সোমবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২০

আন্দোলনে কৃষকরা , প্রধানমন্ত্রী বলছেন কৃষিতে চাই কর্পোরেট পুঁজি!



পুবের কলম প্রতিবেদকঃ­ কেন্দ্রের কৃষি আইনের বিরুদ্ধে জোরদার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন কৃষকরা। তাঁদের যে বিষয়ে সবথেকে বড় আপত্তি তা হল, কৃষিতে কর্পোরেট জায়ান্টদের অবাধ প্রবেশ। কৃষকদের অভিযোগ, এর ফলে ক্ষুদ্র কৃষক ও ব্যবসায়ীরা ধ্বংস হয়ে যাবে। লাভবান হবে বড়বড় কর্পোরেট সংস্থাগুলি। এই পরিস্থিতিতেও প্রধানমন্ত্রীর মুখে কৃষিতে কর্পোরেট অন্তর্ভুক্তির কথা। যা দেখে অবাক বিশেষজ্ঞ মহল। তাঁদের বক্তব্য, কৃষকরা কেন্দ্রীয় কৃষি আইনের যে ইস্যুগুলির বিরুদ্ধে সবথেকে বেশি সরব হচ্ছেন, প্রধানমন্ত্রীর মুখে সেই ইস্যুগুলির ঢালাও প্রশংসা শোনা যাচ্ছে। আসলে কৃষকদের এই আন্দোলন নিয়ে কোনও হেলদোল নেই প্রধানমন্ত্রীর। আসলে সংসদে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতার মোহে প্রধানমন্ত্রী দেশের অন্নদাতাদের কণ্ঠ শুনতে পাচ্ছেন না। শুধু তাই নয়, কৃষকরা লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে গেলে প্রধানমন্ত্রীও নাগাড়ে কেন্দ্রীয় কৃষি আইনের প্রশংসা করে গিয়েছেন। শনিবারও প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, নয়া কৃষি আইনে কৃষকদের স্বার্থ সুরক্ষিত। কৃষকদের উপার্জন বাড়বে এই আইনের ফলে। কৃষিক্ষেত্রে কর্পোরেট সংস্থাগুলির অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি বলেও মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। তবে ফ্যাশন সহ নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রের মধ্যেই বড়বড় কর্পোরেট সংস্থাগুলি কাজ করতে ব্যস্ত। কৃষিক্ষেত্রে তারা সেভাবে এখনও বিনিয়োগ করেনি বলেও আক্ষেপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। হিমঘর ও সার ক্ষেত্রে কর্পোরেট সেক্টরগুলির অংশগ্রহণ প্রত্যাশামতো নয় বলেও আক্ষেপ প্রকাশ করেন তিনি। এফআইসিসিআইয়ের বাৎসরিক সম্মেলন সভায় প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, কৃষিক্ষেত্রে অতীতে ‘কর-সন্ত্রাস’ ও ‘ইন্সপেক্টর রাজ’ বাড়বাড়ন্ত ছিল। নতুন আইন সেগুলি আর মাথাচাড়া দিতে পারবে না। ফলে লাভবান হবে কৃষকরা। উল্লেখ্য, কৃষকরা যখন কৃষিক্ষেত্রে এই কর্পোরেট অংশগ্রহণের বিরোধিতা করছে সেখানে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী যেভাবে ‘কর্পোরেট-প্রীতি’ দেখাচ্ছেন তাতে বিরোধীদের প্রশ্ন, প্রধানমন্ত্রী কি সত্যিই কৃষকদের প্রতি আন্তরিক?   

 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only