শুক্রবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০২০

বজরং’কে এফবি থেকে সরানোর কোনও কারণ দেখছে না ফেসবুক



নয়াদিল্লি, ১৮ ডিসেম্বর‌: বজরং দলকে ফেসবুকের নীতি নির্ধারক দল ‘ভয়ংকর’ আখ্যা দিলেও ব্যবসার স্বার্থে ওই দলের বিরুদ্ধে নীরব দর্শক হয়েই থাকবে সংস্থা, বুধবার তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন সংস্থার অন্যতম শীর্ষ আধিকারিক অজিত মোহন। বুধবার তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক সংসদীয় সমিতির সামনে হাজির হয়ে তিনি সাফাই দিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত এমন কোনও কারণ ঘটেনি যাতে বজরং দলকে ফেসবুক থেকে নিষিদ্ধ করা যায়। বজরং দলের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন ফেসবুক ইন্ডিয়ার এই কর্তা। 


ব্যবসায়িক মুনাফা এবং কর্মীদের নিরাপত্তার স্বার্থে বজরং দলের প্রতি নরম মনোভাব পোষণ করছে ফেসবুক ইন্ডিয়া। কমিউনিটি গাইডলাইন ভঙ্গ করে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ও হিংসা ছড়ালেও নিজেদের নীতি অনুযায়ী এই চরম দক্ষিণপন্থী সংগঠনের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেয়নি ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। রবিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে এমনই এক রিপোর্ট প্রকাশিত হওয়ার পর চাঞ্চল্য ছড়ায় দেশে। সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে হিংসার ঘটনাকে সমর্থন করার অভিযোগ ওঠার পরও বজরং দলের সদস্যদের ফেসবুক ব্যবহার করার ক্ষেত্রে কোনও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছিল ওই রিপোর্টে।


তবে এ দিন তা একদমই অস্বীকার করলেন ফেসবুক ইন্ডিয়ার কর্তা। এর আগেও ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে ফেসবুক ইন্ডিয়ার ভূমিকা নিয়ে আরও এক বিস্ফোরক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, মুসলিম বিরোধী মন্তব্য করার পরেও বিজেপির এক শীর্ষনেতাকে ব্লক করেনি ফেসবুক। শুধুমাত্র ব্যবসায়িক দিক মাথায় রেখে এই কাজ করা হচ্ছে। ওই অভিযোগ নিয়ে জাতীয় রাজনীতি তোলপাড় হয়। শেষপর্যন্ত পদত্যাগ করতে বাধ্য হন ফেসবুক ইন্ডিয়ার কর্ত্রী আঁখি দাস।


এ দিন সংসদীয় সমিতির সামনে ফেসবুক ইন্ডিয়ার ম্যানেজিং ডিরেক্টর অজিত মোহন ও নীতি নির্ধারক প্রধান শিবনাথ ঠুকরাল হাজির ছিলেন। ফেসবুক ইন্ডিয়ার কর্তা বলেন, ফেসবুক ব্যবহারকারীদের যাবতীয় তথ্য যথেষ্ট সুরক্ষিত থাকে। ফলে চিন্তার কোনও কারণ নেই। বজরং দলকে নিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সংস্থা কী পদক্ষেপ নিচ্ছে তা জানতে চাইলে অজিত মোহন বলেন, সংস্থার তথ্য-যাচাই কমিটি সব কিছু খতিয়ে দেখেছে। তাতে আপত্তিকর কোনও কন্টেন্ট পাওয়া যায়নি। এমন কোনও কারণ নেই যাতে বজরং দলকে নিষিদ্ধ করা যায়। কিন্তু অনেকেই বলছেন, ভারতে যারা বিদ্বেষ প্রচারে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে তাদের মধ্যে প্রধান হল সংঘ পরিবারের এই সংগঠনটি। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only