মঙ্গলবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২০

ফেক নিউজ, আর হেট স্পিচ দিয়ে মানুষে মানুষে দাঙ্গা লাগায় বিজেপি: মমতা

 



দেবশ্রী মজুমদার, বোলপুর, ২৯ ডিসেম্বর:  ফেক নিউজ, আর হেট স্পিচ দিয়ে মানুষে মানুষে দাঙ্গা লাগায় বিজেপি। এভাবেই বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দাগেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বীরভূম সফরের দ্বিতীয় দিনে পরিবর্তিত রুটে  বিশাল পদযাত্রা শুরু হয় বোলপুর লজমোড় থেকে। শেষ হয় জাম্বুনির তিন মাথায়।  সবুজ পাড় সাদা শাড়ি ও গলাই গৈরিক উত্তরীয় পরে হাঁটেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর সাথে বুকের সামনে রবীন্দ্রনাথের ছবি নিয়ে হাঁটেন বীরভূম সাংসদ শতাব্দী রায়। মিছিলে না হাঁটলেও ডাকবাংলো মাঠে মুখ্যমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান অনুব্রত মণ্ডল। একইভাবে চৌরাস্তার মোড়ে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়, বোলপুর হাইস্কুল মোড়ে মুরারই বিধায়ক আব্দুর রহমান। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বোলপুর সাংসদ অসিত মাল, মন্ত্রী চন্দ্র নাথ সিনহা ও তথ্য মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। এদিনের পদযাত্রায় ভিড়ের সাথে অমিত শাহের মিছিলের ভিড়ের তুলনা করে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ওরা ১০ জন লোক নিয়ে ৫ হাজার ফ্ল্যাগ নেয়। এজেন্সির লোক দিয়ে মিছিল ভরায়। 


এদিন সকাল থেকেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের তিনটে ট্যাবলো সাজানো হয় ফুল দিয়ে। তার মধ্যে একটিতে ছিল রবীন্দ্রনাথের মূর্তি। প্রতিটি ট্যাবলোতেই ছিল বঙ্গ বন্ধ বিরোধী ও ঐক্যের উপর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত বঙ্গভঙ্গ বিরোধীতায় ও ঐক্য, সম্প্রীতির উদ্যেশে "বাংলার মাটি, বাংলার জল, বাংলার বায়ু, বাংলার ফল"।   বাড়ির ছাদে ও রাস্তার ধারে মহিলারা শঙ্খ ধ্বনি করেন। যার প্রেক্ষিতে নিজের বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করে বলেন, এভাবেই শঙ্খ ধ্বনি, ধামসা মাদল ও আজানের সুরে বিজেপিকে ভক্কার ভাও করে দিন। বোলপুর ডাকবাংলো মাঠের স্টেডিয়ামে লাগানো হয় জায়েন্ট স্ক্রিন। এই স্টেডিয়ামে উপস্থিত ছিলেন বেশ কয়েক হাজার মানুষ। তাঁরা এই জায়েন্ট স্ক্রিনে দেখেন মুখ্যমন্ত্রীর পদযাত্রা। শান্তি নিকেতন রোডের বকুলতলা মোড়ে ও চিত্রা মোড়েও দুটি  জায়েন্ট স্ক্রিন লাগানো হয়। পর্যাপ্ত পুলিশি ব্যবস্থা ও ড্রোনের সাহায্যে নজরদারি জারি ছিল।  শান্তি নিকেতন ও শ্রীনিকেতন দুটি রোডের ধারে ছিল অগুনিত মানুষের ভিড়।  বাকি মানুষ মুখ্যমন্ত্রীর মিছিলে হাঁটেন। 


 এদিনের পদযাত্রায় ট্যাগ  লাইন-- " বাংলা, বাঙালি ,বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য"। মিছিলের দুদিন আগেই কোলকাতা থেকে আগেই উড়ে আসেন  তথ্য মন্ত্রী তথা বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী ইন্দ্রনীল সেন। তিনি দলীয় কার্যালয়ে বোলপুরের শিল্পীদের গানের তালিম দিচ্ছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহের শান্তি নিকেতন ও বোলপুর সফরে ৯দিনের মাথায় শাসকদলের এই মেগা র ্যালী। এদিনের কর্ণার সভা থেকেই বিজেপিকে বহিরাগত বলে দেগে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, মহিলাদের বলছি, বহু বহিরাগত ঢুকছে।  পাড়ায় পাড়ায় তারা ঢুকলে, বলবেন, পুরুষরা আসুক। তারপর কথা বলবো। না হলে পুলিশকে অভিযোগ জানান। পুলিশ অভিযোগ না নিলে, অভিযোগ বক্সে ড্রপ করুন। তার কপি আমাকে দিন। 

বক্তব্যের শুরুতে বাসুদেব দাস বাউলকে মঞ্চে ডেকে নেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁকে গান গাইতে অনুরোধ করেন। মঞ্চে বাসুদেব বাউল। আর নিচে অন্যান্য বাউলরা। বাসুদেব দাস বাউল তাঁর  গানের কলি পাল্টে অন্যান্য বাউলের দোহারিতে গেয়ে ওঠেন-- "হৃদ মাঝারে রাখিব, দিদি ছেড়ে দেব না। ছেড়ে দিলে সোনার দিদি আর তো পাব না"। দিদি, তাঁর নিজের গলার উত্তরীয় খুলে বাসুদেব দাস বাউলের গলায় পড়িয়ে দেন। বাসুদেব দাস বাউল বলেন, দিদির গলার উত্তরীয় পেয়ে, বাউল হিসেবে আমি সম্মানিত। দিদির এই সম্মান কোন দিন ভুলবো না।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only