শনিবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২০

‘পাশে আছি’ আন্দোলনকারী কৃষক নেতাদের ফোনে মমতা



পুবের কলম প্রতিবেদক:­ ২৪ ঘণ্টা আগেই নয়া কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবি জানানোর পাশাপাশি দেশজুড়ে আন্দোলন গড়ে তোলার হুমকি দিয়েছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর শুক্রবার সোজা নিজের বিশ্বস্ত সঙ্গী ডেরেক ও’ব্রায়েনকে দিল্লির উপকণ্ঠে বিদ্রোহী কৃষকদের অবস্থান মঞ্চে পাঠানোর পাশাপাশি আন্দোলনকারী নেতাদের সঙ্গে ফোনে চার-চারবার কথা বললেন। ‘বিদ্রোহী’ কৃষকদের বরাভয় দিয়ে বলেছেন, ‘পাশে আছি’। বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর এমন ভূমিকায় আপ্ল$ত কৃষক নেতারা। তাঁরাও পালটা ধন্যবাদ জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। শুধু কৃষক নেতাদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেই দায় সারেননি তৃণমূল নেত্রী। দলের কৃষক ও ক্ষেতমজুর সংগঠনকেও রাস্তায় নামাচ্ছেন। সবমিলিয়ে ফের দলকে কৃষক আন্দোলনমুখী করে তুলতে চাইছেন। 

সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই নয়া কৃষি আইন নিয়ে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে দেশের অন্নদাতা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের রোষ যে বাড়ছে, তা বুঝতে অসুবিধা হয়নি এক সময়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম কৃষিজমি রক্ষা আন্দোলনকে গণ আন্দোলনে পরিণত করা তৃণমূল সুপ্রিমো। এ দিন সকালেই এক টু্ইটে নিজের রাজনৈতিক উত্তরণে যে কৃষিজমি আন্দোলন বড় ভূমিকা নিয়েছিল, তা স্মরণ করে এক টু্ইট করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই টু্ইটে তিনি লেখেন, ‘১৪ বছর আগে ৪ ডিসেম্বর ২০০৬ আমি কলকাতায় ২৬ দিন অনশন শুরু করেছিলাম। কৃষিজমি জোর করে ছিনিয়ে না নেওয়ার দাবিতেই ছিল সেই অনশন। কেন্দ্রের কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে বর্তমানে দেশে কৃষকরা যে আন্দোলন করছেন, তাকে আমি পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছি। কৃষকদের সঙ্গে আলোচনা না করে এই বিল পাস করানো হয়েছে।’ 

আন্দোলনকারী কৃষকদের পাশে তৃণমূল কংগ্রেস সর্বাত্মকভাবে রয়েছে, দলনেত্রীর সেই বার্তা নিয়ে এ দিন দিল্লির উপকণ্ঠে আন্দোলনকারী কৃষকদের অবস্থান মঞ্চে পৌঁছে গিয়েছিলেন রাজ্যসভায় দলের নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন। প্রায় ঘণ্টা চারেক কাটান তিনি। ডেরেকই ফোনে কৃষক নেতা পরমজিত সিং সহ আরও বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলিয়ে দেন তৃণমূল নেত্রীকে। আন্দোলনকারীদের বরাভয় দিয়ে মমতা বলেছেন, ‘চিন্তা করবেন না। আপনাদের আন্দোলনের পাশে রয়েছি। আপনাদের যে কোনও সাহায্যের প্রয়োজন হলে বলে। যথাসাধ্য চেষ্টা করব। আপনারা আপনাদের মতো আন্দোলন চালিয়ে যান। আমরাও আমাদের সাধ্যমতো আন্দোলন গড়ে তোলার চেষ্টা করব।’ আন্দোলনকারীরা কৃষি আইন প্রত্যাহারের যে দাবি জানিয়েছে, তার সঙ্গে তিনি সহমত বলেও জানিয়ে দেন তৃণমূল সুপ্রিমো। বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর এমন সহমর্মিতায় যে আন্দোলনকারীরা বেশ আপ্লুত, তা বোঝা গিয়েছে পঞ্জাবের এক কৃষক নেতার কথায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন,‘যদি আপনার কোনও প্রয়োজনে আমাদের ডাকেন, তাহলে আমরা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেব।’

শুধু ডেরেক ও’ব্রায়েনকে দিল্লির উপকণ্ঠে পাঠানো, ফোনে কথা বলেই যে কৃষকদের আন্দোলনকে সমর্থনের দায়িত্ব এড়াচ্ছেন না তৃণমূল সুপ্রিমো,বরং আরও বেশি করে সক্রিয় হচ্ছেন, তা বোঝা গিয়েছে এ দিন বিকালেই। কৃষি আইনের বিরুদ্ধে রাজপথে দলের ক্ষেতমজুর সংগঠনকে নামাচ্ছেন। আগামী ৮ ডিসেম্বর থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়ো রোডে গান্ধি মূর্তির পাদদেশে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষেতমজুর সমিতির পক্ষ থেকে অবস্থান-বিক্ষোভের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। কর্মসূচির শেষ দিনে অবস্থান মঞ্চে ভাষণ দেবেন মমতা। তাছাড়া আগামী সোমবার ৭ ডিসেম্বর রাজনৈতিক সভা করতে মেদিনীপুর যাচ্ছেন তৃণমূল কংগ্রেসের দলনেত্রী। ওই সভা থেকেও মোদি সরকারের কৃষি আইন নিয়ে তিনি আরও সুর চড়াতে পারেন। 

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, একুশের বিধানসভা ভোটের দিকে তাকিয়ে অঙ্ক কষেই কৃষি আইনের বিরুদ্ধে ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়তে চাইছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত লোকসভা ভোটে যে গ্রাম বাংলা পদ্মশিবিরের দিকে ভিড়েছিল, সেই গ্রামীণ মানুষগুলিকে ফের নিজের দিকে টেনে আনতে আরও কোনও মোক্ষম অস্ত্র প্রয়োগ করতে পারেন মানুষ আর মাটির কাছাকাছি থাকা তৃণমূল নেত্রী।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only