মঙ্গলবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২০

কৃষক আন্দোলনের ২০ দিন, অনড় দু'পক্ষই



পুবের কলম প্রতিবেদকঃসোমবার কৃষক নেতাদের দেশব্যাপী অনশনের মাঝে এ দিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দেখা করেন কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্রসিং তোমারের সঙ্গে। দিল্লি সীমান্তে গত নভেম্বর মাস থেকে নতুন কৃষি আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছেন হাজার হাজার কৃষক। কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে একাধিক বৈঠকের পরেও কৃষক সমস্যার জট খোলেনি।এ দিনও কৃষকরা জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁদের আন্দোলন চলবে যতদিন না সরকার কৃষি আইন সম্পূর্ণ রদ করছে। অপরদিকে এ দিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, কৃষি আইন ফিরিয়ে নেওয়ার কোনও প্রশ্নই ওঠে না। কারণ সরকার কৃষিক্ষেত্রে যে সংস্কার করেছে, সেটি কৃষকের স্বার্থে করা হয়েছে। এ দিন কৃষিমন্ত্রী তোমার বলেছেন, কৃষি আইন রদ করা হবে না। তবে আমরা আন্দোলনরত কৃষকদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে আগ্রহী। নেতাদের কাছ থেকে আমরা অবশ্য এখনও উত্তর পাইনি। তবে তোমার বলেছেন, আমরা কৃষি আইনের প্রত্যেকটি ধারা নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত। আবার এ দিন তিনি ১০টি কৃষক সংগঠনের সঙ্গে কথা বলেন, যাঁরা কৃষি আইনের বিরোধী নয়। এ দিন দিল্লি-জয়পুর হাইওয়েতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছিলেন কিছু কৃষক। কৃষকদের ট্রাক্টরের চাবি কেড়ে নেয় পুলিশ। যাতে তাঁরা অভিযানে শামিল হতে না পারেন। প্রায় ২০ জন কৃষককে আটক করেন পুলিশ।

৩৩ জন কৃষক নেতা যাঁরা সরকারের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন তাঁরা এ দিন অনশনে বসেন। এ দিকে দিল্লি মু্যূমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালও এ দিন অনশনে বসেছিলেন কৃষকদের সমর্থনে। তাঁকে কটাক্ষ করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকর এ দিন বলেছেন, কেজরিওয়াল আসলে ভণ্ডামি করছেন। কেজরিওয়াল আবার এ দিন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী অমরেন্দ্র সিংয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন, তিনি কৃষি আন্দোলনকে সরকারের কাছে বিক্রি করছেন। ভারতীয় কৃষাণ ইউনিয়নের (ভানু গোষ্ঠী) নেতারা বিকেইউ নেতা যোগেশ প্রতাপের বিরুদ্ধে নালিশ করেছেন, তাঁর নির্দেশে নয়ডা-দিল্লি হাইওয়ে আংশিক খুলে দেওয়াটা ঠিক হয়নি। 

কৃষক আন্দোলন চলাকালীন এ দিন আইএমএলডি হরিয়ানায় আসন্ন পুর নির্বাচন বয়কট করার কথা ঘোষণা করেছে। এ কথা জানিয়েছেন দলের নেতা অভয় চৌতালা। এরই মধ্যে বিজেপি ঘোষণা করেছে, মধ্যপ্রদেশে তারা কৃষি আইনের সমর্থনে কৃষক সম্মেলনের আয়োজন করবে। আপের নেতা রাঘব চাড্ডা বলেছেন, যাঁরা আন্দোলন করছেন সেই কৃষকদের যাঁরা ভারত-বিরোধী বলেছেন তাঁদের পাকিস্তানে চলে যাওয়া উচিত। সোমবার উত্তরপ্রদেশে কৃষকদের সমর্থনে প্রতিবাদসভা করেছে অূিলেশ যাদবের দল সমাজবাদী পার্টি। লুধিয়ানার ডেপুটি কমিশনের অফিসের সামনে ধরনায় বসেছেন কৃষকরা। পঞ্জাবের লুধিয়ানা,পাটিয়ালা,সংরুর,বারনালা,ভাতিন্দা,মুডা,ফরিদকোর্ট প্রভৃতি জেলায় আন্দোলন প্রতিবাদ করেন কৃষকরা। হরিয়ানার বিভিন্ন জেলায়ও কৃষকদের প্রতিবাদ দেখা গেছে। উত্তরপ্রদেশ-দিল্লির সীমান্তে গাজিপুরে ২৪নং ন্যাশনাল হাইওয়ে এ দিন অবরোধ করেন কৃষকরা। তবে পরে সেই অবরোধ তুলে দেওয়া হয়। ভারতীয় কৃষাণ ইউয়নের নেতা রাকেশ তিকাইত বলেছেন, আমরা সাধারণ মানুষের অসুবিধেগুলি বুঝি। আজ সন্ধে ৭টার পর যখন অন্ধকার নেমে আসে, তখন দিল্লির সিঙ্ঘু সীমান্তে প্রধান মঞ্চের সামনে ভলান্টিয়াররা কার্পেট পেতে দেন। শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় আন্দোলনরত কৃষকরা মোটা শাল,কম্বল গায়ে দেন। সবাইকে চা দেওয়া হয়। তারপরেই শুরু হয় লঙ্গর। 

কৃষকদের আন্দোলন চলার মাঝে আরএসএস-এর যুক্ত স্বদেশি জাগরণ মঞ্চ কৃষি আইনে কয়েকটি সংশোধনের প্রস্তাব দিয়েছে। তারা বলেছে, ন্যূনতম সহায়কমূল্য বা এমএসটি-র আইনি রক্ষকবচ দেওয়াই উচিত। ন্যূনতম সহায়কমূল্যের কম দামে যদি কেউ ফসল কেনে, তা হলে সেটা বেআইনি বলে ঘোষণা করা উচিত। এই মর্মে স্বদেশি জাগরণ মঞ্চ একটি প্রস্তাব পাস করেছে।

ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাঘেল এ দিন বলেছেন, সারাদেশে বিভিন্ন রাজ্যে মান্ডির চরিত্র আলাদা আলাদা। তাহলে কীভাবে বিজেপি সরকার সারাদেশের জন্য একটি কৃষি বলবৎ করছে? বাঘেল আরও বলেন, ইউপিএ এবং এনডিএ-র মধ্যে এটাই পার্থক্য। ইউপিএ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আইন প্রণয়ন করে। কিন্তু এনডিএ আইন করার পর সেটা লাগু করতে গিয়ে ল্যাজে-গোবরে হয়। কারণ, এর অভিজ্ঞতার অভাব আছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only