বুধবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২০

অসমে ‘নাগরিকত্ব’ খেলার অমানবিক নিদর্শন,বিদেশি অপবাদ নিয়েই ১০৪ বছরের চন্দ্রধরের বিদায়



বিশেষ প্রতিবেদকঃবিদেশি ফাইল খোলা রেখেই ১০৪ বছর বয়সে বিদায় নিলেন শিলচরের আমরাঘাটের বাসিন্দা চন্দ্রধর দাস। তিনমাস ডিটেনশন ক্যাম্পে কাটিয়ে দুই বছর লাগাতার অশক্ত শরীরে আদালতে হাজিরা দিয়েও নিজেকে ভারতীয় নাগরিক প্রমাণ করতে পারেননি। ফলে দেশের মাটিতেই অ-নাগরিকের তকমা নিয়ে তাঁকে শেষ বিদায় নিতে হল।এখন চন্দ্রধর দাসের পরিবারের জেদ মৃত্যুর পরও তাঁর নাগরিকত্ব পাইয়ে দিতে দীর্ঘ আইনি লড়াই চালিয়ে যেতে চান।

২০১৮ সালের জানুয়ারিতে অসমের ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল ১০২ বছরের বাসিন্দা চন্দ্রধর দাসকে নিজের ভারতীয় নাগরিত্বের প্রমাণ দেওয়ার নোটিশ দেয়। শারীরিক অসুস্থতার জন্য তিনি নির্দিষ্ট দিনে আদালতে হাজির হতে পারেননি। এর ফলে ট্রাইব্যুনাল এক তরফা রায়ে তাঁকে বিদেশি ঘোষণা করে। বয়সের ভারে প্রায় অথর্ব মানুষটিকে তিন মাস কাটাতে হয়েছে ডিটেনশন ক্যাম্পে। তারপর লাগাতার ভাবে দুই বছর আদালতে হাজিরা দিতে হয়েছে ওই শতবর্ষ |র্ধ্ব মানুষটিকে। তবুও নাগরিকত্ব প্রমাণিত হয়নি। শেষ ইচ্ছা ছিল,দেশের মাটিতে মারা যাওয়ার আগে নাগরিকত্বের স্বীকৃতিটি পাওয়া। কিন্তু শেষ স্বপ্নপূরণ হল না। দেশ,পরিবার,আত্মীয়-স্বজন আইনি লড়াই,সমস্ত সম্পর্ক ও বেড়াজাল কেটে শেষ বিদায় নিলেন।

একজন শতাধিক বছর বয়সী বৃদ্ধের মৃতু্যকে স্বাভাবিক ঘটনা হিসাবে ধরা হলেও চন্দ্রধর দাসের মৃত্যু সম্পূর্ণ অন্যরকমের। তাঁর মৃতু্য গোটা ভারতের আইন ব্যবস্থাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। মৃত্যুর পথযাত্রী একজন বয়সের ভারে ন্যুব্জ ব্যক্তির প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া কি এ এদেশের আইন ব্যবস্থার পক্ষে সম্ভব ছিল না?

অসমের বিদেশি ট্রাইব্যুনাল ২০১৮ সালের মে মাসে তাঁকে বিদেশি ঘোষণা করে শিলচর ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেয়। সেখানে তাঁর স্বাস্থ্যের অবনতি হয়। মানবিকতার খাতিরে জামিন পেলেও নাগরিকত্ব নিয়ে চলেছে দীর্ঘ টানা-হ্যাঁচড়া। তাঁর শেষ ইচ্ছা ছিল, কেন্দ্রের বিজেপি সরকার ওপার বাংলা থেকে আগত উদ্বাস্তুদের নাগরিকত্ব দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি নির্বাচনের আগে দিয়েছিল, তার ভিত্তিতে তিনিও এবার বোধ হয় নিশ্চিতভাবে নাগরিকত্ব পাবেন। পরে যূন নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন পাশ হল, সেই খবর পেয়েও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছিলেন বৃদ্ধ চন্দ্রধর। কিন্তু কেবল প্রশাসন ও সরকারি উদাসীনতায় তাঁকে দেশের অনাগরিকের তকমা নিয়ে বিদায় নিতে হল। তাঁর স্ত্রী আদরমণি দাস বলেন, তাঁর স্বামীর মতো তিনিও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভক্ত। ‘তবে জানি না তাঁর বানানো আইন আমাদের শেষপর্যন্ত রক্ষা করতে পারবে কি না!’

ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে চন্দ্রধর দাসের আইনজীবী ছিলেন সৌমেন চৌধুরি। তিনি বলেন, সরকার উদাসীন না হলে চন্দ্রধর দাসকে নাগরিকত্ব দেওয়া যেত। কেবল ঢালঢোল পিটিয়ে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন বা সিএএ-র প্রচার চালানো হয়েছে। কাজের কাজ কিছুই হয়নি। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only