শুক্রবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২০

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির জন্য ইরান-চুক্তি আবশ্যিকঃ বাইডেন



পুবের কলম প্রতিবেদকঃ বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চাইছেন পরমাণু চুক্তিকে পঙ্গু করে দিতে। ২০১৫ সালে ওবামা-বাইডেন সরকারের আমলে আমেরিকা,রাশিয়া,চিন,ব্রিটেন,ফ্রান্স এবং ইরান ও জার্মানি এই চুক্তিতে সই করে। কিন্তু ২০১৮ সালের মে মাসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সেই চুক্তি ছেড়ে বেরিয়ে যান এবং একইসঙ্গে ইরানের ওপর পুনরায় সবরকম নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। বাইডেন তাঁর নির্বাচনী প্রচারে ইরান-চুক্তিতে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তাই তাঁর ওপর আশাবাদী ইরান সহ চুক্তিতে সইদাতা পশ্চিমা দেশগুলো। দেড় মাস পর নয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে হোয়াইট হাউসে প্রবেশ করবেন বাইডেন। এই প্রেক্ষিতে গত শুক্রবার সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে ইরানের কিংবদন্তী পদার্থ ও পরমাণু বিজ্ঞানী ড. মহসিন ফখরিজাদেহকে হত্যা করা হয়। যার জেরে ইরান-ইসরাইল উত্তেজনার পারদ ফের চড়তে শুরু করে। কিন্তু বাইডেনের অপেক্ষায় ধৈর্য্য ধরে রয়েছে ইরান। তারা ইসরাইলকে কাঠগড়ায় তুললেও তড়িঘড়ি বদলা নেওয়ার পথে এগোয়নি।

এই প্রেক্ষাপটে নিউ ইয়র্ক টাইমসকে সাক্ষাৎকারে বাইডেন বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির জন্য ইরান-চুক্তি সর্বোত্তম পথ। এই চুক্তির মাধ্যমে পরমাণু অস্ত্র প্রতিযোগিতার পথ রুদ্ধ করা সম্ভব। উল্লেখ্য, ওই চুক্তি অনুযায়ী ইরানকে ইউরেনিয়াম উৎপাদন ও মজুদের মাত্রা বেঁধে দেওয়া হয়। বিনিময়ে ইরানের ওপর থেকে সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার কথা বলা হয়। নিষেধাজ্ঞার কারণে বহু দেশ থেকে তেল বিক্রির দরুন বকেয়া পাচ্ছে না ইরান। নিষেধাজ্ঞা উঠলে সেগুলো হাতে পাবে ইরান। তাছাড়া, আন্তর্জাতিক ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলো শিল্পায়নের লক্ষ্যে ইরানে বিনিয়োগ করতে পারবে। কারণ, মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে বিজ্ঞান-প্রযুক্তিতে সবথেকে উন্নত দেশ ইরানে গণতন্ত্র রয়েছে। নির্দিষ্ট মেয়াদ অন্তর সুষ্ঠুভাবে নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার বদল হয়। এসব কারণে পশ্চিমা শিল্পদ্যোগীদের পছন্দের গন্তব্য অবশ্যই ইরান। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার কারণে অনেককাল দেশটিতে বিদেশি লগ্নিতে খরা দেখা দিয়েছে। 

এদিকে বুধবার সাক্ষাৎকারে বাইডেন আরও বলেছেন, ইরান যদি সমঝোতার সব শর্ত পুরোপুরি মেনে চলে তাহলে আমেরিকা পরমাণু চুক্তিতে ফিরবে। ট্রাম্প প্রশাসন যেসব নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, সেগুলো তুলে নেওয়া হবে। এর মাধ্যমেই পুনরায় আলোচনার পরিবেশ তৈরি হবে এবং ইরানকে ইতিবাচক বার্তা দেওয়া হবে। বাইডেনের কথায়, আঞ্চলিক ক্ষেত্রে অস্থিরতা ও উত্তেজনা বাড়াবে এমন ক্ষেপণাস্ত্র অবং অন্যান্য সমরাস্ত্র ছাড়াও আনুষঙ্গিক অনেক বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। সর্বোপরি তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফেরাতে পরমাণু চুক্তি হল সর্বোত্তম পথ। কারণ, ইরান যাতে পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র হতে না পারে সে জন্যই ওই চুক্তি হয়েছিল। যাতে ইরানের পরমাণু কর্মসূচির ওপর লাগাম পরানো হয়। চুক্তি অমান্য করলে পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথাও রয়েছে ওই সমঝোতায়। উল্লেখ্য, ট্রাম্পের আমেরিকা চুক্তি ছাড়ার পর অবশ্য ইরান কিছুটা আগের অবস্থানে ফিরে যায়। বাইডেন হয়ত সে কথাই বলছেন। কিন্তু চুক্তি অমান্য করলে ইরানের সাজা হলেও আমেরিকা বা অন্য কোনও পক্ষ চুক্তি ছাড়লে বা অমান্য করলে কেন সাজা হবে না, এ প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। এদিকে ইরানের বিদেশমন্ত্রী ড. মুহাম্মদ জাভেদ জারিফ বলেছেন বাইডেন যদি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে চুক্তিতে ফেরেন তাহলে তেহরানও পুরোপুরি চুক্তিতে ফিরবে।  


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only