বৃহস্পতিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২০

কৃষক বিক্ষোভে রুদ্ধ দিল্লি প্রবেশের পাঁচ পথ



পুবের কলম প্রতিবেদকঃ এই নিয়ে টানা ৬ দিনে পা দিল কৃষক আন্দোলন। মঙ্গলবার কেন্দ্রের সঙ্গে প্রথম দফার আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে। বৃহস্পতিবার ফের দ্বিতীয় দফা বৈঠক হওয়ার কথা। কৃষকরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, নয়া কৃষি আইন প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যদিকে, কেন্দ্রের পক্ষ থেকেও বলা হচ্ছে, আইন প্রত্যাহার করা সম্ভব নয়। দু’পক্ষের টানাটানির মধ্যে প্রথম দিনের বৈঠক নিষ্ফলা থাকে। যদিও কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমার পরে সাংবাদিকদের বলেন, তাঁদের তরফ থেকে কৃষকদের বোঝানোর সব ধরনের চেষ্টা করা হয়েছিল। একদিকে, আলোচনার প্রক্রিয়া চললেও অন্যদিকে আন্দোলন জারি রেখেছেন কৃষকরা। তাঁরা নিজেদের দাবিতে অনড় যে, আইন প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। এ দিকে, বুধবার দিল্লি প্রবেশের তিনটি রাস্তাই অবরুদ্ধ করে দিয়েছেন আন্দোলনকারী কৃষকরা। একইসঙ্গে পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে পুলিশ-প্রশাসনও। বিপুল সংখ্যায় পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। একের পর এক ব্যারিকেড তৈরি করে রেখেছে তারা। দিল্লি-নয়ডা সীমান্ত,গুরগাঁও, ঝজ্জর-বাহাদুরগড়,সিংঘু ও টিকরি সীমান্ত মিলিয়ে দিল্লি প্রবেশের পাঁচটি রাস্তাই অবরুদ্ধ করে রেখেছেন কৃষকরা। এ দিকে, কৃষক আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছেন ভীম আর্মি প্রধান চন্দ্রশেখর আজাদ। দিল্লি-গাজিয়াপুর সীমান্তে আন্দোলনরত কৃষকদের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের সমর্থনও জানিয়ে এসেছেন। কৃষকদের সঙ্গে গলা মিলিয়ে তিনিও দাবি তুলেছেন, কৃষি আইন প্রত্যাহার করতে হবে। সিংঘু সীমান্তে কৃষক আন্দোলনে যোগ দিতে গিয়ে গ্রেফতার হয়েছেন শাহিনবাগ আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ বিলকিস দাদি। কৃষকদের আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছেন দিল্লির পড়ুয়ারাও । তাঁরাও প্ল্যাকার্ড হাতে কৃষক আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন। যদিও এই পরিস্থিতিতে কিছুটা হলেও বেসুরো শুনিয়েছে আম আদমি পার্টির মন্তব্য। আপের তরফে বলা হয়েছে, এই কৃষি আইন লোকসভা ও রাজ্যসভা দু’কক্ষেই পাস হয়েছে। তাতে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরও রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কোনও রাজ্য চাইলেই তা রদ করতে পারে না। তাই পঞ্জাব সরকারের উচিত এই আন্দোলনে ইন্ধন না দেওয়া। যদিও আন্দোলনকারী কৃষকরা সাফ জানিয়েছেন, এই ‘কালা’ আইন প্রত্যাহার করে নিতে হবে। প্রয়োজনে সংসদে বিশেষ অধিবেশন ডেকে এই আইন প্রত্যাহার করতে হবে। শুধু তাই নয়, এটাই যে কেন্দ্রকে দেওয়া তাদের ‘শেষ সুযোগ’ সেটাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন কৃষকরা। অর্থাৎ, তাঁরা বোঝাতে চেয়েছেন, বৃহস্পতিবারের বৈঠকই তাঁরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানতে চান। এরপর আর আলোচনা নয়। একইসঙ্গে তাঁদের দাবি,শুধু পঞ্জাব নয়, সমস্ত দেশের কৃষক প্রতিনিধিদের বৈঠকে রাখতে হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only