শনিবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২০

২৪ ডিসেম্বর বিশ্বভারতীর প্রতিষ্ঠা দিবসের শতবার্ষিকীতে মুখ্যমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ বিশ্ব ভারতীর, আচার্য না এলে দেবেন ভার্চুয়াল ভাষণ



দেবশ্রী মজুমদার, শান্তি নিকেতন: ২৪ ডিসেম্বর বিশ্বভারতীর প্রতিষ্ঠা দিবসের শতবার্ষিকীতে মুখ্যমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানালো বিশ্ব ভারতী। বিশ্ব বিদ্যালয়ের উপাচার্য বিশ্ব ভারতীর প্রতিষ্ঠা দিবসে উপস্থিত থাকার জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। যদিও, মুখ্যমন্ত্রী আসবেন কিনা, সেব্যাপারে কিছু জানা যায়নি। অন্যদিকে,  বিশ্ব ভারতীর প্রতিষ্ঠার শতবর্ষে আচার্য সশরীরে উপস্থিত নাও থাকতে পারেন। না আসতে পারলে,  দিতে পারেন ভার্চুয়াল ভাষণ, বলে সূত্রের খবর। পৌষ উৎসব হবে মর্যাদা সহকারে। কোভিড কারণে এবার  হবে না পৌষ মেলা। 


শনিবার সেন্ট্রাল লাইব্রেরীর সেমিনার হলে পৌষ সংক্রান্ত আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য বিদ্যুৎ কুমার চক্রবর্তী, শান্তিনিকেতন ট্রাস্টের সম্পাদক অনিল কোনার, কর্মী মণ্ডলের সদস্যগণ, আধিকারিক, অধ্যাপকদের একাংশ। 


এবার পৌষ উৎসবের প্রধান আকর্ষণ বিশ্ব ভারতীর প্রতিষ্ঠা দিবসের শত বার্ষিকী। ৭ ই পৌষ উপাসনা দিবস। মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের ব্রাহ্ম ধর্মে দীক্ষিত হওয়ার দিন। এই দিন আম্রকুঞ্জে পৌষ উৎসবের সূচনা হবে। পৌষ মেলার সূচনা হয়। ৮ ই পৌষ বিশ্ব ভারতীর প্রতিষ্ঠা দিবস, পাঠভবন ও শিক্ষা সত্রের সমাবর্তন। ২৫ ডিসেম্বর খ্রীষ্ট উৎসব পালন হয়।  যদিও এবার সমাবর্তন অনুষ্ঠান হবে না।  ৯ পৌষ প্রয়াত আশ্রমবন্ধু স্মরণে স্মৃতি বাসর। ওই দিন দুপুরে হবিষ্যান্ন ভোজন হয়। মহর্ষি স্মরণে বক্তৃতা হয়। এলাহাবাদের অরুণ প্রকাশ মুখোপাধ্যায় নামে  এক প্রাক্তন ছাত্র তহবিল তৈরি করেন। সেই অর্থে বরাবর উপনিষদের উপর বক্তৃতা হয়। পরে অবশ্য কয়েক বছর ধরে সেমিনার হয়।   


উল্লেখ্য,  ১৯২১ সালে ২৪ ডিসেম্বর বিশ্বভারতীর প্রতিষ্ঠা হয়। সেই উপলক্ষে আচার্য হিসেবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আসতে পারবেন কিনা তা ২০ তারিখ জানা যাবে। সেদিন দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহর শান্তি নিকেতন আসার কথা। সম্ভবত তাঁর মুখ থেকে জানা যাবে আচার্য আসতে পারবেন কিনা। তবে, রাজ্যপাল অর্থাৎ বিশ্ব বিদ্যালয়ের রেক্টর জগদীপ ধনকড় এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রী রমেশ পোখরিয়াল শান্তি নিকেতনে আসছেন ৮ পৌষ।  বিশ্ব বিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রীরা না থাকায়  সঙ্গীত ভবনের অধ্যাপক অধ্যাপিকারা বৈতালিক সহ অন্যান্য প্রার্থনা সঙ্গীত পরিবেশন করবেন। 


ট্রাস্টের সম্পাদক অনিল কোনার বলেন, পৌষ উৎসব হবে। পৌষ মেলা হবে না, সেটা তো কোর্ট মিটিংয়ে ঠিক হয়। করোনা আবহে তো পৌষমেলার জন্য আইনতঃ জেলা পরিষদ থেকে অনুমতি পাওয়া যাবে না। মূলতঃ পৌষ উৎসব কিভাবে হবে। কে কোন দায়িত্ব নেবে এসব আলোচনা হয়। করোনা আবহে সব বিশ্ব বিদ্যালয় তো বন্ধ। পড়ুয়ারা নেই। গান তো সব অনুষ্ঠানে থাকে। সঙ্গীত ভবনের অধ্যক্ষা ছিলেন, তিনি বলেন যেখানে যা করার, তা হবে। ১৮৯৪ সালে মন্দির প্রতিষ্ঠার দিন ৭ পৌষ মেলার সূচনা হয়েছিল মহর্ষির ইচ্ছায়। তাঁর বড় ছেলে দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুরের উদ্যোগে। ১৮৮৮ সালের ২২ মার্চ মহর্ষি গঠিত শান্তি নিকেতন ট্রাস্টের খাজনার অর্থে এই মেলা চলতো। ১৯২১ সালে বিশ্ব ভারতী তৈরি। ১৯৫১ সালে কেন্দ্র সরকার বিশ্বভারতী অধিগ্রহণ করে। তার বহু আগে মহর্ষি দেহ রেখেছেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পৌষ উৎসবের সঙ্গে এই মেলা চালিয়ে এসেছেন মেলাকে শিক্ষার অঙ্গ হিসেবে। যেখানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ আছে। তাই অন্য মেলার থেকে আলাদা। লোকজন দিয়ে মেলা করে দেওয়ার ব্যাপার এটা নয়। যেহেতু বিশ্ব বিদ্যালয় এখন এক অর্থে বন্ধ। পড়ুয়ারা নেই। তাই মেলার আয়োজন করা অসম্ভব।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only