মঙ্গলবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২০

আজ থেকে শুরু রাজ্য সরকারের ‘দুয়ারে সরকার’ কর্মসূচি



পুবের কলম প্রতিবেদকঃ শিয়রে বিধানসভার ভোট। আর সেই ভোটের আগেই যাতে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা আম নাগরিক পান তার জন্য আজ মঙ্গলবার থেকেই মানুষের হাতের নাগালে ‘দুয়ারে দুয়ারে সরকার’ কর্মসূচি নিয়ে পৌঁছে যাচ্ছে প্রশাসন। আগামী দু’মাস ধরে অর্থাৎ ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত চার দফায় ২০ হাজার শিবির করে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে রাজ্য সরকারের ১১টি জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা। শিবির নিয়ে যাতে কোনও সমস্যা না হয়, তার জন্য বিশেষ নজরদারিও চালানো হবে। কোনও প্রকল্প নিয়ে মানুষের অভিযোগ থাকলে তাও শোনা হবে। 

গত সোমবারই বাঁকুড়ার প্রশাসনিক সভা থেকে রাজ্যে ‘দুয়ারে দুয়ারে সরকার’ কর্মসূচি শুরুর কথা ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতে সরকারি দফতরে হত্যে দিয়ে পড়ে থাকা যেখানে দস্তুর, সেখানে প্রশাসনকে মানুষের দরজায় নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের কাছে, যা অভিনব। আজ মঙ্গলবার থেকেই শুরু হচ্ছে ওই কর্মসূচি। বিশাল রাজসূয় যজ্ঞ যাতে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়, তার জন্য এ দিন নবান্ন থেকে ভিডিয়ো কনফারেন্সের মাধ্যমে সব জেলার জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের নিয়ে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকে হাজির ছিলেন মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ও।  

সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ‘মোট চারটি ধাপে ২০ হাজার শিবিরের মাধ্যমে গোটা রাজ্যজুড়ে ‘দুয়ারে দুয়ারে সরকার’ কর্মসূচি সম্পন্ন করা হবে। এই কর্মসূচির আওতায় স্বাস্থ্যসাথী, তপশিলি জাতিউপজাতি শংসাপত্র, খাদ্যসাথী,কৃষকবন্ধু, জয় জহওর, শিক্ষাশ্রী, কন্যাশ্রী, রুপশ্রী এবং ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পও থাকছে। তাছাড়া সাধারণ মানুষের কোনও বিষয়ে অভিযোগ থাকলে তাও জানানো যাবে শিবিরে।’

জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা পেতে কী কী নথিপত্র জমা দিতে হবে, তাও শীঘ্রই ‘এগিয়ে বাংলা’ সহ রাজ্য সরকারের বিভিন্ন ওয়েবসাইটে জানিয়ে দেওয়া হবে। রাজ্যজুড়ে দু’মাস ধরে যে শিবির বসানোর কথা, তা ঠিকমতো চলছে কি না, তার উপরেও বিশেষ নজরদারি চলবে। ‘দুয়ারে দুয়ারে সরকার’ কর্মসূচির প্রথম ধাপের কাজ চলবে আজ থেকে আগামী ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। দ্বিতীয় পর্যায়ের শিবির বসবে ১৫ থেকে ২৪ ডিসেম্বর। তৃতীয় পর্যায়ের শিবির বসবে ২ থেকে ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত। আর চতুর্থ তথা শেষ পর্যায়ের শিবির বসবে ১৮ থেকে ৩০ জানুয়ারি। কর্মসূচির উপরে নজরদারির জন্য সিনিয়র আইএএস অফিসারদের প্রত্যেকটি জেলায় নোডাল অফিসার হিসেবে রাখা হয়েছে। প্রশাসনিক আধিকারিকরা নিয়মিত শিবিরগুলিতে হাজির থাকবেন। 


মুখ্যসচিব জানান– ‘প্রতিটি পর্যায়ে কী কী কাজ করা হবে তার বিস্তারিত উল্লেখ থাকছে। প্রথম রাউন্ডে মূলত সাধারণ মানুষ পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে কী অসুবিধার মুখে পড়ছেন তা ফর্ম পূরণ করার মাধ্যমে জানাবেন। দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে সেই  সুবিধাগুলো দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। রাজ্যজুড়ে গ্রাম পঞ্চায়েত ও পুরসভার ওয়ার্ড স্তরে কর্মসূচির প্রচার চালানো হবে। রাজ্য সরকারের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি সম্পর্কে আম নাগরিক যাতে বেশি করে অবহিত হন– তার জন্য লোকশিল্পীদেরও প্রচারের কাজে নামানো হচ্ছে।’


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only