সোমবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২০

পুরুলিয়া জেলায় প্রথম কলেজ উত্তীর্ণ হলেন শবর জনজাতির কন্যা রমণিতা



রুবাইয়া জুঁই, ৭ ডিসেম্বর:পুরুলিয়ার বরাবাজারের ফুলঝোর গ্রামের মেয়ে রমনিতা শবর।শবর জনজাতির মেয়েদের মধ্যে প্রথম বার কলেজ উত্তীর্ণ হলেন তিনি।উল্লেখ্য এর আগে ১৯৮৫ সালে মেদিনীপুরের চুনী কোটাল প্রথম আদিম জনজাতির কন্যা হিসেবে স্নাতক হয়েছিলেন।তিনি বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নৃবিদ্যায় স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন। স্নাতক ডিগ্রী লাভের দুই বছর পর, তিনি মেদিনীপুরের 'রানি শিরোমনি এসসি এন্ড এসটি গার্লস' হোস্টেলের হোস্টেল সুপারিনটেনডেন্ট হিসাবে নিযুক্ত হন কিন্তু সেখানেও তিনি সাম্প্রদায়িক হয়রানির সম্মুখীন হন এবং আত্মহত্যা করেন। তার কয়েক দশক পরে খেড়িয়া শবর মহিলাদের মধ্যে প্রথম স্নাতক হলেন রমনিতা।শিক্ষাক্ষেত্রে মূলত তাঁরা একেবারে পিছিয়ে রয়েছে।তবে এবার সেই শবর জনজাতির মেয়েদের মধ্যে প্রথম বার কলেজ উত্তীর্ণ হয়ে একটা ইতিহাস তৈরি করলেন অতি দরিদ্র পরিবারের মেয়ে রমনিতা শবর। জানা যায় দু’-তিন জন শবর তরুণী কলেজে ভর্তি হলেও তাঁরা নানা কারণে পড়াশোনা শেষ করতে পারেননি। ঝাড়খণ্ডের পটমদা ডিগ্রি কলেজের ছাত্রী ছিলেন রমণিতা। জানা যায় ওই কলেজ থেকে তিনি ইতিহাস অনার্সে ফার্স্ট ক্লাস পেয়েছেন।শৈশব  থেকেই পড়াশুনার প্রতি রমনিতার অদম্য ইচ্ছাশক্তির কাছে পরিবারের চরম দারিদ্রতা বরাবরই যেন হার মেনে এসেছে।সংসারে চরম আর্থিক অভাব অনটন থাকা সত্ত্বেও  মেয়ের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে কোনও রকম খামতি রাখেনি বাবা মহাদেব শবর এবং মা বেহুলা শবর।পুরুলিয়া জেলায় এখনও পর্যন্ত এই জনজাতির কোন মেয়ের এই সাফল্য নেই বলে জানা যায়।রমণিতা এখন এই জনজাতির মেয়েদের কাছে অনুপ্রেরণা।ভবিষ্যৎ এ স্নাতকোত্তর করে কলেজে পড়াতে চান তিনি।কিন্তু  সেক্ষেত্রেও অন্তরায় আর্থিক সমস্যা।তবে ইতিমধ্যেই পুরুলিয়ার জেলাশাসক সবরকম সাহায্যের জন্য পাশে থাকবেন বলে জানিয়েছেন। বর্তমানে রাজ্য সরকারও শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষি-সহ নানান প্রকল্প চালু করেছেন শবর জনজাতিরর জন্য। রমনিতার এমন নজর করা সাফল্যে একদিকে যেমন গর্বিত তার কলেজ কর্তৃপক্ষ তেমনই অপরদিকে গর্বিত সমাজের সমস্ত শবর সম্প্রদায়ের মানুষজন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only