শনিবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০২০

হিংসা বৃত্তি ছেড়ে, আল্লা ভগবান খোঁজার গান শোনাবেন বাসুদেব দাস বাউল, শুনবেন অমিত শাহ!

 


দেবশ্রী মজুমদার, শান্তি নিকেতন, ১৯ ডিসেম্বর: " ওরে মানুষ! দেখবি যদি আল্লা ভগবান।/ ছেড়ে দে তোর হিংসা বৃত্তি, সেই তো বিঘ্ন অতি প্রধান। " আশ্রমে মাটিতে বসিয়ে বাসুদেব দাস বাউল ও তাঁর ছেলে শুভময় দাস বাউল ঠিক এই গানটি শোনাবেন অমিত শাহকে। 


সুদূর গুজরাট থেকে শান্তিনিকেতনে এই গানের দূরত্ব ও তাৎপর্য যাই হোক না কেন, অমিত শাহ বেছে নিয়েছেন শাসকদলের দাপুটে নেতা কেষ্টর খাস তালুক ও বাউল পরিবেশ। যে দুটোই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের খুব প্রিয়। মুখ্য মন্ত্রী বাউলদের জন্য বাউল একাডেমী করেছেন। তাঁদের জন্য মাসিক ভাতার ব্যবস্থা করেছেন। যে বাসুদেব দাস বাউলের বাড়িতে অমিত শাহ আতিথ্য গ্রহণ করতে চলেছেন। তিনিও সরকারি মাসিক ভাতা পান। 

বাউল পরিবারের সবাই বাউল। এমনিতে তাঁদের চাওয়া পাওয়া কিছু নেই বলে জানিয়েছেন বাসুদেব দাস বাউল। তিনি বলেন, উনার কাছে চাওয়া পাওয়ার কিছু নেই। তবে আমাদের বাউল জীবন সম্পর্কে অনেক কিছু বলার আছে। স্বামীর মতো ঊর্মিলা দাস বাউলেরও আনন্দের সীমা নেই। তাঁদের দুই সন্তান। ছেলের নাম শুভময় দাস। মেয়ে সুমনা দাস। বাউল গান তাঁদের পেশা। বাড়ি বোলপুরের শ্যামবাটির সুভাষ পল্লীতে।চারটি রুমের একটি পাকা বাড়ি। একটি টিনের চালের মাটির বাড়ি আছে। সেটাই তাঁদের আশ্রম। সেখানে আছে শিবের মূর্তি আছে। সেই আশ্রম ঘরে মাটিতে বসবেন দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ। শুনবেন বাউল গান। এই গানটি বাবা ছেলে মিলে গাইবেন।

প্রথমে " এক তারা" দিয়ে বরণ করে নেওয়া হবে অমিত শাহকে। বাড়িতে ঢোকার আগে বাউল রীতি অনুযায়ী গুরুজন বরণ করা হবে। সেই গুরুজন বরণ হিসেবে কাঁসার থালায় পা ধুইয়ে দেওয়াই সাবেকি নিয়ম। তারপর আশ্রম ঘরে বাউল গান শুনবেন তিনি। সেটা শেষ হতেই পাশের ঘরে দুপুরের খাবার খাবেন অমিত শাহ। মোট ৬ জন উপস্থিত থাকবেন সেখানে। যাঁদের মধ্যে রয়েছেন অমিত শাহ, কৈলাস বিজয় বর্গীয়, মুকুল রায় ও অনুপম হাজরা ও আরও দুই জন। কাঠের পিঁড়িতে বসে মধ্যাহ্নের আহার গ্রহণ করবেন অমিত শাহ। সামনে থাকবে কাঠের টু্ল। ঊর্মিলা দাস বাউল নিজের হাতে রান্না করা খাবার পরিবেশন করবেন। খাবারের মেন্যুতে থাকছে ভাত, রুটি, মুগের ডাল আলু পোস্ত, বেগুন ভাজা, পটল ভাজা, পাঁপড়, চাটনি ও টক দই খাবেন। 

বাসুদেব দাস বাউল বলেন, আমরা যা খাই, তাই উনার পাতে তুলে দেব। গান তো অনেক শোনানোর ইচ্ছে আছে। এখন যদি উনার শোনার সময় থাকে। যেমন শোনানোর ইচ্ছে আছে-- একবার ভেবে দেখ মন পাখি/ জন্মভূমি মায়ের কাছে দেনা আছে নাকি।

ছেলে শুভময় দাস বাউল বলেন, আমরা দল করি না। আমরা গান করি। উনার মতো বিশিষ্ট জন আমাদের বাড়িতে আসবেন, খাওয়া দাওয়া করবেন। এটাই আমাদের কাছে পরম প্রাপ্তি। আগামী দিনে যদি অন্য কোন দলের কেউ আমাদের বাড়িতে এসে খান, তাতে আমাদের কোন আপত্তি নেই। জানা গেছে, বাসুদেব দাস বাউল স্বপন চট্টোপাধ্যায়ের কাছে গান শেখেন। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছ থেকে বাসুদেব দাস বাউল সরকারি শিল্পী ভাতা পান। তবে ছেলে শুভময় দাস বাউল সেই ভাতা পান না। তিনি জানান, তাঁদের বাড়িতে অমিত শাহের আতিথ্য গ্রহণ নিয়ে কোন রাজনৈতিক চাপ তাঁদের উপর নেই। বীরভূম জেলা পুলিশ সুপার শ্যাম সিং শুক্রবার নিজে এসে ফোন নং দিয়ে ভরসা দিয়ে বলেন, আগে পিছে কোন সমস্যা হলে আমাকে ফোন করবেন। আসলে তাঁরা কোন রাজনৈতিক দলের সমর্থক নন। তবে কেন তাঁদের বাড়িকে বাছা হয়, সেটি তাঁরা জানেন না। আগামীতে যে কোন দলের কেউ তাঁদের বাড়িতে অন্নগ্রহন করলে তাঁদের আপত্তি নেই, বলে জানান তিনি। তাঁদের একটাই পরিচয়। তাঁরা দল করেন না, বাউল গান করেন। যাতে উঠে আসে মানুষ ও প্রকৃতির কথা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only