বৃহস্পতিবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২০

ধর্ষণ রুখতে কঠোর আইন আনল পাকিস্তান সরকার , ধর্ষকদের এবার করা হবে নপুংসক

 


রুবাইয়া জুঁই, ১৭ ডিসেম্বরঃধর্ষণ মোকাবেলায় পাকিস্তানে একটি নতুন আইন আনা হয়েছে। যাতে ধর্ষণের মামলাগুলির  দ্রুত বিচার করা হবে এবং অভিযুক্তদের রাসায়নিক ব্যবহার করে নপুংসক করে দেওয়া হবে। মঙ্গলবার পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আরিফ আলভি সে দেশে এই নতুন ধর্ষণ বিরোধী কঠোর আইনে সই করেন। যার আওতায় যৌন অপরাধে জড়িতদের তালিকা প্রস্তুত করা হবে এবং নির্যাতিতার পরিচয় গোপন রাখা হবে। এছাড়া ধর্ষণের মামলাগুলির শুনানির জন্য দেশজুড়ে বিশেষ ফার্স্ট ট্র্যাক আদালত গঠন করা হবে। চার মাসের মধ্যে শুনানি শেষ করে রায় দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান জানিয়েছেন,অ্যান্টি রেপ অর্ডিন্যান্স-২০২০ অনুযায়ী মামলার তদন্ত ও শুনানি করতে হবে। সম্প্রতি লাহোরের কাছে এক মহিলাকে গণধর্ষণ ও নির্যাতনের ঘটনায় পাকিস্তানের মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়েন। এই ঘটনায় সারা দেশ উত্তাল হয়ে ওঠে। লাহোরে প্রকাশ্য রাস্তার ধারে দুই শিশুসন্তানের সামনে তাঁকে ধর্ষণ করা হয়। এরপর পুলিশ জানায়, ধর্ষণে ওই মহিলাও আংশিকভাবে দায়ী। এই ঘটনা আমজনতাকে হতবাক করে দেয়। শুরু হয় দেশজুড়ে বিক্ষোভ। প্রতিবাদ থামাতে সরকার ধর্ষণের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার করে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও তাঁর মন্ত্রিসভা গত মাসে এই নতুন আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে। মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি তাতে সিলমোহর দেন। ধর্ষিতাদের পরিচিতি কোনওভাবে সামনে এলে তা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। মামলার তদন্তে নিযুক্ত পুলিশ আধিকারিক ও সরকারি অফিসাররা গাফিলতি দেখালে তিনবছর পর্যন্ত জেল এবং জরিমানা হতে পারে। মিথ্যা তথ্য দিলে সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী অফিসারদেরও সাজা হবে। প্রধানমন্ত্রী ইমরান এও জানিয়েছেন, স্পেশাল কোর্ট তৈরি করতে একটি বিশেষ ফান্ড গড়া হবে। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার যৌথভাবে এতে অংশ নেবে। এই তদন্তের কাজে স্থানীয়, রাজ্য, কেন্দ্র এমনকী আন্তর্জাতিক এজেন্সির যোগদানও থাকবে বলে জানান তিনি।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only