রবিবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২০

তিন আইপিএস-কে নিয়ে কেন্দ্র-রাজ্য দ্বন্দ্বে মমতার পাশে বিরোধী নেতারা



পুবের কলম প্রতিবেদকঃ অমিত শাহের পশ্চিমবঙ্গ সফরের ঠিক আগে রাজ্যের তিন আইপিএস অফিসারকে ঘিরে কেন্দ্র-রাজ্য দ্বন্দ্ব যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়ালেন বিরোধী দলের নেতারা। প্রসঙ্গত, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডার কনভয়ে হামলার ঘটনার পরেই তাঁর কর্মসূচি এবং যাত্রাপথের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ওই তিন আইপিএস অফিসারকে কেন্দ্রের ডেপুটেশনে চেয়েছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। কিন্তু রাজ্য চিঠি দিয়ে জানিয়েছিল যে তাঁদের ছাড়া যাবে না। কিন্তু রাজ্যের আপত্তি উপেক্ষা করেই তিন আইপিএস অফিসার প্রবীণ ত্রিপাঠি, ভোলানাথ পান্ডে ও রাজীব মিশ্রকে দ্রুত রাজ্য ক্যাডার থেকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে গত বৃস্পতিবার ফের চিঠি পাঠিয়েছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। 


কেন্দ্র-রাজ্য এই দ্বন্দ্বে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবার পাশে পেলেন বিরোধী দলের নেতাদের। শনিবার ডিএমকে-র শীর্ষনেতা এম কে স্ট্যালিন বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গের তিনজন আইপিএস অফিসার-কে একতরফাভাবে বদলির যে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক তা একনায়কতান্ত্রিক এবং যুক্তরাষ্ট্রীয় প্রথার বিরোধী। সিভিল সার্ভিসেসের প্রসঙ্গে নিজের মর্জিমাফিক নির্দেশ দিল্লির শাসক দল দিতে পারে না। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে অবিলম্বে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের উক্ত নির্দেশ বাতিল করতে বলেন। 


ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাঘেল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নির্দেশের কড়া সমালোচনা করে বলেছেন, রাজ্যগুলির কাজকর্মে এটি কেন্দ্রের অযথা হস্তক্ষেপ। এর ফলে দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো ফের একবার বিপদের সম্মুখীন। তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি টু্ইটের উল্লেখ করে বলেন, এটি ভারতীয় আইপিএস ক্যাডার আইনের ডাহা অপব্যবহার। এর আগে কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের উক্ত নির্দেশের তীব্র সমালোচনায় মুখর হয়েছিলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালও। তাঁর সরকারও বহুদিন এভাবেই ‘কেন্দ্রের অযথা হস্তক্ষেপে’ ব্যতিব্যস্ত হয়েছিল। কেজরিওয়াল পশ্চিমবঙ্গ প্রসঙ্গে বলেন, নির্বাচনের আগে পুলিশ অফিসারদের কেন্দ্রের ডেপুটেশনে চাওয়া দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর উপর আঘাত। রাজ্যের স্থিতিশীল অবস্থাকে নষ্ট করার অপপ্রয়াস।


গত বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের চিঠি পাওয়ার পর মমতাও এক টু্ইটবার্তায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন। তার অভিযোগ ছিল, ‘অফিসারদের মনোবলে আঘাত করতে ইচ্ছাকৃতভাবে আইপিএস ক্যাডার আইনের অপব্যবহার করে রাজ্যের এক্তিয়ারে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। এ কাজ সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক এবং তা মেনে নেওয়া যায় না। রাজ্য প্রশাসনের কাজে কেন্দ্রের নির্লজ্জ হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না।’


প্রসঙ্গত, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক বৃহস্পতিবার চিঠি দিয়ে জানিয়েছিল নবান্নকে যে আইপিএস ক্যাডার আইনের ৬(১) ধারায় উক্ত তিন আইপিএস অফিসারকে দ্রুত কেন্দ্রীয় ক্যাডারে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জানায়, ভোলানাথ পান্ডেকে ব্যুরো অফ রিসার্চ সংস্থায় পুলিশ সুপার পদে, রাজীব মিশ্রকে আইটিবিপি বাহিনীর ডিআইজি পদে ও প্রবীণ ত্রিপাঠিকে এসএসবি-র ডিআইজি পদে নিয়োগ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এই নির্দেশের পরও তিন আইপিএস অফিসারকে রাজ্য ছাড়েনি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রককে চিঠি দিয়ে সেটা জানিয়ে দিয়েছিল নবান্ন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only