসলাম দাবি করেছে যে, সে তৃণমূল সংখ্যালঘু সেলের সাধারণ সম্পাদক। 


কিন্তু সংখ্যালঘু সেলের প্রধান দুই কর্মকর্তা মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরি এবং বিধায়ক হাজি নুরুল স্পষ্ট করে বলেছেন, তাঁরা ওই কবিরুল ইসলামকে সংখ্যালঘু সেলের জেনারেল সেক্রেটারি হিসেবে নিয়োগ করে কখনও কোনও চিঠি দেননি। এছাড়া এই কবিরুল ইসলাম দাবি করতেন, তিনি আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ইউনিয়নের নাকি সভাপতি ছিলেন। এমনকী তৃণমূল ভবনের একটি বর্ধিত সভায় কবিরুল নিজের পরিচয় হিসেবে স্বয়ং ‘দিদি’কে বলেছিলেন,  তিনি নাকি আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি।


তবে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন রেজিস্ট্রার এবং উপাচার্য পুবের কলম’কে জানান, আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনও ছাত্র ইউনিয়নই নেই। তাই মনে হচ্ছে, মুসলিম সমর্থন লাভের জন্য বিজেপি এখন যে মুসলিমকেই পাচ্ছে, তাকেই দলভুক্ত করতে আগ্রহী। 


দেখা গেল, মেদিনীপুরের সভার আগে ক্ষুদিরামকে স্মরণ করতে গিয়ে অমিত শাহ হঠাৎ শহীদ বিপ্লবী আসফাকউল্লাহ’র নাম উচ্চারণ করলেন। তাঁকে নমনও করলেন। শুভেন্দু অধিকারিও মেদিনীপুরের সভায় নমস্কারে সঙ্গে সালামও জানালেন। বিজেপির ওয়াকিফহাল মহল বলছে, শুভেন্দু অধিকারি এবং মুকুল রায় তৃণমূলে থাকাকালীন মুসলিম সমাজের কাছে গ্রহণযোগ্য ছিলেন। 


তাঁদের সেই যোগাযোগকে কাজে লাগিয়ে মুসলিম ভোটে ভাগ বসানো যাবে বলে বিজেপি’র ভোট কৌশলিদের ধারণা। অবশ্য বিজেপি আগে বলত, তাঁদের মুসলিম ভোটের কোনও প্রয়োজনই নেই। মেদিনীপুরের সভায় কিন্তু কোনও সাম্প্রদায়িক ইস্যু, সিএএ, অনুপ্রবেশ, এনআরসি---এই সব কোনও কথাই কোনও নেতা তোলেননি। কিন্তু এখন পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম ভোটের দিকে হাত বাড়ালেও তাতে ভবি হয়তো ভুলবে না বলেই অনেকে মনে করছেন। 


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only