বৃহস্পতিবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২০

মেদিনীপুরের সব আসনে জিতব , শুভেন্দুর গড়ে দাঁড়িয়ে হুঁশিয়ারি তৃণমূলের



পুবের কলম প্রতিবেদক,কাঁথিঃ বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। আর তারপরই এই প্রথম মেদিনীপুরে সভা করল তৃণমূল কংগ্রেস। মেদিনীপুরকে বলা হয়ে থাকে অধিকারী পরিবারের ‘গড়’। সেই গড়েই বুধবার প্রথমে মিছিল, তারপর প্রকাশ্য জনসভা করল তৃণমূল। জনসভায় তৃণমূল নেতৃত্ব সাফ জানালেন, মেদিনীপুরের সবক’টি বিধানসভা আসনই জিতবেন তাঁরা। শুভেন্দু দলে না থাকা কোনও ফ্যাক্টর হবে না। অর্থাৎ স্পষ্ট হল, মেদিনীপুরে বিনাযুদ্ধে সূচ্যগ্র মাটি ছাড়বে না তৃণমূল। এতদিন মেদিনীপুরে তৃণমূলের দায়িত্বে ছিলেন শুভেন্দু। তিনি দল ছাড়ার পর এবার মেদিনীপুরে তৃণমূলের জমি ধরে রাখতে ঝাঁপালেন সৌগত রায়, ফিরহাদ হাকিমরা। বুধবার কাঁথিতে জনসভা করে তাঁরা জানিয়ে দিলেন, মেদিনীপুরেও মুখ সেই তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই। কারণ, নন্দীগ্রাম আন্দোলনের অন্যতম নেত্রীকে মেদিনীপুরবাসী কখনও ভুলবেন না।

এ দিনের কাঁথির ডরমেটরি সংলগ্ন মাঠে জনসভা থেকে বিজেপির পাশাপাশি শুভেন্দুকেও তীব্র কটাক্ষে বিদ্ধ করলেন তৃণমূল নেতৃত্ব। কলকাতা পুরসভার মেয়র তথা রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম একইসঙ্গে বিজেপি ও শুভেন্দুকে নিশানা করে বলেন, ‘আমরা কংগ্রেস করার মধ্য দিয়েই রাজনৈতিক জীবন শুরু করেছি। কংগ্রেসের হয়ে গান্ধিবাদ জিন্দাবাদ,সুভাষবাদ জিন্দাবাদ স্লোগান দিয়ে বড় হয়েছি। আমি,সৌগতদা,অখিল কিংবা মঞ্চে থাকা অন্যান্য নেতা প্রথমজীবনে কংগ্রেস ও পরে তৃণমূল কংগ্রেস করেিছ। শুভেন্দুও তাই। কিন্তু,কংগ্রেস নেতৃত্ব সিপিএমের বিরুদ্ধে লড়াই করছিলেন না। তাই মমতার নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস গড়ে তোলা হয়। আজও তৃণমূল গান্ধিবাদ জিন্দাবাদ, সুভাষবাদ জিন্দাবাদ স্লোগানে বিশ্বাসী। আজ এই বয়সে এসে নাথুরাম জিন্দাবাদ বলার থেকে আমার যেন মৃত্যু হয়। আর সেই শুভেন্দুর এমন ভোল বদল কীসের স্বার্থে? শুধুই কি ধান্দাবাজি?’ ফিরহাদের কটাক্ষ, ‘সেদিন ওই ডাকাত সর্দারের (অমিত শা) পা ধরে বলল (পড়ুন শুভেন্দু বলল), আমার সব কু-কর্মগুলো সরিয়ে নাও! লজ্জা লাগে! শাহের পা ধরার থেকে মরে যাওয়া ভালো।’ এরপরেই অমিত শাহ ও দিলীপ ঘোষদের উদ্দেশ্যে তাঁর প্রশ্ন, তৃণমূেল থাকলে চোর আর বিজেপিতে চলে এলে সাধু! কোন গেরুয়া ওয়াশিংমেশিনে ঢুকলে সাধু হওয়া যায়?’ এবার সরাসরি শুভেন্দুকে নিশানা করে ফিরহাদ বলেন, ‘শুভেন্দুবাবু লজ্জা করে না, এমন একটা দলে ঠাঁই নিলেন যারা কৃষকদের ঠকিয়েছে। লজ্জা করে না শুভেন্দুবাবু। আপনি আবার বলেন, কৃষক আন্দোলন করেছি। এই তার নমুনা?’ শুভেন্দুর ফিট নয়, সিঁড়ি বেয়ে উপরে ওঠার দাবি খণ্ডন করে ফিরহাদ পালটা বলেন, ‘আপনি (শুভেন্দু) মমতা ব্যানার্জির স্নেহের সুযোগ নিয়ে লিফটে চড়েই রাজনীতিতে বড় নেতা হয়েছেন। শিশির অধিকারী পরিবারে না জন্মালে এত সহজে রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠা পেতেন?’ এরপরই পুরমন্ত্রী নিজের প্রসঙ্গ টেনে সটান জানিয়ে দেন, তাঁর বাবা-কাকা কেউ রাজনীতি করেননি। তিনি একাই রাজীনিতর ময়দানে এসেছেন। তিনি নিজে লড়াই করে তৃণমূলে প্রতিষ্ঠা অর্জন করেছেন। তিনি সিঁড়ি বেয়ে আজ এই জায়গায় এসে পৌঁছেছেন। বিজেপির পরিবারতন্ত্র মন্তব্যের পালটা ফিরহাদ বলেন, ‘আপনি (শুভেন্দু) শিশির অধিকারীর ছেলে না হলে ২০০১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে মুগবেড়িয়ায় কিরন্ময় নন্দের বিরুদ্ধে মনোনয়ন পেতেন? ২০০৪ সালে বয়স কম হওয়া সত্ত্বেও তমলুক লোকসভা আসনে লক্ষণ শেঠের বিরুদ্ধে নির্বাচনে দাঁড়ানোর মনোনয়ন পেতেন?’ এরপরই ফিরহাদ স্মরণ করিয়ে দেন, ‘মনে রাখবেন বহু আন্দোলনের নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নন্দীগ্রাম, সিঙ্গুরের কৃষিজমি রক্ষা থেকে মানুষের জীবন-জীবিকা বাঁচানোর সংগ্রামের নেত্রী মমতা। পুঁজিপতিদের হাত শক্ত করতে গিয়ে আসলে শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের সাধারণ মানুষকে ধোঁকা দিয়েছেন বলেও এ দিনের সভা থেকে অভিযোগ করেন ফিরহাদ। 

তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় আবার শুভেন্দুর প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে ‘ইঁদুরের গল্প’ শোনান। সৌগত বলেন, একজন মুনি দৈব বলে একটি নেংটি ইঁদুরকে বাঘ বানিয়েছিলেন। পরে সেই বাঘ মুনিকে গিলতে আসলে ফের ওই মুনি তাকে ইঁদুর করে দিয়েছিলেন। অর্থাৎ, তিনি বলতে চেয়েছেন, মমতার হাত ধরেই রাজনীতির ময়দানে ইঁদুর থেকে বাঘ হয়েছেন শুভেন্দু। আর এখন তিনি (শুভেন্দু) মমতাকেই গিলতে চাইলে মুনির মতো মমতাও তাঁকে ফের ইঁদুর বানিয়ে দেবেন। শুভেন্দুর পাশাপাশি বিজেপিকেও তীব্র আক্রমণ করেন সৌগত রায়। বলেন,দেশের সমস্ত কিছু পুঁজিপতিদের কাছে বেচে দিচ্ছে মোদি সরকার। তাঁর কটাক্ষ, ‘একদিন দেখবেন রেল হবে আম্বানি এক্সপ্রেস- টাটা এক্সপ্রেস। খুব খারাপ লাগছে এই পুঁজিপতিদের কাছে নিজের ক্ষুদ্র স্বার্থের জন্যে মাথা ঝুঁকিয়ে দিল শুভেন্দু।’ জনসভায় উপস্থিত হাজার হাজার দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে সৌগত বলেন, আপনারা প্রমাণ করে দিয়েছেন কাঁথি কারও পরিবারের জমিদারি নয়। আপনারা প্রমাণ করেছেন মমতার বিকল্প মমতাই। মঞ্চে বসে থাকা শেখ সুফিয়ানকে দেখিয়ে তিনি বলেন, ওরা মমতার নেতৃত্বে সামনে থেকে মৃতু্যভয়কে উপেক্ষা করে বুক চিতিয়ে নন্দীগ্রামের জমি রক্ষার আন্দোলন করেছে। কাঁথির কোনও সরস্বতীর বরপুত্রের নেতৃত্বে কিছু হয়নি। আমি স্পষ্ট বলতে চাই,মমতা না থাকলে, নন্দীগ্রামের আন্দোলনে নেতৃত্ব না দিলে নন্দীগ্রামের জমি রক্ষার আন্দোলন সফল হত না। এ দিনের সভায় সৌগত,ফিরহাদ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাজ্যসভার সাংসদ শান্তনু রায়, বিধায়ক অখিল গিরি,জ্যোতির্ময় কর,যুব তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সহ-সভাপতি সুপ্রকাশ গিরি প্রমুখ।

       


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only