শনিবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০২০

জমি জবর দখলকারীদের তালিকায় অমর্ত্য সেনের নাম, ঠিক নয়: প্রতিহিংসা চরিতার্থতা : সবুজ কলি সেন

 



দেবশ্রী মজুমদার, শান্তি নিকেতন, ২৬ ডিসেম্বর: বিশ্ব ভারতী কর্তৃপক্ষের নোটিশে অমর্ত্য সেনকে জমি জবরদখল কারী হিসেবে দেখানোর পর প্রতিবাদে মুখ খুললেন বিশ্ব ভারতীর প্রাক্তন ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য সবুজ কলি সেন। 

তিনি বলেন, প্রথমেই এটা পরিষ্কার হওয়া দরকার,  প্রতীচি নামক বাড়ির জায়গা অমর্ত্য সেন কেনেননি। কেনেন তাঁর পিতা আশুতোষ সেন। পাশের জমিটি কেনেন অমর্ত্য সেনের দাদু ক্ষিতিমোহন সেন। গোটা ব্যাপারটা ৯০ বছর আগের ঘটনা। বিশ্ব ভারতীর দাবি, মূল লিজে ১২৫ ডেসিমাল। আর দখল আছে ১৩৮ ডেসিমাল। এব্যাপারে  অধ্যাপিকা সবুজ কলি সেন অবশ্য বলেন, এটা আমার পক্ষে বলা সম্ভব নয়। বলতে পারেন রাজ্যের পূর্ত বিভাগ ও এস্টেট অফিসার। তবে, আমার বলার, অমর্ত্য সেন যে ধরণের মানুষ, তাঁকে বলা হলে, এই সামান্য জমি তিনি ছেড়ে দিতেন। এখন, তাঁকে আদৌ বলা হয়েছে কিনা সেটা দেখা হোক। আর যে ভাবে গোটা বিষয়টি দেখানো হলো, সেটা খুব খারাপ হয়েছে। আমার আপত্তি এই কারণে, যখন অমর্ত্য সেন বললেন, এ ধরণের কোন কথা কর্তাব্যক্তির সাথে বলেন নি, ঠিক তার পরে এইভাবে নোটিশ জারি, প্রতিহিংসা পরায়ণ ছাড়া কিছু নয়। আর যে কাজটি অমর্ত্য সেন করেন নি। একটা জিনিষ শান্তি নিকেতনে ইদানিং কালে দেখা যাচ্ছে কোন ব্যক্তিকে জন সমক্ষে অপমান করা। সেই তালিকায় বর্তমানে নব সংযোজন অমর্ত্য সেনের নাম। মনে রাখা উচিত ছিল, শুধু শান্তি নিকেতন, বাংলা নয়, ভারতবর্ষকে পৃথিবীর মানচিত্রে আরেক বার স্থান করে দিয়েছেন অমর্ত্য সেন। এই শান্তি নিকেতনে তিনি পড়াশোনা করেছেন, বেড়ে উঠেছেন। পণ্ডিত ও বিদ্বান মহলে তাঁর স্থান কি, এসব ভাবা উচিত ছিল। বর্তমানে শান্তি নিকেতনে শালিনতা, সভ্যতা ও ভদ্রতা হারিয়ে যাচ্ছে। করজোড়ে বলবো, রবীন্দ্রনাথ ও স্বামী বিবেকানন্দ নিয়ে রাজনীতি করবেন না। আমি পড়েছি, রাণী চন্দ কংগ্রেসে যোগ দিলে বা কিছু অধ্যাপক অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দিলে, রবীন্দ্রনাথ ব্যাথা পান। সম্পূর্ণ ভাবে রাজনীতি মুক্ত পরিবেশ চেয়েছিলেন এই শিক্ষায়তনে। ১৯০৫ সালে মহর্ষির প্রয়াণ থেকে ১৯৪১ সালে বিশ্ব ভারতীর কোথাও কোন সরণীর নামকরণ হয় নি। চাইলে কবি করতে পারতেন, কিন্তু করেন নি। শুধু মাত্র লোকমুখে বিশ্ব ভারতীর কর্মী নেপাল চন্দ্র রায়ের নামে একটি রাস্তা আছে। কিন্তু সরকারিভাবে লিখিত নেই। এটা করা হলো এই অর্থে যে কেউ প্রতিবাদ করতে পারবে না। কে করবে, সরণীর নাম বিবেকানন্দের নামে। আমি ব্যক্তিগতভাবে বিবেকানন্দের ভক্ত। কিন্তু আমার মনে হয়েছে, এই নামকরণের অন্য উদ্দেশ্য আছে। শান্তি নিকেতনের সংস্কৃতিকে ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা মাত্র। স্বামীজীর প্রতি শ্রদ্ধা থাকলে, স্বামীজি সহ অন্যান্য মণীষীদের নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে। কিন্তু স্বামীজিকে নিয়ে রাজনীতি ঠিক নয়। বিশ্ব ভারতীর সাথে স্বামীজীর বিন্দুমাত্র সম্পর্ক বা যোগ ছিল না।

উল্লেখ্য, এব্যাপারে বোলপুর মহকুমা শাসক অভ্র অধিকারীকে প্রশ্ন করা হয়, বিশ্ব ভারতীর নোটিশে জমি জবরদখল কারীদের সাথে  

 অমর্ত্য সেনের নাম যুক্ত হওয়ার পর প্রশাসনিক কোন তদন্ত শুরু হয়েছে কিনা?  তিনি বলেন, আমার কাছে এব্যাপারে কোন চিঠি আসে নি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only