বুধবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২০

নিবিড় জন সংযোগে মুখ্যমন্ত্রী: ঘটনাস্থলেই সমাধান শৌচাগারের সমস্যা

 



দেবশ্রী মজুমদার, বোলপুর, ৩০ ডিসেম্বর:  মুখ্যমন্ত্রীকে সরাসরি নিজেদের সমস্যার কথা বলবেন, ভেবেছিলেন সোনামনি সোরেন,  চুরকি সোরেন, মণি টুডুরা। কিন্তু জন জোয়ারের ঢেউয়ের ধাক্কায় মুখ্যমন্ত্রী পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেন নি তাঁরা। কিন্তু তাঁদের দিদি হয়ে ধরা ছোঁয়ার মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী নিবিড় জনসংযোগের উদ্দেশ্যে আদিবাসী গ্রামে আসতেই তাঁদের মধ্যে দেখা গেল বাঁধ ভাঙা উচ্ছ্বাস। 

তাঁদের নিজেদের সমস্ত অভিযোগ জানালেন তাঁদের দিদিকে। সোনামণি সোরেন নামে এক আদিবাসী মহিলা  গ্রামে শৌচাগার না থাকার অভিযোগ জানান। দিদিকে হাতের কাছে পেয়ে তিনি বললেন, আমরা পুকুরে চান করি। চারিদিকে ছেলে গুলো থাকে। তাঁদের কথা শেষ হতে না হতেই, তাতে সায় দিয়ে দিদি বললেন,  জানি, খুব অসুবিধা হবে। 

তারপর সোনামনি সোরেন নামে  ওই আদিবাসী মহিলা বললেন, তাহলে আমাদের কতো কষ্ট বলুন তো? 

এবার মুখ্যমন্ত্রী সস্নেহে ওই মহিলার গালে হাত বুলিয়ে আদর করলেন।-- তখনও ওই মহিলা অনুযোগের সুরে বলতে থাকেন-- কষ্ট হয় দিদি, কষ্ট হয়! তার প্রত্যুত্তরে মুখ্যমন্ত্রী বললেন, আমিও গ্রামের মেয়ে। আমাদের গ্রামেও বাথরুম ছিল না। তারপর আস্তে আস্তে হয়েছে। 

--তিনি তখন বললেন,  দিদি এসব বলার জন্য কালকে গেছিলাম। সোনামনির কথা শুনেই সবার সামনেই জেলা প্রশাসনের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ডিএমকে ডেকে বকাবকি তো করেনই এবং প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই নির্দেশ দেন, ১২৫ ঘর গ্রামবাসীর জন্য যেন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শৌচাগার বানিয়ে দেওয়া হয়। তাদের কথার সুরে চুরকি সোরেন, মণি টুডুরা অভিযোগের সুরে 

মুখ্যমন্ত্রীকে সামনে পেয়ে  বলতে শুরু করেন, অনেকেই বলেন, তোমাদের পাশে দিদি। তোমাদের গ্রাম কেন ডেভলপ হলো না? তোমরা কেন বলতে পারো না? 

একান্ত আলাপচারিতায় মুখ্যমন্ত্রী বললেন, দেখো, সব আস্তে আস্তে হয়ে যাবে। দেখ বিনা পয়সায় রেশন পাওয়া যায়। বিনা পয়সায় স্বাস্থ্য সাথী করা হয়েছে। কত কি করে দেওয়া হয়েছে। এত সুবিধা করে দেওয়া হয়েছে। বাদবাকি আস্তে আস্তে করে দেওয়া হবে। আর মাথা নেড়ে সবাই এক বাক্যে তা মেনেও নিল। দীর্ঘক্ষন ধরে সময় কাটালেন এই আদিবাসী পাড়াতে। কথা বললেন প্রত্যন্ত গ্রামের আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চলের মানুষদের সঙ্গে। মুখ্যমন্ত্রীর নিজের সশরীরে শুনলেন আদিবাসী মানুষদের অভাব-অভিযোগের কথা। বল্লভপুর ডাঙা এই গ্রাম ছাড়ার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত  সকলের চোখে মুখে ছিল আত্মতৃপ্তির খুশি। 


   এদিন সমস্ত অভাব অভিযোগের কথা শুনে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা আধিকারিকদের নির্দেশ দিলেন তড়িঘড়ি এই সমস্ত কাজ সম্পন্ন করার। 

 যাওয়ার পথে ‘চা চক্রে'ও মানুষের এক প্রস্থ অভাব অভিযোগের কথা শোনেন তিনি। তারপর সরকার ডাঙা অস্থায়ী হ্যালিপ্যাড থেকে নবান্নের উদ্যেশে রওনা দেন মুখ্যমন্ত্রী।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only