বৃহস্পতিবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২০

বিশ্ব ভারতীকে গৈরিকীকরণের প্রচেষ্টা সহ বেশ কিছু প্রশ্নকে "নো" বল বলে এড়িয়ে গেলেন ধনকড়

 





দেবশ্রী মজুমদার, শান্তি নিকেতন, ২৪ ডিসেম্বর: রবীন্দ্রনাথকে উদ্ধৃতি দিয়ে বিশ্বভারতীর রেক্টর জগদীপ ধনকড় ' জ্ঞানকে মুক্ত প্রাচীর' হওয়ার কথা বললেন। কিন্তু বিশ্ব ভারতীকে গৈরিকীকরণের চেষ্টা নিয়ে রবীন্দ্র অনুরাগীদের অভিযোগের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের কোন উত্তর দিতে চাইলেন না। উপাচার্যকে পাগল বলেন 

অনুব্রত। পাশাপাশি, বিজেপির রাজনীতি বিশ্বভারতীতে হলে, তৃণমূলের ফ্ল্যাগ লাগানো হবে বলেন অনুব্রত। এসব প্রশ্নকে এড়িয়ে যান তিনি। তিনি বলেন, উপাচার্যের এসব গুরুত্ব দেওয়ার দরকার নেই। রাজ্যপালকে অনেক কথায় অলঙ্কৃত করা হয়েছে। বরং এই সব প্রশ্নকে "নো" বল বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পশ্চিম বঙ্গে তো দাদা আছেন। ক্রিকেটে তো সব বল খেলতে হয় না। আবার কিছু বল ছাড়তেও হয় না। শান্তি নিকেতনের আম্রকুঞ্জে

বিশ্ব ভারতীর প্রতিষ্ঠার শতবর্ষের অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন রাজ্যপাল তথা বিশ্ব ভারতীর রেক্টর জগদীপ ধনকড়। উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী সহ অন্যান্যরা। 

এদিন শিক্ষা সম্বন্ধীয় প্রশ্ন ছাড়া কোন প্রশ্নের উত্তর দিতে চান নি তিনি। এদিন কেন্দ্রের জাতীয় শিক্ষা নীতি প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এটা দেশের শিক্ষা নীতি। এব্যাপারে বিশ্ব বিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যানের সাথে তাঁর কথা হয়েছে। এর মধ্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাবনা যুক্ত আছে। যদিও, কেন্দ্রীয় শিক্ষা নীতির বিরুদ্ধে গৈরিকীকরণের অভিযোগ তুলেছেন বিরোধী থেকে শিক্ষাবিদরা। রবীন্দ্রনাথ সমস্ত ধর্মীয় গোঁড়ামি থেকে মুক্ত ছিলেন। তাঁর প্রদর্শিত শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে কেন্দ্রীয় শিক্ষা নীতির কোথায় মিল, সে ব্যাপারে স্পষ্ট কিছু বলেন নি। এদিন, রবীন্দ্র রচিত জাতীয় সঙ্গীত বদলে দেওয়ার জন্য বিজেপির মনোভাব নিয়ে প্রশ্ন করা হলে, বিষয়টি এড়িয়ে রেক্টর তথা পশ্চিম বঙ্গের রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যা দিয়ে গেছেন, তা অমূল্য ও সঠিক।  

এদিন রেক্টর তাঁর অভিভাষণে বলেন, বিশ্ব ভারতীর প্রতিষ্ঠার শত বার্ষিকীতে উপস্থিত থাকতে পেরে তিনি ধন্য। গুরুদেব সর্বজনীন আইকন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত বিশ্ব ভারতী উন্নতি ও শিক্ষার ভাণ্ডার। স্বাধীন চিন্তার বিচরণ ক্ষেত্র এই বিশ্বভারতী। প্রতিষ্ঠা শত বার্ষিকী পালনের মধ্য দিয়ে আমরা আমাদের আত্মশক্তি বাড়াতে পারি। নালন্দা ও তক্ষশীলাকে এক সাথে উচ্চারণ করে, গুরুদেবের মুক্ত চিন্তার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য উপাচার্য, ছাত্র ছাত্রী থেকে সকলের কাছে আহ্বান জানান তিনি। সব শেষে রেক্টর জগদীপ ধনকড় বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী আজ যে চিন্তন ও ভাবনার প্রকাশ করেছেন, তা এই প্রতিষ্ঠান মন্থন করার সময় পাবেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only