সোমবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২০

বাবরি মামলার চূড়ান্ত রায় একটি বিরল নজির



আহমদ হাসান ইমরানঃ৬ ডিসেম্বরের পর বাবরি মসজিদের ইতিহাসে আর একটি উল্লেখযোগ্য তারিখ হচ্ছে ৯ নভেম্বর, ২০১৯। এদিন সুপ্রিম কোর্টে বাবরি মামলার চূড়ান্ত রায়-টি ঘোষণা করেন মাননীয় প্রধান বিচারপতি শ্রী রঞ্জন গগৈ। এই রায়-টি সারা বিশ্বের আইন বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। 

এই রায়ে বলা হয়, যারা ১৯৪৯ সালে বাবরি মসজিদের অভ্যন্তরে রাম ও সীতার মূর্তি স্থাপন করেছে, তাদের সেই কাজটি ছিল অবৈধ ও বেআইনি। ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের কাজটিও ছিল আইনের লঙ্ঘন। তবুও কিন্তু শেষপর্যন্ত প্রধান বিচারপতি ও তাঁর সহযোগী বিচারপতিরা ৫০০ বছরের  পুরাতন বাবরি মসজিদকে অর্পণ করেন রামমন্দির নির্মাণকারীদের হাতে! এখন দেখা যাচ্ছে যে উত্তরপ্রদেশের যোগী এবং কেন্দ্রের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও এই বিশাল রামমন্দির নির্মাণকাজে অগ্রণী হয়ে অংশ নিচ্ছেন। 

বিচারপতি রঞ্জন গগৈ-এর নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্ট যে রায় দিয়েছে, তা অবশ্যই তাৎপর্যপূর্ণ। বাবরি মসজিদ রায়ে বিচারপতিরা অন্তত কয়েকটি সত্যি কথা উচ্চারণ করেছেন। রায়-এ স্বীকার করা হয়েছে, ৫০০ বছর ধরে এই স্থাপনা ছিল মসজিদ।এখানে অন্যায়ভাবে ১৯৪৯ সালের ডিসেম্বরে রাম লালার মূর্তি স্থাপন করা হয়।   আর ১৯৯২ সালে মসজিদটিকে ধ্বংস করা হয়। উভয় কাজই ছিল বেআইনি। এটা ছিল একটি টাইটল স্যুট। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে জমির মালিকানা বিষয়ে সুপ্রিমকোর্ট নীরব ছিল। 

তবে ধন্যবাদ দিতে হয়, সুপ্রিম কোর্টের বাবরির বিচারকদের। তাঁরা মুসলিম পক্ষকে একেবারে বঞ্চিত করেননি। নাকের বদলে নরুনের ব্যবস্থা করেছেন।  অযোধ্যার গ্রামাঞ্চলে মুসলিম পক্ষকে ৫ একর জমি দিয়েছেন। কাজেই মুসলিমদের ক্ষোভের আর কী কারণ থাকতে পারে! 

তবে দেশের ইনসাফ-পসন্দ মানুষ সুপ্রিম কোর্টের  মর্যাদার খাতিরে এই রায়কে মেনে নিলেও  সকলেই বলছেন, রায়ে সুবিচার হয়নি। দেশের মানুষ এবং সংখ্যালঘু প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই রায়কে মনে রাখবেন। মনে রাখবেন বাবরি মসজিদকেও। 


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only