বৃহস্পতিবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২০

বাঙালির মন জয়ের চেষ্টা,কবি গুরুর বাণী দিয়েই বক্তব্য শুরু প্রধানমন্ত্রীর



নয়াদিল্লি, ২৪ ডিসেম্বর: "হে বিধাতা, দাও দাও মোদের গৌরব দাও, দুঃসাধ্যের নিমন্ত্রণে দুঃসহ দুঃখের গর্বে”– কবিগুরুর এই বাণী দিয়েই বিশ্বভারতীর শতবর্ষ উদযাপনের বক্তব্য শুরু করেন এদিন আচার্য নরেন্দ্র মোদি। আচার্য বললেন, বিশ্বভারতীর দেখানো পথেই, প্রকৃতির থেকে শিক্ষা নিয়েই আজ ভারত বিশ্বমঞ্চে নিজেকে তুলে ধরতে চাইছে। এই মঞ্চ থেকেই যেন নতুন যাত্রা শুরু হয় গুরুদেবের দেখানো পথে। গুরুদেবের দৃষ্টিভঙ্গিই আত্মনির্ভর ভারতের আধার বলেই উল্লেখ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, ‘গোটা বিশ্বের উন্নয়নের জন্য ভারতের বিকাশ হওয়া দরকার। আমাদের বিকাশ একান্ত নয়, বিশ্বজনীন।’ বিশ্বভারতীর শতবর্ষের অনুষ্ঠানে নিজের ‘আত্মনির্ভর ভারতে’র চিন্তাধারা আর কবিগুরুর বিশ্বজনীন উন্নয়নের ভাবধারাকে মিশিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, ‘গুরুদেব আমাদের স্বদেশী সমাজের সংকল্প গড়ে দিয়েছিলেন। উনি আমাদের গ্রাম, আমাদের সমাজকে আত্মনির্ভর দেখতে চাইতেন। আমাদের শিল্প-বাণিজ্যকে আত্মনির্ভর দেখতে চাইতেন। আমাদের সমাজ এবং সংস্কৃতিকে আত্মনির্ভর দেখতে চাইতেন।’ ভারতের আত্মনির্ভরতার হওয়ার পথের পাথেয় সেই চিন্তাধারাই। এদিন ভাষণের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘গুরুদেবের চিন্তাদর্শন, স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে দেশকে প্রেরণা দেওয়ার জায়গা বিশ্বভারতী। বহু প্রথিতযশা বিজ্ঞানী, অর্থনীতিবিদ, সাহিত্যিক, শিল্পী প্রসব করেছে বিশ্বভারতী।’ তাঁদের সকলকে অভিনন্দন জানান মোদি।

করোনার কারণে এই বছরে পৌষমেলা না হওয়া নিয়ে আক্ষেপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এই নিয়ে ১০০ বছরে তৃতীয় বার এই মেলা হল না, ছোট শিল্পীরা, কারিগররা বিপদে পড়লেন। আমি চাইব, এই কারিগরদের বিষয়ে ছাত্রছাত্রীরা নজর দিন, তাঁদের প্রস্তুত করা হাতের কাজ কী ভাবে অনলাইনের মাধ্যমে বিশ্ববাজারে তুলে ধরা যায় তার পথ তৈরি করুন। এমন ভাবেই দেশ আত্মনির্ভর হয়।’ মোদির কথায়, ‘লক্ষ্যে পৌঁছতে গেলে অনেক ক্ষেত্রে গুরুদেবের দেখানো পথে একলাই চলতে হবে।’ শুধু রবীন্দ্রনাথ নন, আত্মনির্ভর ভারতের চিন্তাধার যে আসলে বাংলার বিভিন্ন প্রজন্মদের বিপ্লবীদের আত্মবলিদানেরই ফসল, এদিন সেটাও বুঝিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী আচার্য নরেন্দ্র মোদি। মোদি বললেন, ‘ভারতের আত্মসম্মান রক্ষার জন্য বাংলার বহু প্রজন্ম আত্মবলিদান দিয়েছে।’ প্রধানমন্ত্রীর মুখে এদিন উঠে আসে ক্ষুদিরাম বোস, প্রফুল্ল চাকী, বীণা দাস, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারদের আত্ম বলিদানের কথা। তাঁর কথায়, ‘এঁদের আদর্শের কথা মাথায় রেখে আমাদের আত্মনির্ভর ভারতের সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, ‘গুজরাতের সঙ্গেও রবীন্দ্রনাথের গভীর সম্পর্ক ছিল। গুরুদেব বহুবার গুজরাটে গিয়েছেন। সেখানেই তিনি দুটি বিখ্যাত বাংলা কবিতাও রচনা করেছেন।’

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only