শুক্রবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২০

সিঙ্গল বেঞ্চের রায় বহাল ডিভিশন বেঞ্চে, অধ্যাপিকাকে বকেয়া বেতন দিতে নির্দেশ বিশ্বভারতীকে

 



দেবশ্রী মজুমদার, শান্তিনিকেতন, ২৫ ডিসেম্বরঃ বৃহস্পতিবার সিঙ্গল বেঞ্চের রায় বহাল রেখে মনিপুরী নৃত্যের অধ্যাপিকাকে তাঁর বকেয়া বেতন মিটিয়ে দিতে নির্দেশ বিশ্বভারতীকে নির্দেশ দিল ডিভিশন বেঞ্চ। চলতি বছরের ১২ জুন মণিপুরী নৃত্যের অধ্যাপিকা শ্রুতি বন্দ্যোপাধ্যায়কে ২০১৪ সালের এপ্রিল মাসে তাঁর নিয়োগের সময় থেকে ইনক্রিমেন্টের সমস্ত টাকা ফেরত দিতে নির্দেশ দেন বিশ্বভারতীর কর্মসচিব। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা উচ্চ আদালতে মামলা করেন আধ্যাপিকা শ্রুতি বন্দ্যোপাধ্যায়। চলতি বছরের জুন মাস থেকে আঁটকে দেওয়া হয় অধ্যাপিকার বেতন।


মামলা চলাকালীন সিঙ্গল বেঞ্চ তার নির্দেশনামায় বলে বিশ্ববিদ্যালয় এইভাবে এতদিন পর কোন শিক্ষকের বেতন কমিয়ে দিতে পারে না বা অতিবাহিত কর্মকালীন সময়ের বেতন বাবদ টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলা যায় না । আর বেতন কোনভাবেই আঁটকানো যাবে না। সেই রায়ের বিরুদ্ধে বিশ্বভারতী ডিভিশন বেঞ্চে যায়। ডিভিশন বেঞ্চ অবশ্য সেই রায় বহাল রাখে। ডিভিশন বেঞ্চের বিচারক সৌগত ভট্টাচার্য এবং সৌমেন সেন এই রায়ে বলেছেন, চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে আবেদনকারী অধ্যাপিকার বকেয়া বেতন মিটিয়ে দিতে হবে কর্তৃপক্ষকে। বর্তমানে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ২,৫২,০১৮ বেতনের পরিবর্তে ২,৩০,৯৫৮ টাকা দেওয়ার নির্দেশ দেয় আদালত। যে ইনক্রিমেন্ট নিয়ে মামলা চলছে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ ও অধ্যাপিকা শ্রুতি বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে তা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত, একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে বিশ্বভারতীর নাম আলাদা একাউন্ট খুলতে হবে যেখানে ইনক্রিমেন্ট বাবদ ২১,০৬০ টাকা মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জমা রাখতে হবে। জানা গেছে, অধ্যাপিকা শ্রুতি বন্দ্যোপাধ্যায় ২০১৪ সালের এপ্রিল মাসে বিশ্বভারতীতে অধ্যাপিকা হিসেবে নিয়োগপত্র পাওয়ার সময় ৫টি ইনক্রিমেন্ট চান। এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের মিটিংয়ে ৪টি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় এবং তা অধ্যাপিকা মেনে নেন। বর্তমান উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর কার্যকালে অন্তবর্তী কালীন নির্দেশে কোন অজ্ঞাত কারণে সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে এই ইনক্রিমেন্টকে অতিরিক্ত পেমেন্ট হিসেবে অধ্যাপিকাকে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ। যার পরিমাণ প্রায় ১৩ লক্ষ টাকা। এর বিরুদ্ধে অধ্যাপিকা কলকাতা উচ্চ আদালতে মামলা করেন। ৯ ডিসেম্বর আদালতের নির্দেশ না মানায়, সেই নির্দেশ কার্যকর করার জন্য নির্দেশ দেয় আদালত। ১৬ ডিসেম্বর শুনানীর সময় আদালত ২৩ ডিসেম্বর আদালতের নজরে আসে যে অধ্যাপিকার বেতন দেওয়া হচ্ছে না। তখন সেই নির্দেশ কার্যকর করার জন্য ফের নির্দেশ দেয় আদালত। সম্প্রতি এব্যাপারে কর্তৃপক্ষ একটি রিপোর্ট জমা দিয়েছে বলে আদালত জানিয়েছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only