সোমবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২০

অনশনে অন্নদাতারা



পুবের কলম প্রতিবেদকঃ কেন্দ্রীয় সরকারের তিনটি বিতর্কিত কৃষি আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত কৃষকরা রবিবার রাজস্থান-হরিয়ানা সীমান্তে শাহজানপুর থেকে তাঁদের ট্র্যাক্টর অভিযান শুরু করেন। এর ফলে সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় দিল্লি-জয়পুর হাইওয়ে। স্বরাজ ভারতের শীর্ষনেতা যোগন্দ্র যাদব এবং সমাজকর্মী মেধা পাটেকর এই অভিযানের নেতৃত্ব দেন। গুরুগ্রামের কাছে শান্তি-শৃঙ্খলার দায়িত্বে ছিলেন প্রায় দু’হাজার পুলিশ, ছিলেন পুলিশের বড় কর্তারা। আজকের এই কৃষক অভিযান নিয়ে সকালেই কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমার দেখা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে। তবে সকালে এ দিন কৃষক নেতাদের সঙ্গে দেখা করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তাঁর সঙ্গে দেখা করার পর আন্দোলনকারী কৃষকরা নয়ডা-দিল্লি সীমান্তে চিল্লার কাছে আংশিক পথ খুলে দেন। তবে কৃষকদের দাবি, রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে আলোচনার পর তাঁরা আংশিকভাবে পথ অবরোধ তুলে নিলেও অভিযান আন্দোলন চলবে। এ দিন হাজার হাজার কৃষক দিল্লির অভিমুখে অভিযান করেন। তাঁরা এ দিন হরিয়ানার কাছে পৌঁছেছেন রেওয়ারি সীমান্তে। এখান থেকে দিল্লির অভিমুখে কৃষকদের অভিযান শুরু হবে ফের সোমবার।

রবিবার সকালে রাজস্থানের শাহজাহানপুর থেকে ১২০ কিমি দূরে দিল্লির দিকে অভিযান শুরু করেছিলেন কৃষকরা। কৃষকদের অপর এক দল রাজস্থানের নিমরানা থেকে দিল্লির দিকে অভিযান শুরু করেন।রাষ্ট্রীয় লোকতান্ত্রিক পার্টির শীর্ষনেতা হনুমান বেণীওয়াল দিল্লির সীমান্তে গিয়ে যোগ দেন আন্দোলনকারী কৃষকদের সঙ্গে। নাগপুর জেলার জাট কৃষকদের উপর বেণীওয়ালের দলের বিশাল প্রভাব রয়েছে। দিল্লির নিকট সিঙ্ঘু সীমান্তে কৃষকরা এ দিন ঘোষণা করেছেন সোমবার তাঁরা অনশনে বসতে চলেছেন। সমস্ত জেলার সদর দফতরগুলির সামনে কৃষকরা ধরনায় বসবেন বলে জানিয়েছেন। সিঙ্ঘুতে আন্দোলনরত কৃষকদের নেতা এ দিন বলদেব সিং সিরসা বলেছেন, সরকার কৃষকদের ধৈর্যের পরীক্ষা নিচ্ছে। প্রথমে তারা বললেন কৃষকরা পাকিস্তানি, তারা বলছে চিন নাকি কৃষক আন্দোলনে ইন্ধন জোগাচ্ছে। এখন সরকার বলছে, মাওবাদী-নকশালরা নাকি কৃষক আন্দোলন পরিচালনা করছে। এইসব বলে সরকার কৃষকদের ধৈর্যের পরীক্ষা নেওয়া বন্ধ করুক। হরিয়ানা কৃষক সংগঠন কিষাণ মঞ্চের শীর্ষনেতা প্রহ্লাদ সিং ভারুখেরা এ দিন বলেছেন, সরকার চাইছে দেশের লাখ লাখ কৃষককে দেশের কয়েকটি শিল্পপতি পরিবারের গোলাম বানাতে। আমাদের সংগ্রাম সরকারের সেই ইচ্ছে পূরণ হতে দেবে না।

অপরদিকে, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল ঘোষণা করেছেন আন্দোলনকারী কৃষকদের সমর্থনে তিনি সোমবার অনশনে বসবেন। তিনি অন্যদেরও অনশন করার পরামর্শ দেন। তিনি এ দিন বলেন, বিজেপি নেতারা এবং কিছু কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বারবার বলছেন, কৃষকরা নাকি দেশদ্রোহী। আমি বিজেপি নেতাদের প্রশ্ন করতে চাই হাজার হাজার অবসরপ্রাপ্ত সেনা যাঁরা কৃষকদের সমর্থন করেছেন, তাঁরাও কি সবাই দেশদ্রোহী? খেলজগতের তারকারাও কৃষকদের সমর্থনে তাঁদের মেডেল ফেরত দিচ্ছেন, তাঁরাও কি দেশদ্রোহী? বিকেলে খবর পাওয়া গেছে যে বিভিন্ন কৃষক সংগঠনের শীর্ষনেতারাও সোমবার ৯ ঘণ্টার অনশনে বসবেন। এই অনশন শুরু হবে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। এ কথা রবিবার ঘোষণা করেছেন কৃষক নেতা গুরনাম সিং চাদুনি। আন্দোলনকারী কৃষকদের সমর্থন করতে এ দিন চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়েছেন পঞ্জাবের ডিআইজি পুলিশ (প্রিজম) লক্ষ্মীন্দর সিং জাকার। পাশাপাশি, তিনি তাঁর তিন মাসের বেতন কৃষক সংগঠনগুলিকে দান করেছেন।

এ দিকে টিকরি-বাহাদুরগড়ে কৃষকদের আন্দোলনের কারণে বিশাল ক্ষতি হচ্ছে তাঁদের বলে আক্ষেপ করেছেন ফ্রেক কেরিয়ার সংস্থা এবং স্থানীয় কারখানার মালিকরা। আন্দোলনের ফলে ট্র্যাফিক জ্যাম হচ্ছে, দিল্লি থেকে অন্যান্য গন্তব্যে মাল পৌঁছতে পারছে না। তাঁদের অন্য রাজ্যে মাল পৌঁছে দেওয়ার জন্য বিকল্প পথ দিয়ে যেতে হচ্ছে ফলে পরিবহণ খরচ বেড়েছে। অনেক পরিবহণ মালিকরা মাল পরিবহণ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছেন। পঞ্জাব-হরিয়ানা হাইওয়ে অবরুদ্ধ থাকার ফলে ওই অঞ্চলে মাল পাঠানো কিংবা সেখান থেকে মাল আনা যাচ্ছে না। টিকরি-বাহাদুরগড় এলাকার শিল্পপতিরা জানিয়েছেন, দিল্লি-রোহতাক রোডে আন্দোলনকারী কৃষকরা বসে থাকায় তারা কাঁচা মাল আনতে পারছেন না। তাঁদের তৈরি মালও তারা বিক্রি করতে পারছেন না। ফলে লাখ লাখ টাকার লোকসান হচ্ছে প্রতিদিন।

এ দিন কৃষকরা ট্যাক্টর মার্চ করে পৌঁছে গেছেন জয়সিংপুর, খেরার নিকট হরিয়ানা সীমান্তে। তাঁরা পথ ধরেছিলেন বেহয়োর, কোতপুতলি এবং রাজস্থানের শাহজাহানপুর।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only