বুধবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২০

বাবরির বদলি মসজিদ ‘নাজায়েজ’‌: ল’ বোর্ড



পুবের কলম, নয়াদিল্লিঃ উত্তরপ্রদেশ সুন্নি সেন্ট্রাল ওয়াকফ বোর্ড শনিবার ৫ একর জমির উপর মসজিদ এবং অন্যান্য পরিষেবা ভবনের ব্লু প্রিন্ট প্রকাশ করেছে। অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ জমি মামলায় গত বছরের নভেম্বরে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয়, মসজিদের স্থানে রাম মন্দির নির্মাণ করা হবে। আর তার পরিবর্তে ওয়াকফ বোর্ডকে অন্য জায়গায় ৫ একর জমি দেওয়া হবে। সেই নির্দেশমতো উত্তরপ্রদেশ সরকার অযোধ্যার উপকণ্ঠে ধন্নিপুর গ্রামে ৫ একর জমি বরাদ্দ করে বাবরি মসজিদ নির্মাণের জন্য। কিন্তু সেখানে শুধু মসজিদই হবে না, সেখানে থাকবে গবেষণা কেন্দ্র, কমিউনিটি কিচেন, হাসপাতাল ইত্যাদি পরিষেবামূলক ব্যবস্থা।


তবে অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ডের বাবরি মসজিদ কমিটি ওই স্থানে মসজিদ নির্মাণের প্রস্তাবকে ‘নাজায়েজ’ ঘোষণা করেছে। ইসলামিক আইন অনুযায়ী সেখানে মসজিদ নির্মাণ করা যাবে না বলে তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ল’বোর্ড সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে এই জমি বরাদ্দের রায়কে প্রত্যাখান করেছে। তাই ইন্দো ইসলামিক কালচারাল ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের (যেটি সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড মসজিদ তৈরির জন্য বানিয়েছে) মসজিদ এবং অন্যান্য ভবনের ডিজাইন করার প্রকাশ করার পরে বিতর্ক শুরু হয়েছে দেশজুড়ে।


জাফরইয়াব জিলানি বাবরি মসজিদ মামলার অন্যতম আইনজীবী ছিলেন। তিনি প্রায় শুরু থেকেই এই মামলার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। মামলার প্রতিটি পুঙ্খানুপুঙ্খ বিষয় তিনি জানেন। অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’বোর্ডের তিনি একজন সদস্য এবং বাবরি মসজিদ কমিটির একজন সদস্য। তিনি জানিয়েছেন, অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’বোর্ডের জমি সংক্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গি সুপ্রিম কোর্টের সামনে আমরা খ‍ুবই পরিষ্কারভাবে উপস্থাপন করেছি। এ ধরনের জমি নেওয়া নাজায়েজ এবং শরিয়তি আইন ও ভারতীয় সাংবিধানিক আইনের বিরুদ্ধাচরণ। মসজিদের জমির বদলে অন্য জায়গায় জমি নেওয়া বেআইনি। এটা আমরা জানিয়ে দিয়েছি আগেই। যখন সেই জমির উপর মসজিদ নির্মাণ করা হবে সেটাও বেআইনি এবং আমরা এ ধরনের কোনও ‘নাজায়েজ’ মসজিদ নির্মাণ করতে চাই না। 


তবে সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড এই জমি গ্রহণ করেছে এবং একটি ট্রাস্ট গঠন করেছে বাবরি মসজিদ নির্মাণের জন্য। জিলানি জানাচ্ছেন, ওয়াকফ বোর্ডের ৪ জন সদস্য এই জমি গ্রহণের ব্যাপারটি স্বীকার করেছিলেন। কিন্তু অন্য দু’জন সদস্য তা প্রত্যাখান করেন। এমনকী অযোধ্যার ওই জায়গা ছেড়ে একদম বাইরে এক প্রত্যন্ত গ্রামের জমিপ্রদান মেনে নিয়েছে তারা। জিলানি আরও জানাচ্ছেন, বোর্ডের যে সদস্যরা এখন রয়েছেন, তাদের পাঁচ বছর অন্তর নির্বাচিত করা হয়। ২০২০-এর মার্চের ৩১ তারিখে তাদের সদস্যপদের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। ওয়াকফ আইন অনুযায়ী নতুন বোর্ড গঠন করতে হবে। কিন্তু সরকার তাদের মেয়াদ ৬ মাস বাড়িয়ে দিয়ে ওয়াকফ আইন ভঙ্গ করেছে।


এটা করা হয়েছে বাবরি মসজিদের আদলে ওই সরকারের দেওয়া জমিতে নতুন বাবরি মসজিদ নির্মাণ করার জন্য। কারণ, উত্তরপ্রদেশের বর্তমান বিজেপি সরকার নিশ্চিত নয় যে নয়া বোর্ড গঠন করা হলে তার নতুন সদস্যরা সরকারের এই নীতি মেনে নেবে কি না। সেই আশঙ্কা থেকেই পুরনো বোর্ডের সদস্যদের মেয়াদ বাড়িয়ে দিয়ে মসজিদ এবং অন্যান্য পরিষেবামূলক প্রকল্প র‍ূপায়ণ করার কাজে হাত দিচ্ছে তারা। একই সুরে কথা বলেছেন বাবরি মসজিদ কমিটির আরেক কনভেনর এসকিউআর ইলিয়াস। 


তিনি বলেন, একটি মসজিদ কিংবা জমি যার উপরে মসজিদ ছিল, বা সেই জমি যা মসজিদ নির্মাণের জন্য দান করা হয়েছে স্থায়ীভাবে, সেই জমি বিক্রি করা যেতে পারে না কিংবা হস্তান্তরিত করা যেতে পারে না কিংবা সেই জমির বদলে অন্য কোনও জমি নেওয়া যায় না ইসলামি আইন অনুযায়ী। ইসলামি আইন অনুযায়ী সেই জমিতে মসজিদ নির্মাণও জায়েজ হবে না বলে তিনি জানিয়েছেন। 


অন্যদিকে, উত্তরপ্রদেশ সুন্নি সেন্ট্রাল ওয়াকফ বোর্ড মসজিদ নির্মাণের কাজে এগিয়ে গেছে। তারা এই ৫ একর জমির উপর বেশ কিছু প্রকল্প র‍ূপায়ণের কাজে হাত দিয়েছে। সাদামাটা একটি মসজিদের পাশাপাশি সেখানে হাসপাতাল, গবেষণা কেন্দ্র ইত্যাদি থাকবে। যে ডিজাইন পেশ করেছে বোর্ড, সেখানে দেখা যাচ্ছে মসজিদের কোনও মিনার নেই। মিনার ছাড়া মসজিদ সাধারণত দেখা যায় না এবং এটি বাবরি মসজিদের নামে নামকরণ করা হবে না।  নাম হবে ধন্নিপুর মসজিদ। 


তাই অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ড স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নতুন জমিতে যে মসজিদ তৈরি হবে সেটি ‘মসজিদএদিরার’। মুনাফিকরা এ ধরনের মসজিদ মদিনায় তৈরি করেছিল ইসলামের ক্ষতিসাধন করার জন্য। পরবর্তীতে এটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড ধন্নিপুরে সেটাই কি করতে চলেছে, প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only