মঙ্গলবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২০

মূর্তি ও ভাস্কর্য নিয়ে তোলপাড় বাংলাদেশ,নব্য রাজাকার ও নব্য দালাল নিয়ে চাপান-উতর



পুবের কলম প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় হেফাজতে ইসলাম ‘নতুন রাজাকারের ভূমিকায়’ বলে মন্তব্য করেছেন। জবাবে হেফাজতের সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেছেন, এসব কথা যারা বলেন তারা নব্য ভারতীয় দালাল। তিনি এও বলেন, দাবি না মানলে ‘মাঠেই ফয়সালা হবে।’

হেফাজত নেতা মাওলানা মামুনুল হক ও ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের নেতা মাওলানা সৈয়দ ফয়জুল করীম ধোলাইপাড়ে বঙ্গবন্ধুর নির্মাণাধীন ভাস্কর্য ভেঙে ফেলার দাবি তোলার পরও পরিস্থিতি তত উত্তপ্ত হয়নি। কিন্তু কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধুর নির্মাণাধীন ভাস্কর্য ভেঙে ফেলার পর পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠে। এই ঘটনায় দুজন মাদ্রাসা শিক্ষক ও দুই ছাত্রকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ইস্যুতে সরকার কোনো ছাড় দেবে বলে মনে হচ্ছে না। আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনগুলো আগেই ভাস্কর্যের পক্ষে মাঠে নেমেছে। আন্দোলনে নেমেছে অনেক সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনও। সর্বশেষ বিচারক ও সরকারি কর্মকর্তারা মাঠে নেমে প্রতিবাদ করেছেন। তারা বলেছেন, ‘কোনওভাবেই বঙ্গবন্ধুর অবমাননা সহ্য করা হবে না।’

আর সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রীর ছেলে ও তার তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, ‘তাদেরকে আমরা কী বলি? তাদেরকে আমরা রাজাকার বলে ডাকি। একাত্তরে ছিল জামায়াত, আর এখন হেফাজতও সেই নতুন রাজাকার হয়ে দাঁড়াচ্ছে।’

তিনি ‘ডিজিটাল বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার ১২ বছর’ শীর্ষক এক ওয়েবিনারে আরো বলেন, ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকীতে তারা সাহস করেছে জাতির পিতার ভাস্কর্য ভাঙার। জাতির জনকের ওপর হামলা করাটা কী? এটা হচ্ছে আমাদের স্বাধীনতার চেতনার ওপর হামলা। আমাদের স্বাধীনতার চেতনার ওপর হামলা কারা করেছে, যারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে।’

জবাবে হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিুলল হক ইসলামাবাদী বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ। আমরা যদি পাল্টা অভিযোগ করি যে, ওরা হচ্ছে নব্য ভারতীয় দালাল। ওরা ভারতের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য আলেম-ওলামাদের রাজাকার বলছে। আমরা বলব তারা দেশের শত্রু। একটা কুচক্রী মহল দেশের শান্তিশৃঙ্খলা নষ্ট করার জন্য উস্কানি দিচ্ছে। মি. জয় এই উস্কানি আরো বাড়াতে একথা বলছেন।’

হেফাজতে ইসলাম অবশ্য ইতিমধ্যে তাদের দাবি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার আবেদন করেছে। তবে এখনও কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানান ইসলামাবাদী। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কেন দেখা করতে চান জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ভাস্কর্য আর মূর্তি একই জিনিস। এগুলো সরিয়ে ফেলতে হবে। আমাদের দাবি-দাওয়া আমরা রাষ্ট্রের কাছে জানাব। প্রধানমন্ত্রী যেহেতু রাষ্ট্র ও সরকার পরিচালনা করেন, তাই তাঁর সাথে দেখা করতে চাই।’

তিনি আরও বলেন,‘শরিয়তের বিধানের ব্যাপারে কোনও আপস নয়, কোনও ছাড় নয়। সরকার যদি দাবি না মানে তাহলে মাঠে ফয়সালা হবে।’

তবে হেফাজতের মহাসচিব মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমী রবিবার মারা যাওয়ায় এই সপ্তাহে নতুন কর্মসূচি ঘোষণার কথা থাকলেও তা দিচ্ছে না হেফাজত। নানা পর্যায়ে কথা বলে জানা যায়, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ইস্যুতে সরকার ও আওয়ামী লীগ কোনও ছাড় দেবে না। এটাকে তারা চরম আঘাত বলে মনে করছে। তাই হেফাজতের দাবি মেনে নেয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। এমনকী সহজে তারা প্রধামন্ত্রীর দেখাও পাবে না। 

নৌপরিবহণ প্রতিমন্ত্রী ও আওয়ামীর সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, অতীতেও  হেফাজত অনেক আস্ফালন করেছে। তাতে কাজ হয়নি। তারা বাংলাদেশকে আফগানিস্তান বানাতে চায়। কিন্তু তাদের সে স্বপ্ন সফল হবে না। এখানে সাম্প্রদায়িকতার কোনও জায়গা নেই। সজীব ওয়াজেদ জয় ঠিকই বলেছেন, তারা নব্য রাজাকার।

তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হেফাজতের এই অবস্থার জন্য বর্তমান আওয়ামী লীগের ডাবল স্ট্যান্ডার্ড বা দ্বিচারিতা দায়ী। সরকার তাদের দাবি মেনে এর আগে সুপ্রিম কোর্টের সামনে থেকে থেমিসের ভাস্কর্য সরিয়েছে। পাঠ্যপুস্তকে পরিবর্তন এনেছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only