শুক্রবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০২০

কেন্দ্রের কাছে মাথা নোয়াব না হুংকার ম‍ুখ্যমন্ত্রী মমতার



পুবের কলম প্রতিবেদকঃ কলকাতার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের পরে এবার তিন আইপিএসকে ‘বদলি’ নিয়ে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত সপ্তমে পৌঁছল। বৃহস্পতিবারই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের পক্ষ থেকে তিন আইপিএস আধিকারিক রাজীব মিশ্র, প্রবীণ ত্রিপাঠী ও ভোলানাথ পাণ্ডেকে পোস্টিং দেওয়ার কথা জানিয়ে তাঁদের রিলিজ করার জন্য নবান্নে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিবকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। আর অমিত শাহের নেতৃত্বাধীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের এমন আচরণে বেজায় চটেছেন রাজ্যের ম‍ুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনটি ট‍ুইট করে তিনি এ প্রসঙ্গে স্পষ্টই জানিয়ে দিয়েছেন, ‘অসাংবিধানিক সিদ্ধান্তকে মানবেন না। কোনও আধিপত্যবাদের চাপের কাছে মাথা নোয়াবে না রাজ্য।’


তিন আইপিএস আধিকারিককে নিয়ে গত এক সপ্তাহ ধরেই কেন্দ্র-রাজ্যের মধ্যে ঠাণ্ডা লড়াই চলছে। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডার কনভয়ের উপরে হামলার পরেই ‘গাফিলতির’ অভিযোগ তুলে এডিজি (দক্ষিণবঙ্গ) রাজীব মিশ্র, ডিআইজি (প্রেসিডেন্সি রেঞ্জ) প্রবীণ ত্রিপাঠী ও ডায়মন্ড হারবারের পুলিশ সুপার ভোলানাথ পাণ্ডেকে কেন্দ্রীয় ডেপুটেশনের জন্য দিল্লিতে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। নবান্নে এ বিষয়ে চিঠিও পাঠানো হয়। যদিও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নির্দেশ মানেনি রাজ্য সরকার। তিন আইপিএসকে কেন্দ্রীয় ডেপুটেশনের জন্য না ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্য সরকার।


তৃণমূল সরকারের সিদ্ধান্তকে যে ভালোভাবে মেনে নেয়নি অমিত শাহের অধীনে থাকা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের শীর্ষ আধিকারিকরা, তা এ দিন দুপুরেই বোঝা গিয়েছে। এ দিনই ফের মন্ত্রকের পক্ষ থেকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, রাজ্য এভাবে আইপিএসদের আটকে রাখতে পারে না। তাঁদের দ্রুতই নতুন পদে যোগ দিতে হবে। প্রবীণ ত্রিপাঠিকে এসএসবিতে, রাজীব মিশ্রকে আইটিবিপিতে এবং ভোলানাথ পাণ্ডেকে পুলিশ রিসার্চ ব্যুরো বা বিপিআরডি-তে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে।  


কেন্দ্রীয় ডেপুটেশনের জন্য ৫ বছরের জন্য তাঁদের ছাড়া হোক। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের পক্ষ থেকে পাঠানো চিঠি পেয়ে বেজায় চটেছেন ম‍ুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনটি টু্ইট করে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি। প্রথম টু্ইটটিতে ম‍ুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আপত্তি অগ্রাহ্য করে রাজ্যে কর্মরত ৩ জন আইপিএস অফিসারকে কেন্দ্রীয় ডেপুটেশনে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ভারত সরকার। ১৯৫৪ সালের আইপিএস ক্যাডার বিধির জরুরি পরিস্থিতিজনিত ক্ষমতার অপব্যবহার করা হয়েছে।’ দ্বিতীয় টু্ইটে তিনি লিখেছেন, ‘এই ঘটনা রাজ্যের অধিকারে হস্তক্ষেপ এবং রাজ্যে কর্মরত সরকারি আধিকারিকদের মনোবল ভাঙার চেষ্টা ছাড়া কিছুই নয়। বিশেষত, ভোটের আগে এই ঘটনা আসলে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় আঘাত হানার চেষ্টা। যা পুরোপুরি অসাংবিধানিক এবং অগ্রহণীয়।’


আর তৃতীয় তথা শেষ টু্ইটে কার্যত কেন্দ্রের বিরুদ্ধে রাজ্য প্রশাসনে নিয়ন্ত্রণ কায়েমের অভিযোগ তুলেছেন ম‍ুখ্যমন্ত্রী। কেন্দ্রের এমন দাদাগিরি যে মানবেন না, সেই হুংকার ছেড়ে তিনি লিখেছেন, ‘ঘুরপথে রাজ্যের প্রশাসন নিয়ন্ত্রণের জন্য কেন্দ্রের এই উদ্যোগ আমরা কোনও অবস্থাতেই মেনে নেব না। পশ্চিমবঙ্গ আধিপত্যবাদী, অগণতান্ত্রিক শক্তির সামনে মাথা নোয়াবে না।’


প্রবীণ পুলিশ আধিকারিকদের মতে, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক এক নির্দিষ্ট রাজনৈতিক অভিসন্ধি নিয়েই তিন দক্ষ ও কর্মঠ আইপিএস আধিকারিকের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার খেলায় মেতেছে। রাজ্যের বাকি আইপিএস ও আইএএস আধিকারিকদের রাজ্য প্রশাসনের বিরুদ্ধে পরোক্ষে বিদ্রোহ ঘোষণার জন্য ইন্ধন জোগাচ্ছে। অতীতে কখনই এমন ঘটনা ঘটেনি। এতে নতুন আইএএস ও আইপিএসরা আধিকারিকরা বাংলায় পোস্টিং নিতে চাইবেন না। শুধু তাই নয়, বাংলার আইপিএস ও আইএএস আধিকারিকরা ভিনরাজ্যের আইপিএস ও আইএএস আধিকারিকদের চোখে ছোট হয়ে যাবেন।’


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only