বুধবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২০

উপাসনা মঞ্চ থেকে রাজনৈতিক বিতর্কের জবাব উপাচার্যর



দেবশ্রী মজুমদার, শান্তি নিকেতন, ২৩ ডিসেম্বর: মর্যাদার সাথে সকাল ৫-৩০ মিনিটে গৌর প্রাঙ্গণে বৈতালিক, ৬ টায় শান্তি নিকেতন গৃহে সানাই, ৭-৩০ টায় ছাতিম তলায় উপাসনার মধ্যে দিয়ে  তিন দিনের পৌষ উৎসবের সূচনা হলো বিশ্ব ভারতীতে। তবে ব্রহ্ম উপাসনার মঞ্চকে রাজনৈতিক বিতর্কের জবাব দিতে ব্যবহার করলেন উপাচার্য। নাম না করে তৃণমূল জেলা সভাপতির তোলা বিতর্কের জবাব দিলেন, বলে অনেকের দাবি। 

২০ ডিসেম্বর অমিত শাহর বিশ্ব ভারতী পরিদর্শন উপলক্ষে বিবেকানন্দ সরণী নাম করণ করা প্রসঙ্গে অনুব্রত মণ্ডল বলেন, বিশ্ব ভারতীর রাস্তার নামকরণ কোন পল্লী, প্রকৃতি, সাহিত্য বা ঠাকুর পরিবারের নামে হয়ে থাকে। সেখানে বিবেকানন্দর নামে সরণীর নাম কি করে হয়।  রামকৃষ্ণ মিশনে রবীন্দ্রনাথের নামে রাস্তার নামকরণ কী হয়? এমন প্রশ্ন ছুঁড়েছিলেন উপাচার্যের দিকে। বুধবার সেই প্রশ্নের জবাবে উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী বলেন, বিবেকানন্দ এসেছিলেন মহর্ষির কাছে। মহর্ষি খুব ধুমধাম করে সম্বর্ধনা দেন বিবেকানন্দকে। আমি বলতে চাই,  ঠাকুর পরিবারের সাথে তাঁর সংযোগ আত্মিক। আমরা খুশি হয়েছি যে, বিশ্ব ভারতীর একটি রাস্তার নাম বিবেকানন্দের নামে করতে পেরেছি।  ১২ জানুয়ারি ধুমধাম সহকারে বিবেকানন্দের জন্মদিন পালন হবে। এবার সংবাদ মাধ্যমের প্রবেশ নিষেধ ছিল বিশ্ব ভারতীতে। নিষেধাজ্ঞা ছিল ছবি তোলার। 

বিশ্ব ভারতী সূত্রে জানা গেছে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাইপো দ্বিজেন্দ্র নাথ ঠাকুরের পুত্র দ্বীপেন্দ্র নাথ ঠাকুরের বন্ধুত্ব ছিল। সেই সুবাদেই মহর্ষির সংস্পর্শে আসেন তিনি। বিবেকানন্দের সঙ্গীত কল্প তরুতে ১২ টি গান সঙ্কলিত আছে। ১৮৯৯ সালের ৩০ জানুয়ারি মাঘোৎসবে বিবেকানন্দ ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাক্ষাৎ হয়। সেখানেও রবীন্দ্রনাথ দুটি গান গেয়ে ছিলেন। বিবেকানন্দের মৃত্যুর শোক সভায় সভাপতিত্ব করেন কবি। জাপানের বিখ্যাত কবি ওকাকুরা বিবেকানন্দের কাছে গেলে, তিনি তাঁকে রবীন্দ্রনাথের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেন। অন্যদিকে, একইভাবে রবীন্দ্রনাথও বলেন, ভারতবর্ষকে জানতে হলে বিবেকানন্দ পড়ুন। 


 ছাতিম তলায় উপাসনার মঞ্চে রাজনৈতিক প্রশ্নের জবাবের মতো, আরো এক বিতর্কের জন্ম দেয় শান্তি নিকেতনে। এবার

ক্যাম্পাসের বাইরে সারতে হয় আশ্রমিক সংঘের যাবতীয় অনুষ্ঠান। অভিযোগ, বিশ্বভারতীর আর্থিক ‘অসহযোগিতা’য় পৌষউৎসবে অংশ নিতে পারলো না শতাব্দী প্রাচীন এই আশ্রমিক সংঘ।  এই সংগঠন রেজিস্টার্ড সংগঠন হওয়ায় তাদের অনুষ্ঠানও এতদিন ট্রাস্টের আর্থিক আনুকূল্যেই হত।  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সময়কাল থেকে এই আশ্রমিক সংঘ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত থেকেছে।  বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক অনটনের সময়েও এই সংঘের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের ঐতিহ্য আছে, বলে সূত্রের খবর।

কিন্তু কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে আম্রকুঞ্জে আশ্রমিক সংঘ বাৎসরিক  স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠান করতে পারে নি। 



 আশ্রমিক সংঘকে জানানো হয় যে লাইব্রেরী হলে  অনুষ্ঠান করার জন্য তাদেরকে হল ভাড়া ও গাড়ি ভাড়া বাবদ ৫০০০টাকা দিতে হবে। বিশ্ব ভারতীর আম্রকুঞ্জে বসে এই অনুষ্ঠান করলে ভাড়া গুনতে হবে। ভবিষ্যতেও একই নিয়ম বলবৎ থাকবে বলে জানানো হয়। এদিন তারা রতনপল্লীতে এই অনুষ্ঠনের আয়োজন করেন। সঙ্ঘের সম্পাদক সুব্রত সেন মজুমদার বলেন, পরম্পরা গতভাবে পৌষ উৎসবে আশ্রমিক ও প্রাক্তনীদের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেল।

 আশ্রমিক সংঘের পাশাপাশি বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ ব্রাত্য করেছে মহিলা সংগঠন আলাপিনী সমিতির অনুষ্ঠানকে।  তাদের ব্যবহৃত ঘরটি ছেড়ে দেওয়ার জন্যও নির্দেশ দিয়েছে বিশ্বভারতী।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only