শুক্রবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০২০

সবার হৃদয়ে রবীন্দ্রনাথ, বিজেপির ফ্লেক্সে তাঁর ছবি অমিত শাহের নিচে, জোর বিতর্ক



দেবশ্রী মজুমদার, শান্তি নিকেতন: অমিত শাহের জেলা সফরের আগে বোলপুর শহর জুড়ে  বিজেপির ফ্লেক্সে ছয়লাপ। সেই ফ্লেক্সে অমিত শাহের নিচে, রবীন্দ্রনাথ। সামনের রবিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহের জেলা সফর। ঠিক তার আগে এমন ছবিতে অস্বস্তিতে বিজেপি নেতৃত্ব। রাজনৈতিক মণিষীদের ছবি ব্যবহারে বঙ্গ রাজনীতি যে সচেতন নয়, তা আবার প্রমাণ হলো। তাও আবার খোদ শান্তি নিকেতনে। এ বিড়ম্বনা আপামর বাঙালির, রবীন্দ্র অনুরাগীদের। 


স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী তথা বিজেপির একজন প্রথম সারির নেতার জেলা সফরের আগে ফ্লেক্সে এমন অশোভনীয় ছবি বিভিন্ন গণমাধ্যমে তুলে ধরার সঙ্গে সঙ্গে বিতর্ক দানা বাঁধে বিভিন্ন মহলে। বিশ্ব ভারতীর আশ্রমিক থেকে পড়ুয়া সকলেই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন। আর এই ঘটনার জেরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা ও চাপান উতোর। আশ্রমিক তথা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বংশধর সুপ্রিম ঠাকুর বলেন, এটি অত্যন্ত হাস্যকর ব্যাপার। এভাবেই আমাদের সংস্কৃতিকে নষ্ট করার চেষ্টা চলছে। 


বিশ্ব ভারতীর অর্থনীতির স্নাতকোত্তর বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র সোমনাথ সাউ বলেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সরব ছিলেন রবীন্দ্রনাথ। সেই ফ্যাসিবাদের পৃষ্ঠপোষকরা শান্তি নিকেতনে আসছেন। তাঁরা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে যে অপমান করবেন, এ তো জানা কথা। আগেও অমিত শাহের কোলকাতা সফরের সময় বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভেঙে ছিল বিজেপি।   শুক্রবার সন্ধ্যায় আমরা ছাত্র ছাত্রী ঐক্যের তরফে প্রতিবাদে নামছি। 


যদিও এই ফ্লেক্সের ব্যাপারে "ভৌতিক" হাত দেখছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অনুপম হাজরা।  তিনি বলেন, অমিত শাহ জি'র শান্তিনিকেতন সফরের ঠিক আগে, পূর্ব পরিকল্পিতভাবে, তৃণমূলের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিনব পন্থা। এক "ভৌতিক প্রতিষ্ঠান" (যার বাস্তবে কোন অস্তিত্ব নেই)'এর উদ্যোগে গোটা বোলপুর-শান্তিনিকেতনে ছেয়ে গেল গুরুদেবকে অবমাননাকর এই পোস্টার; মজার ব্যাপার হলো, তৃণমূল সমর্থিত যে প্রতিষ্ঠান, অমিত শাহ জি'র  র‍্যালীতে  বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য "প্রতীকী পৌষ মেলা" করতে চায়, তার সঙ্গে এই ভৌতিক প্রতিষ্ঠান নামের খুব মিল আছে।


আরো অবাক হলাম, দিদির সবথেকে প্রিয় জেলা সভাপতির খাস তালুকে বিজেপি নেতাদের ছবি বা ফ্লেক্স কেউ স্পর্শ অব্দি করলো না। বাকিটা বুঝে নিন। এদিকে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে তৃণমূলের জেলা সহ সভাপতি অভিজিৎ সিনহা বলেন, বিজেপির সংস্কৃতি এটাই। বাংলার মণীষীদের অপমান করা। আগে তারা বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙচুর করেছিল। এবার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে অপমান। বাংলার মানুষ এই অপমান মেনে নেবে না। এই ঘটনা থেকে বোঝা যায়, এরা বাঙলায় বহিরাগত। বাংলার সংস্কৃতি জানে না। রবীন্দ্রনাথকে জানে না। 


আত্মপক্ষ সমর্থনে বিজেপির জেলা সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল বলেন, আমরা জানি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে কোথায় রাখতে হয়। তিনি আমাদের মাথায়। তৃণমূলের লোক জন ষড়যন্ত্র করে রাতের অন্ধকারে এই নিন্দনীয় কাজ করেছে। আমরা বিজেপির কর্মীদের বলেছি এই ফ্লেক্স খুলে নিতে। তাঁকে প্রতিবেদক প্রশ্ন করেন, তাঁরা এঘটনার তদন্তে প্রকৃত দোষীকে খুঁজে বের করতে থানায় কোন অভিযোগ দায়ের করবেন কিনা? তার প্রত্যুত্তরে বিজেপির জেলা সভাপতি বলেন, দেখুন এই মুহূর্তে আমরা ব্যস্ত। আমরা কোন অভিযোগ দায়ের করছি না। তবে তড়িঘড়ি ফ্লেক্স খুলে নিতে বলেছি দলীয় কর্মীদের। 



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only