শনিবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২০

‘দলবিরোধী কাজ কেউ করলে বের করে দিন’ শিশিরকে কড়া বার্তা মমতার



পুবের কলম প্রতিবেদক:­ টার্গেট একুশ, ভোট ময়দানে কোমর বেঁধে ঝাঁপানোর আগেই ঘর সামলাতে উদ্যোগী তৃণমূল নেতৃত্ব। দলের কোনও কোনও নেতা-কর্মীর গলায় বেসুরো সুর। ভোটের কুরুক্ষেত্রে লড়ার আগে অভিমানী নেতা-বিধায়কদের মান ভাঙানোর চেষ্টাতেও যথেষ্ট উদ্যোগী হতে দেখা গিয়েছে তৃৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্বকে। তবে এবার কোনও অনুরোধ বা মান ভাঙানো নয়, সরাসরি দলবিরোধী নেতাকর্মীদের উদ্দেশে কড়া সুর নেত্রীর গলায়। তিনি বলেন, যাঁরা দলবিরোধী কাজ করছে, এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে দল থেকে বের করে দিন। দলবিরোধী কাজ করছে এমন কাউকে ধরে রাখা যাবে না। যাঁরা সাহস করে থাকতে চান, থাকুন। যাদের সাহস হবে না, লুটেরাদের দলে চলে যান। ১ জন চলে গেলে ১ লক্ষ কর্মী তৈরি করব। এ দিনের বৈঠকে তিনি সকলকে আরও একবার মনে করিয়ে দেন, দলে নতুন পুরনো সবারই গুরুত্ব আছে। সবাইকে হাতে হাত মিলিয়ে ভোটের লড়াই করার জন্য প্রস্তুত হতে হবে। যারা গোপনে অন্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন, কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার ভয় পাচ্ছেন, তাদের দল থেকে চলে যাওয়ার নির্দেশই দিলেন নেত্রী।

রাজনৈতিক মহল মনে করছে, শুভেন্দু  অধিকারী দলত্যাগ করছেন ধরে নিয়েই তাঁর সঙ্গে পাকাপাকি বিচ্ছেদের পথেই হাঁটার প্রক্রিয়া শুরু করল রাজ্যের শাসক দল। সেই সঙ্গে যাঁরা শুভেন্দুর সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলছেন এবার তাঁদের বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার বার্তা দিয়েই দিলেন দলনেত্রী। এ দিন বিভিন্ন জেলার সভাপতিদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী কড়া বার্তা দিয়েছেন। মিটিংয়ে উপস্থিত পূর্ব মেদিনীপুরের সভাপতিকে দলনেত্রী নির্দেশ দেন, যাঁরা দল বিরোধী কাজ করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করুন। 

এ দিন তৃণমূলনেত্রী জানিয়ে দেন, নন্দীগ্রাম হোক কী হলদিয়া কাকদ্বীপ হোক কী কোচবিহার, মেদিনীপুর হোক কী মুর্শিদাবাদ, যেখানেই চোখে পড়বে কেউ দলবিরোধী কার্যকলাপ করছে তখনই তাঁর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিন। তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ দিন কারওর নাম না নিলেও এটা বুঝতে কারওর অসুবিধা হয়নি যে দলনেত্রী আদতে নাম না করেই বুঝিয়ে দিলেন যারাই দলে থেকে শুভেন্দুর সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলবেন তাঁদের বিরুদ্ধেই দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগ এনে কড়া পদক্ষেপ নিতে। তৃণমূল নেত্রীর এই পদক্ষেপের দরুন এবার মনে হতে চলেছে যে শুভেন্দুর সঙ্গেই এবার পাকাপাকি বিচ্ছেদের পথে হাঁটা দিচ্ছে তৃণমূল। খুব বড় রকমের কিছু মিরাকেল না ঘটলে এই অবস্থা থেকে ফিরে আসা কোনও পক্ষেরই আর সম্ভব নয়। তৃণমূলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের এবার থেকে শুভেন্দুবিহীন হয়েই কাজ করতে হবে।

তৃণমূল সূত্রের খবর, শুক্রবারের ভার্চুয়াল বৈঠকে মমতা হঠাৎই বলেন, অনেকে তাঁর মৃত্যু কামনা করছে। কারণ, তিনি মারা গেলে তারা তাঁর চেয়ারে (মুখ্যমন্ত্রীর পদে) বসতে পারবে! মমতা নিজেও খানিকটা আবেগতাড়িত হয়েই ওই কথাটি বলেছিলেন বলে বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতা জানিয়েছেন। নেতাদের একাংশ নেত্রীর ওই কথা শুনে বিস্মিতও হন। কিন্তু সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত প্রতিক্রিয়া হয় রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সির। তিনি বৈঠকের মধ্যেই সর্বসমক্ষে ঝরঝর করে কেঁদে ফেলেন। এবং কাঁদতে কাঁদতেই মমতাকে বলতে থাকেন ‘আপনি এমন কথা বলবেন না। আপনি থাকবেন। আপনি আজীবন আমাদের নেত্রী থাকবেন। আমাদের রাস্তা দেখাবেন।’

এ দিকে শুভেন্দু কাণ্ডের জের পড়তে শুরু করে দিয়েছে রাজ্য পুলিশ প্রশাসনের ওপরেও। এ দিনই বদলি করে দেওয়া হয়েছে শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পুলিশ সুপার সুনীল কুমার যাদবকে। তাঁকে শিলিগুড়িতের্ যাফের দায়িত্বে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। জেলার নতুন পুলিশ সুপার হচ্ছেন হাওড়া পুলিশ কমিশনারেটের উত্তর জোনের ডিসি প্রবীণ প্রকাশ। তাঁর জায়গায় আসছেন শিলিগুড়িতের্ যাফের দায়িত্বে থাকা পুলিশ আধিকারিক অনুপম সিং। তবে রাজ্য পুলিশ প্রশাসনের তরফকে একে রুটিন বদলি বলেই জানানো হয়েছে। এ দিকে শিশির অধিকারী ও দিব্যেন্দু অধিকারী এ দিনও জানিয়েছেন, শুভেন্দু অধিকারী যাই করুন না কেন সেটা তাঁর ব্যক্তিগত পদক্ষেপ। তাঁরা তৃণমূলেই থাকছেন। এ দিন তৃণমূলনেত্রী জেলা সভাপতিদের সঙ্গে ভার্চুয়াল যে সভা করেন সেখানে উপস্থিত ছিলেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তৃণমূল সভাপতি শিশির অধিকারীও। দলনেত্রী তাঁকে নির্দেশ দিয়েছেন কাঁথি,খেজুরি,নন্দীগ্রাম ও হলদিয়ায় ব্লক সভাপতিদের পরিবর্তন করে একদম নতুন করে সংগঠন সাজাতে। তাই এসব কিছু দেখেই মনে হচ্ছে শুভেন্দু চ্যাপ্টার এবার পাকাপাকি ভাবেই ক্লোজড হতে চলেছে তৃণমূলে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only