বুধবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২০

নিউজিল্যান্ডে ইসলামি প্রদর্শনী কেন্দ্র



ওয়েলিংটন, ২৩ ডিসেম্বরঃ গতবছর মার্চে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ শহরের দুটো মসজিদে জুম্মার নামায চলাকালে ভয়াবহ শ্বেতাঙ্গ-সন্ত্রাসী হামলায় ৫১জন মুসল্লি শহিদ হন। সেই মর্মন্তুদ ঘটনার পর দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডেন সম্প্রীতি ধরে রাখতে অনবদ্য ভূমিকা নেন। যা বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়। তাঁরই উদ্যোগে এবার ক্রাইস্টাচার্চ শহরেই চালু হল ইসলামি প্রদর্শনী সেন্টার। ইসলাম সম্পর্কে অকারণ সন্দেহ ও ভয়ভীতি দূর করে মানুষকে সঠিকভাবে ইসলামের বার্তা দেওয়ার লক্ষ্যে চালু হয়েছে এই সেন্টার। যাতে মুসলিমদের প্রতি অমুসলিমদের আচরণে বিদ্বেষ-বৈষম্য দূর হয়। ক্রাইস্টচার্চ শহরে অবস্থিত ক্যান্টারবারি মিউজিয়ামে ১৩ ডিসেম্বর এই কেন্দ্র চালু হয়। পরবর্তীতে ইসলামিক এক্সিবিশন সেন্টারের নিজস্ব বাড়ি তৈরি করে দেবে সরকার। যতদিন না সেটা নির্মিত হচ্ছে ততদিন এখানেই অস্থায়ীভাবে চলবে প্রদর্শনী।



ক্যান্টারবারি মিউজিয়ামের ডাইরেক্টর অ্যান্টনি রাইট বলেন, মসজিদ হল ইসলাম ধর্মের প্রাণকেন্দ্র। তাই মূলত মসজিদ, ইসলামি সেন্টার, কুরআন এবং ইসলামি সভ্যতার নানা দিক এখানে তুলে ধরা হয়েছে। এ ছাড়াও মুসলিমদের ব্যবহৃত ধর্মীয় পোশাক, নামাযের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট টুপি, আবায়া, তাসবীহ, আতর, মাসাল্লা বা নামাযপাটি ইত্যাদি নানান সামগ্রী এখানে সংরক্ষিত হয়েছে। বিভিন্ন দেশে অবস্থিত ইসলামি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছবি ও বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। এ ছাড়াও প্রদর্শনীতে রয়েছে মুসলিমদের ধর্মীয় সংস্কৃতির বিভিন্ন দিক। রয়েছে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হওয়া লিনউড এবং আল-নূর মসজিদের ছবিও। তিনি আরও জানান, এখানে একটা প্রাচীন কুরআনের পান্ড‍ুলিপি রয়েছে, যার বয়স আনুমানিক ৩২০ বছর। প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডার নির্দেশমতো ইসলামকে ইতিবাচক হিসেবে অমুসলিমদের কাছে তুলে ধরার লক্ষ্যে যাবতীয় সামগ্রী এখানে রাখা হয়েছে। এই প্রদর্শনী কেন্দ্রের জন্য দেশীয় মুসলিমরাও তাঁদের ব্যক্তিগত সংগ্রহ থেকে অনেক দুস্প্রাপ্য জিনিসপত্র দান করেছেন বলেও জানান মিউজিয়ামের ডাইরেক্টর।


নিউজিল্যান্ডের ইতিহাস থেকে জানা যায় ১৮৫৪ সালে সর্বপ্রথম ভারত থেকে একটা মুসলিম পরিবার ক্রাইস্টচার্চে বসবাস শুরু করেন। ১৬৬ বছর আগে সে দেশে পা রাখেন ভারতীয় বংশোদ্ভ‍ুত মোহমেত ও মিন্দিয়া উজেরাহ। দুই সন্তানকে নিয়ে এই দম্পতি প্রথম নিউজিল্যান্ডে যান। এরপর ধীরে ধীরে চিন‍ু ভারত‍ু ওটাগো প্রভৃতি দেশ থেকে মুসলিমরা একে একে কিউয়িদের দেশে পাড়ি জমাতে থাকেন। ১৯৭৯ সালে অকল্যান্ড শহরে প্রথম মসজিদ নির্মিত হয়। পরের বছর ক্রাইস্টচার্চে তৈরি হয় প্রথম ইসলামিক সেন্টার। দেশটির জনসংখ্যা ৫০ লক্ষের মতো। এর মধ্যে মুসলিম প্রায় ৬০ হাজার।   


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only