শুক্রবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২০

‘সর্বনাশা’ কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবি, দেশজুড়ে আন্দোলনের হুমকি মমতার



পুবের কলম প্রতিবেদকঃ ‘সর্বনাশা’ কৃষি আইন নিয়ে ক্রমশই ‘রক্তচাপ’ বাড়ছে মোদি সরকারের। একদিকে খোদ দেশের রাজধানী দিল্লির দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছেন হাজার-হাজার ‘বিদ্রোহী’ কৃষক। অন্যদিকে, রাস্তায় নামা অন্নদাতাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে দেশের একাধিক রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন। আন্তর্জাতিক মহলও কৃষি আন্দোলন নিয়ে তীব্র উদ্বেগ জানিয়েছেন। ঘরে-বাইরে চাপের মুখে যখন ল্যাজে-গোবরে দশা মোদি সরকারের তখনই আন্দোলনরত কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়ে দেশজুড়ে আন্দোলনের হুমকি দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু মুখে হুমকি দেওয়া নয়, আন্দোলনের রুপরেখা ঠিক করতে আজ শুক্রবার দলীয় নেতাদের নিয়ে বৈঠকেও বসেছেন। 

বৃহস্পতিবার যেভাবে তৃণমূল সুপ্রিমো কৃষি আইনের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে দেশজুড়ে আন্দোলনের হুমকি দিয়েছেন তাতে কেন্দ্রের শাসকদল বিজেপির শীর্ষনেতৃত্বের অস্বস্তি বাড়বে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। তাঁদের মতে, গ্রাম-বাংলার প্রান্তিক চাষিদের হাতেই রয়েছে সরকার গঠনের চাবিকাঠি। আর কৃষি আইনের বিরোধিতায় সুর চড়িয়ে রাজ্যের কৃষকদের কাছে ‘আমি তোমাদেরই লোক’ বার্তা দিতে অনেকটা সফল হবেন তৃণমূল সুপ্রিমো। 

গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে আর ছলে-বলে-কৌশলে সংসদের দুই কক্ষে ‘সর্বনাশা’ তিন কৃষি বিল পাস করিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু ওই আইন যে স্বখ্যাত সলিল হয়ে উঠবে তা বুঝতে পারেননি সরকারের শীর্ষনেতারা। ক্ষুব্ধ কৃষকদের মানভঞ্জনে অবশ্য লাগাতার চেষ্টা চালাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহরা। প্রধানমন্ত্রী লাগাতার বলে চলেছেন, ‘কৃষকদের কল্যাণের কথা ভেবে, যথেষ্ট ভাবনাচিন্তা করেই কৃষি আইনে সংশোধন ঘটানো হয়েছে। এই সংশোধনের ফলে কৃষকরা শুধু শিকলমুক্তই হননি, তাঁদের হাতে নতুন অধিকার ও নানা ধরনের সুযোগ সুবিধা পৌঁছেছে।’ কিন্তু নমোর ভাষণে বিদ্রোহী কৃষকদের মন গলেনি। উলটে সরকারকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দিল্লির সীমান্তে পৌঁছে গিয়েছেন ৬ রাজ্যের ক্ষুব্ধ কৃষকরা।

সংসদে কৃষি আইন সংশোধনী বিল পেশের সময়েই সবার প্রথমে সরব হয়েছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘সর্বনাশা’ কৃষি আইন নিয়ে যখন গোটা দেশ উত্তাল সেই মুহূর্তে টুইট করে সে কথা ফের একবার স্মরণও করিয়ে দিয়েছেন তিনি। টু্ইটে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, ‘আমি কৃষকদের জীবন এবং জীবিকা নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন। কৃষক বিরোধী এই আইনগুলি কেন্দ্রীয় সরকারের প্রত্যাহারের করা উচিত। অবিলম্বে তারা তা না করলে আমরা গোটা রাজ্য এবং দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু করব। শুরু থেকেই কৃষি বিরোধী এই বিলগুলি নিয়ে আমরা নিজেদের আপত্তি জানিয়ে এসেছি।’ 

শুধু কৃষি আইন নিয়ে নয়, মোদি সরকারের নয়া অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন নিয়েও এ দিন ফের সরব হয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। গত মাস কয়েক ধরে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের বিশেষ করে আলু-পেঁয়াজের আকাশছোঁয়া দামের জন্য কেন্দ্রের নয়া আইনকেই কাঠগড়ায় তুলেছেন। মমতার অভিযোগ, ‘মোদি সরকারের প্রণীত নয়া আইনের ফলেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য গগনচুম্বী’।  গত সেপ্টেম্বর মাসেই অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইনের সংশোধনের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছিলেন তিনি। নয়া আইনে আপত্তি জানিয়ে বলেছিলেন, ‘আলু-পেঁয়াজ-ভোজ্য তেলকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য তালিকার বাইরে নিয়ে যাওয়ার জন্য মজুতদার আর ফড়েদের সুবিধা হবে। কালোবাজারি আর মজুতদারি বাড়বে। ফলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়বে।’   

তৃণমূল কংগ্রেস যে মানুষের ভোগান্তি আর দুর্দশা দেখে চোখ বুঝে থাকবে না, তাও এদিন স্পষ্টভাষায় জানিয়েছেন মমতা। মানুষের স্বার্থে রাজপথে নেমে কীভাবে আন্দোলন করা যায়, তা নিয়ে আজ শুক্রবার বিশেষ বৈঠকে বসার কথা জানিয়ে  তৃণমূল সুপ্রিমো টুইটে লিখেছেন, ‘৪ ডিসেম্বর আমরা তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে একটা বৈঠক ডেকেছি। যেখানে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন নিয়ে আলোচনা হবে। কীভাবে এই অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইনের ফলে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে ও জিনিসপত্রের দাম আকাশছোঁয়া হচ্ছে, তা নিয়ে আলোচনা করা হবে বৈঠকে। জনস্বার্থ বিরোধী এই আইন কেন্দ্রের অবশ্যই প্রত্যাহার করা উচিত।’

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only