রবিবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২০

৬ ডিসেম্বর­ সংবিধান ধ্বংস -চেষ্টা দিবস



আহমদ হাসান ইমরানঃআজ ৬ ডিসেম্বর। আজকের দিনেই সুপ্রিম কোর্টের নিষেধাজ্ঞাকে অমান্য করে প্রায় ৫০০ বছরের পুরনো বাবরি মসজিদকে সংবিধান-বিরোধী ফ্যাসিবাদী বাহিনী প্রকাশ্য দিবালোকে ধ্বংস করে। রাষ্ট্রযন্ত্র শুধু নিষ্ক্রিয় নয়, ছিল মদদদাতা। সুপ্রিম কোর্ট উত্তরপ্রদেশ সরকারের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী কল্যাণ সিংকে এই জন্য একদিনের জেল-হাজতের নির্দেশ দেয়। আর কংগ্রেসি প্রধানমন্ত্রী পি ভি নরসিমা রাওয়ের কদর্য ভূমিকা সকলেরই জানা। বাবরি মসজিদ ধ্বংসের অন্যতম হোতা লালকৃষ্ণ আদবানি স্বয়ং সেখানে উপস্থিত ছিলেন। আর আনন্দের চোটে উমা ভারতী প্রবীণ বিজেপি নেতা মুরলী মনোহর যোশিকে জড়িয়ে ধরে তাঁর কাঁধে ওঠে পড়েন। আর সংঘ পরিবারের মানবিক মুখ বা মুখোশ বলে পরিচিত অটল বিহারী বাজপেয়ী বাবরি মসজিদ ধ্বংসের একদিন আগে ধ্বংসকারী বা তথাকথিত করসেবকদের স্পষ্ট বলে গিয়েছিলেন, ‘আপনারা যদি সেখানে (অযোধ্যায়) করসেবা করেন, তাহলে সুপ্রিম কোর্টের কোনও আদেশকে লঙ্ঘন করা হবে না। আর সেখানে আপনাদের (বাবরি মসজিদের ভূমিকে) সমতল করতে হবে।’ আর করসেবকরা বাজপেয়ীর আদেশমতো বাবরি মসজিদকে ‘সমতল করার জন্য’ আগে থেকেই প্রশিক্ষণ, হাতিয়ার ও যন্ত্রপাতি নিয়ে এসেছিল। 

অবশ্য পরবর্তীতে নরসিমা রাও এবং কংগ্রেসকে মুসলমানরা উচিত শিক্ষা দিয়েছিল। এই ঘটনার পর মুসলমানরা কংগ্রেসকে বর্জন করেছিল। আর কংগ্রেসকে ‘বনবাসে’ গিয়ে ফের ক্ষমতার স্বাদ পেতে ১২ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছিল। তাই ৬ ডিসেম্বর ভারতের সংবিধান ঘোষিত নীতি ‘সব ধর্মের সমান মর্যাদা’-কে ধূলিসাৎ করে বাবরি মসজিদকে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। আর এরপর কীভাবে ধীরে ধীরে সংবিধান বিরোধী ফ্যাসিবাদী শক্তির উত্থান হয়, তা সকলেরই জানা। 

তবে ৬ ডিসেম্বর ১৯৯২, না ভারত স্বাধীনতা অর্জনের পর ২২/২৩ ডিসেম্বর, ১৯৪৯-এর গভীর রাতে সকলের অগোচরে বাবরি মসজিদের মিম্বরে শ্রীরাম ও সীতার মূর্তি স্থাপন করার মধ্যে দিয়েই সূচনা হয়েছিল ভারতকে বিশেষ একটি রাষ্ট্রে পরিণত করে সংবিধানকে পালটে দেওয়ার চক্রান্তের! কারণ এই বেআইনি ঘটনার বিরুদ্ধে প্রথম যে এফআইআর-টি দায়ের করা হয়েছিল, তা করেছিলেন ঘটনার প্রথম সাক্ষী কনস্টেবল মাতাপ্রসাদ। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর বারবার চিঠি লেখা সত্ত্বেও উত্তরপ্রদেশের তৎকালীন সংঘবাদী মুখ্যমন্ত্রী মসজিদ থেকে মূর্তি ২টি সরাতে দেননি। উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকরাও ছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে। বিষয়টিকে তারা তালাবন্ধ ও মামলাধীন করে রেখে দিয়েছিলেন। পরে ১৯৮৬ সালে রাজীব গান্ধির সময়ে স্থানীয় এক আদালতের ‘হঠাৎ রায়ে’ পুজো করার জন্য বাবরি মসজিদের তালা খুলে দেওয়া হয়। তখন একমাত্র টেলিভিশন চ্যানেল ছিল ‘দূরদর্শন’। তাদেরকে আগেই খবর দেওয়া হয়েছিল রায় কী হতে যাচ্ছে। তারা রায় বেরোনোর কয়েক ঘণ্টা আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন তালা খোলার দৃশ্য ভারতজুড়ে প্রচার করার জন্য। 

এরপর  ৫০০ বছরের মসজিদের জমিনে ইলাহাবাদ হাইকোর্ট এবং দেশের সুপ্রিম কোর্ট বাবরি মসজিদ মামলায় একের পর এক রায় দিয়ে কীভাবে অযোধ্যায় বাবরি-ভূমিতে সুবিশাল রাম মন্দির গড়ার ব্যবস্থা করল, সেই কাহিনিও যথেষ্ট চিত্তাকর্ষক। 

                                                                                                                                               ক্রমশ...

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only