সোমবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২০

'আমি পলিটিক্যালি টার্গেটেড,অমর্ত্য সেন অন্যভাবে টার্গেটেড': মমতা



দেবশ্রী মজুমদার, শান্তি নিকেতন, ২৮ ডিসেম্বর: বাঙালির সংস্কৃতি ও বাংলার মনিষীদের ভুলিয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে মুখর হলেন মমতা। এদিন সাংবাদিক বৈঠক নির্ধারিত না থাকলেও সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে কয়েকটি বিষয় স্পষ্ট করে বলেন। তার মধ্যে মূল বিষয় ছিল বাঙালির সংস্কৃতি ও বাংলার মনিষীদের ভুলিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, স্বামী বিবেকানন্দ, নেতাজীর মত বাংলার মনিষীদের ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে কেন্দ্রী সরকার। অমর্ত্য সেনের মত বাঙালির অপমান তাঁর নবতম সংযোজন। এই প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে এদিন মুখ্য মন্ত্রী সব থেকে বেশী সরব হন। 


এদিন সাংবাদিকদের তরফে প্রশ্ন করা হয় সেই জন্য কী তাদের টার্গেট করা হচ্ছে, তার উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, টার্গেট তো সবাই কে করা হচ্ছে। অনেক লোককে করা হচ্ছে। এটা কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। আমাকে পলিটিক্যালি টার্গেট করা হচ্ছে এবং অমর্ত্য সেনকে এরুডাইটলি টার্গেট করা হচ্ছে।


আমি দেখছি, রবীন্দ্র সংস্কৃতিকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভেঙে, বিশেষ করে নেতাজীর সমস্ত ফাইল ওপেন করে, সব কিছু জানার ব্যবস্থা করবে, কিন্তু আজ পর্যন্ত কিছু হয় নি। যারা বহিরাগত গোটা বিশ্বভারতী দখল করে রেখেছে। তারা পার্টি মেম্বারও আছে। অমর্ত্য সেন বাংলার গর্ব। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আমাদের প্রথম নোবেল পুরস্কার এনে দেন। সেই নোবেল পুরস্কার চুরি হয়ে গেছে। সিবিআই এনকোয়ারি করছে। অমর্ত্য সেন থেকে, বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে মাদার টেরেজা তাঁদের ঐতিহ্য আছে। পৃথিবীর মানুষ তাঁদের চেনে। তাঁরা কি আদর্শ নিয়ে কথা বলবেন, সেটা তাঁদের নিজস্ব ব্যক্তিগত ব্যাপার। 

স্বামী বিবেকানন্দ হিন্দু শিকাগোর মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে সারা পৃথিবীতে।

 যারা বহিরাগত গোটা বিশ্বভারতী দখল করে রেখেছে। তারা পার্টি মেম্বারও আছে। অমর্ত্য সেন বাংলার গর্ব। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আমাদের প্রথম নোবেল পুরস্কার এনে দেন। সেই নোবেল পুরস্কার চুরি হয়ে গেছে। সিবিআই এনকোয়ারি করছে। অমর্ত্য সেন থেকে, বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে মাদার টেরেজা তাঁদের ঐতিহ্য আছে। পৃথিবীর মানুষ তাঁদের চেনে। তাঁরা কি আদর্শ নিয়ে কথা বলবেন, সেটা তাঁদের নিজস্ব ব্যক্তিগত ব্যাপার। এরপর সাংবাদিকদের তরফে প্রশ্ন করা হয় সেই জন্য কী তাদের টার্গেট করা হচ্ছে, তার উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, টার্গেট তো সবাই কে করা হচ্ছে।

তারপর বিশ্ব ভারতীর উপাসনা মন্দিরের পাশ দিয়ে শিক্ষা ভবনের মুখ থেকে ক্লাব মোড় পর্যন্ত রাস্তা যেটা এতদিন বিশ্ব ভারতীকে ২০১৭ সালে দেওয়া হয়েছিল, সেই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 

শুধু অমর্ত্য সেনের মত স্বনামধন্য লোক নন। অনেক লোক রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন করেছেন, তাঁদের যাতায়াত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আশ্রমিকদের হাঁটতে দেওয়া হচ্ছে না। তাঁদের প্রয়োজনীয় কোন কনস্ট্রাকশন করতে দেওয়া হচ্ছে না। আজকেই আমি ফাইল ক্লিয়ার করে দিয়েছি। আমি বলেছি, হামারা রাস্তা থা। হামকো বাপস দে দো। আজকে কোন বিতর্কে যেতে চাই না। বিশ্ব ভারতীর প্রাক্তন উপাচার্য স্বপন দত্ত আছেন। যিনি ভালো বলতে পারবেন। এব্যাপারে প্রাক্তন ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য সবুজ কলি সেন বলেন, তদানীন্তন উপাচার্য স্বপন কুমার দত্তের আমলে এই রাস্তা নেওয়া হয়। এটা ছিল পাবলিক রাস্তা। এটা ভালো হয়েছে। কারণ এই রাস্তা মেনটেনান্সের জন্য অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হতো বিশ্ব ভারতীকে। 

মুখ্যমন্ত্রী এদিন বার বার রবীন্দ্রনাথের সংস্কৃতি চেতনা নিয়ে তাঁর যুক্তি তুলে ধরতে বলেন, আমি কোনদিন ভাবি নি, শান্তি নিকেতনে পৌষ মেলা, বসন্ত উৎসব বন্ধ করে দেওয়া হবে। এরপর প্রকৃত হিন্দু ধর্ম নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 

  স্বামী বিবেকানন্দ হিন্দু শিকাগোর মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে সারা পৃথিবীতে।

 নেতাজী সে যে দেশ ছাড়লেন, আর দেশে ফিরলেন না। নেতাজীর মৃত্যু দিন জানবার জন্য সবাই চাই। মহাত্মা গান্ধী, আম্বেদকর, রাজেন্দ্র প্রসাদ থেকে শুরু করে রবীন্দ্রনাথ বিশ্ব ভারতী, নোবেল পুরস্কার ও তাঁর দেশপ্রেম সব কিছু পৌঁছে দিয়ে ছিল বিশ্বের দ্বারে। এদিন বহিরাগত তত্ত্ব নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, দেখুন আমরা দেশের সব জায়গায় যেতে পারি। কিন্তু সেই জায়গার সংস্কৃতি জানতে হবে। সেটা ভুলিয়ে দিতে চাইছে তারা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only